ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

ফিলিস্তিনের ইব্রাহিমি মসজিদে ৫ দিনের জন্য আজান বন্ধ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১০:২৩:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • ৮ বার দেখা হয়েছে

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেব্রন শহরের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদে টানা পাঁচ দিনের মতো আজান দেওয়া নিষিদ্ধ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ওই এলাকায় ফিলিস্তিনিদের উপস্থিতি মুছে ফেলার অংশ হিসেবে ইসরায়েল এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

একই সঙ্গে মসজিদটির পরিচালক শায়খ মুতাজ আবু স্নেইনাহ এবং প্রধান তত্ত্বাবধায়ক হাম্মাম আবু মুরখিয়াকে ১২ দিনের জন্য মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। একটি ফিলিস্তিনি সূত্র সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছে, গত রোববার থেকে সেখানে আজান দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করেছে, মসজিদের কেন্দ্রীয় চত্বরের ওপর একটি ছাদ তৈরির রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ফিলিস্তিনি সূত্রটি বলছে, মসজিদে নামাজ হলেও আজান দিতে দেওয়া হচ্ছে না। আজান দেওয়ার কক্ষটি মসজিদের ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত অংশে অবস্থিত হওয়ায় মুয়াজ্জিনকে সেখানে ঢুকতে দিচ্ছে না সেনারা।

১৯৯৪ সালে এক উগ্রপন্থি ইসরায়েলি সেটলার ইব্রাহিমি মসজিদে ঢুকে ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২৯ জনকে হত্যা করে। ওই গণহত্যার পর ইসরায়েল মসজিদটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করে দেয়। এর প্রায় ৬০ শতাংশ অংশ ইহুদিদের এবং বাকি অংশ মুসলিমদের ইবাদতের জন্য বরাদ্দ করা হয়। তখন থেকেই মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদি—তিন ধর্মের মানুষের কাছে পবিত্র ও ঐতিহাসিক এই স্থানটির নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে নিতে শুরু করে ইসরায়েল।

ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই বিধিনিষেধ আরও কঠোর হয়েছে। মুসল্লিদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা, ইমাম ও স্টাফদের বহিষ্কার এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাত থেকে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা এখন নিয়মিত ঘটছে। ১৯৬৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে হেব্রন শহর দখল করে রেখেছে ইসরায়েল।

ফিলিস্তিনের ওয়াকফ ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের এই দমনমূলক ও স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মসজিদ পরিচালকদের বহিষ্কারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা জানায়, এটি মসজিদের বৈধ ধর্মীয় ও প্রশাসনিক নেতৃত্বকে ধ্বংস করার একটি সুপরিকল্পিত ও নিয়মতান্ত্রিক চক্রান্ত।

হেব্রন ডিফেন্স কমিটির সমন্বয়কারী হিশাম শরাবতী জানান, আজান নিষিদ্ধ করার এই নীতি নতুন কিছু নয়। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকেই ইহুদিদের বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব ও শনিবারে এখানে আজান বন্ধ রাখা হতো। কোনো কোনো মাসে ৭০ থেকে ৯০ বার পর্যন্ত আজান দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তবে ২০২২ সালের শেষের দিকে ইসরায়েলের বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

শরাবতী আরও বলেন, করোনা মহামারির সময় স্বাস্থ্যের অজুহাতে এবং পরে গাজা যুদ্ধের সময় নিরাপত্তার অজুহাতে ফিলিস্তিনিদের মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি মসজিদের একমাত্র প্রবেশদ্বারে তল্লাশির নামে সাধারণ তরুণ ও নারীদের কোনো কারণ ছাড়াই ফিরিয়ে দিচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা।

কিশোরগঞ্জে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলল ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা

ফিলিস্তিনের ইব্রাহিমি মসজিদে ৫ দিনের জন্য আজান বন্ধ

প্রকাশিত : ১০:২৩:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেব্রন শহরের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদে টানা পাঁচ দিনের মতো আজান দেওয়া নিষিদ্ধ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ওই এলাকায় ফিলিস্তিনিদের উপস্থিতি মুছে ফেলার অংশ হিসেবে ইসরায়েল এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

একই সঙ্গে মসজিদটির পরিচালক শায়খ মুতাজ আবু স্নেইনাহ এবং প্রধান তত্ত্বাবধায়ক হাম্মাম আবু মুরখিয়াকে ১২ দিনের জন্য মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। একটি ফিলিস্তিনি সূত্র সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছে, গত রোববার থেকে সেখানে আজান দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করেছে, মসজিদের কেন্দ্রীয় চত্বরের ওপর একটি ছাদ তৈরির রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ফিলিস্তিনি সূত্রটি বলছে, মসজিদে নামাজ হলেও আজান দিতে দেওয়া হচ্ছে না। আজান দেওয়ার কক্ষটি মসজিদের ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত অংশে অবস্থিত হওয়ায় মুয়াজ্জিনকে সেখানে ঢুকতে দিচ্ছে না সেনারা।

১৯৯৪ সালে এক উগ্রপন্থি ইসরায়েলি সেটলার ইব্রাহিমি মসজিদে ঢুকে ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২৯ জনকে হত্যা করে। ওই গণহত্যার পর ইসরায়েল মসজিদটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করে দেয়। এর প্রায় ৬০ শতাংশ অংশ ইহুদিদের এবং বাকি অংশ মুসলিমদের ইবাদতের জন্য বরাদ্দ করা হয়। তখন থেকেই মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদি—তিন ধর্মের মানুষের কাছে পবিত্র ও ঐতিহাসিক এই স্থানটির নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে নিতে শুরু করে ইসরায়েল।

ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই বিধিনিষেধ আরও কঠোর হয়েছে। মুসল্লিদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা, ইমাম ও স্টাফদের বহিষ্কার এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাত থেকে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা এখন নিয়মিত ঘটছে। ১৯৬৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে হেব্রন শহর দখল করে রেখেছে ইসরায়েল।

ফিলিস্তিনের ওয়াকফ ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের এই দমনমূলক ও স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মসজিদ পরিচালকদের বহিষ্কারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা জানায়, এটি মসজিদের বৈধ ধর্মীয় ও প্রশাসনিক নেতৃত্বকে ধ্বংস করার একটি সুপরিকল্পিত ও নিয়মতান্ত্রিক চক্রান্ত।

হেব্রন ডিফেন্স কমিটির সমন্বয়কারী হিশাম শরাবতী জানান, আজান নিষিদ্ধ করার এই নীতি নতুন কিছু নয়। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকেই ইহুদিদের বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব ও শনিবারে এখানে আজান বন্ধ রাখা হতো। কোনো কোনো মাসে ৭০ থেকে ৯০ বার পর্যন্ত আজান দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তবে ২০২২ সালের শেষের দিকে ইসরায়েলের বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

শরাবতী আরও বলেন, করোনা মহামারির সময় স্বাস্থ্যের অজুহাতে এবং পরে গাজা যুদ্ধের সময় নিরাপত্তার অজুহাতে ফিলিস্তিনিদের মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি মসজিদের একমাত্র প্রবেশদ্বারে তল্লাশির নামে সাধারণ তরুণ ও নারীদের কোনো কারণ ছাড়াই ফিরিয়ে দিচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা।