বরিশাল প্রতিনিধি: দক্ষিণাঞ্চলের হাজারো ডায়াবেটিস রোগীর চিকিৎসার অন্যতম ভরসাস্থল বরিশাল নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত অ্যাডভোকেট হেমায়েত উদ্দিন ডায়াবেটিকস হাসপাতাল। কিন্তু হাসপাতালের সামনের সড়কের বেহাল অবস্থা এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা রোগী ও সাধারণ মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে অসুস্থ রোগী, বয়স্ক মানুষ এবং তাদের স্বজনদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাদা-পানি মাড়িয়ে হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটে। হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় রিকশা, অ্যাম্বুলেন্স এমনকি পথচারীদের চলাচলও ব্যাহত হয়। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় অনেকেই জুতা হাতে নিয়ে নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হন।
এলাকার বাসিন্দা মো. বশির চৌধুরী বলেন, “বরিশালের একমাত্র বিশেষায়িত ডায়াবেটিস হাসপাতাল হওয়ায় প্রতিদিন দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। অথচ হাসপাতালের সামনের সড়কটি বছরের পর বছর অবহেলিত। বর্ষা এলেই কাদা, ময়লা-আবর্জনা ও জলাবদ্ধতায় পুরো এলাকা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, সড়কটির পাশে একটি অভিজাত রেস্টুরেন্ট এবং অসংখ্য আবাসিক ভবন থাকলেও ড্রেনেজ সংকটের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
ডায়াবেটিকস হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী কাজী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “আমি প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত চেকআপের জন্য এখানে আসি। কিন্তু সড়কের এমন করুণ অবস্থার কারণে হাসপাতালে আসা-যাওয়াই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও শারীরিকভাবে দুর্বল রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয়দের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে এমন জলাবদ্ধতা শুধু জনদুর্ভোগই নয়, নগর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতারও প্রতিচ্ছবি। তারা দ্রুত সড়কটি সংস্কার, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ এবং স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন প্রশাসনের জরুরি উদ্যোগ কামনা করেছেন।
সচেতন মহলের ভাষ্য, একটি আঞ্চলিক বিশেষায়িত হাসপাতালের সামনে বছরের পর বছর এমন অবস্থা চলতে পারে না। রোগীদের নির্বিঘ্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















