ঢাকা ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

গাইবান্ধায় নদীগর্ভে বিলীন শতাধিক বসতভিটা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১২:১৪:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে

গাইবান্ধার প্রধান চারটি নদ-নদীর মধ্যে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীতে বাড়ছে পানি এবং কমছে করতোয়ায়। পানি বৃদ্ধি-হ্রাসের এই দোলাচলে ভাঙছে সুন্দরগঞ্জ, সদর, গোবিন্দগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ির উপজেলার নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের অনেক এলাকা। এরমধ্যে সুন্দরগঞ্জের তিস্তায় গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে আকস্মিক ভাঙনে কয়েক ঘণ্টায় বিলীন হয়েছে শতাধিক পরিবারের বসতভিটা ও আবাদি জমি।

গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) শনিবারের (১৮ জুলাই) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী,শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে আজ শনিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত গেল ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১০৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অন্যদিকে করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জের চকরহিমাপুর স্টেশন পয়েন্টে ৩৪ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ১৪৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চলমান বন্যার মৌসুমে গাইবান্ধায় কোনো নদ-নদীর পানিই এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

পাউবোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৪ জুলাই তিস্তার পানি এ বছরের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছে বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপর পানি দ্রুত কমলেও গত বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) দুপুর থেকে আবার পানি বাড়তে শুরু করে। এই পানি বৃদ্ধি-হ্রাসের মধ্যেই সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লালচামার (ভোরের পাখি) এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লাল চামারে আকস্মিক ভাঙনের তাণ্ডব চালায় রাক্ষুসে তিস্তা। এদিন অল্প সময়ের ব্যবধানে অন্তত ১০০ এর কাছাকাছি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়। আজ তা শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। অনেকেই ঘর-দরজা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এছাড়া ভাঙন হচ্ছে এই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডেও।

কাপাসিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য হাবিজার রহমান জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে কিছু সময়ের মধ্যেই আকস্মিক ভাঙনে নদীতে বিলীন হয় অর্ধশতাধিক পরিবারের বসতভিটা। এখন বসতভিটা হারানো পরিবারের সংখ্যা ১০০-এর বেশি হবে। মুহূর্তের ভাঙনে সব শেষ হয়ে যায়। ভাঙনের সময় চরম বিপদের সম্মুখীন হয়েছে এখানকার মানুষ। এখনো অনেক পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে পারেনি। অনেকে ঘর খুলতেছেন।

তিনি জানান, সরাসরি ভাঙনের মুখে রয়েছে ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ ও আরো অন্তত ২০টি পরিবার। মসজিদের একাংশ খোলা হয়েছে। যেকোনো সময় ভাঙতে পারে। এই ভাঙন গত দুই মাস ধরে চলছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার মারাত্মকভাবে নদী ভাঙন শুরু হয়। ইতোমধ্যে এখানকার ২০ বিঘা ফসলি জমি বিলীন হয়েছে নদীতে।

এসময় তিনি আরও বলেন, বসতভিটা হারানো পরিবারগুলোর জন্য জরুরি সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত এখানে কেউই খোঁজ নিতে এলো না। বিদ্যুৎ বন্ধ রয়েছে এখানে।

ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, কোল করে করে নদী ভাঙছে। উত্তর-দক্ষিণে নদী কিন্তু ভাঙছে পশ্চিমে। এই ওয়ার্ডের লালচামারে ২৭টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে এবং ভাঙনের ঝুঁকির মুখে থাকা ১৪টি পরিবার সম্প্রতি বাড়িঘর সরিয়ে নিয়েছে।

তিনি বলেন, ৩ নম্বর ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভাঙন এলাকাটা কাছাকাছি লাগোয়া। এখানে জিও ব্যাগ ফেলানো হচ্ছে, কিন্তু অনেক কম। ভাঙনের এখানে এত কম ফেলানোর কারণে তা কাজে আসছে না। কিনারার শুরু থেকে বেঁধে আসলে কাজে লাগবে। কিন্তু মাঝখানে অল্প কিছুসংখ্যক ফেলানো হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধির ফলে নদী জেলার সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জে উপজেলায় প্রায় ৩০টি পয়েন্টে ভাঙনের ফলে নদী তীরবর্তী অন্তত আট শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদী পাড়ের বহু মানুষ।

ভাঙন কবলিত এসব এলাকার মধ্যে কাপাশিয়া ছাড়াও সুন্দরগঞ্জের কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালির খামার গ্রামের শখের বাজার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী, রাঘব, চন্ডিপুর ইউনিয়নের উত্তর সীচা, কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার, কেরানির চর, মিন্টু মিয়ার চর ও বাদামের চর।

অন্যদিকে, সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়নের সিধাইল ও ফুলছড়ি উপজেলার ভাঙন কবলিত এলাকার মধ্যে রয়েছে। কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসীঘাট, দক্ষিণ রসুলপুর; উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর; ফজলুপুর ইউনিয়নের মধ্য ও দক্ষিণ, খাটিয়ামারীর চর ও চর চৌমোহন।

এদিকে, নতুন করে ভাঙনের কবলে পড়েছে ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্রের তীরবর্তী ভূষির ভিটা গ্রাম। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুলাই রাতে হঠাৎ জিও ব্যাগ ধসে পড়ে ভাঙন দেখা দেয়। সেখানে তিন স্থানে এক জায়গায় প্রায় ৫০ মিটার, আরেক জায়গায় ৩০ মিটার এবং আরেক স্থানে ২০ মিটার মিটার করে দেবে যায়। এই ধসে যাওয়া তিন স্থানের দুটি সরাসরি সাধারণ মানুষের বসবাসের এলাকা।

এছাড়াও নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে গোবিন্দগঞ্জের করতোয়ার তীরবর্তী কয়েকটি এলাকায়।

ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উপজেলার ভাঙনের কবলে পড়া প্রত্যেকটি এলাকা সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুসারে পাউবোকে অবহিত করে দ্রুতভাবে কাজ করতে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।

ভাঙনের শিকার হয়ে ভিটেমাটি হারানো পরিবারগুলোর ব্যাপারে কী ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে বা হবে জানতে চেয়ে একাধিকবার কল করা হলেও ফোন রিসিভি করেননি সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলি। পরে তাকে খুদেবার্তা এবং শেষে হোয়াটসঅ্যাপ নক করেও পাওয়া যায়নি।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়ার ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডসহ নদী ভাঙনের কবলে পড়া ১৩/১৪ টি পয়েন্টে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি কাজ চলমান রয়েছে।

এছাড়া নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় ফুলছড়ি উপজেলার ভূষির ভিটা এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করা হয়েছে। সেখানে প্রাথমিকভাবে ৫০০০ জিও ব্যাগ ফেলানো হচ্ছে। ভাঙনের অন্যান্য পয়েন্টগুলোতেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করা হবে।

প্রসঙ্গত, আগামী ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার কয়েকটি জেলায় নদীর পানি সতর্ক সীমা ছুঁতে পারে বলেও জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

শনিবার (১৮ জুলাই) কেন্দ্রটির সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিনের স্বাক্ষর করা প্রধান অববাহিকা ও জোনভিত্তিক নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী ৫ দিন ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে। পানি বৃদ্ধির ফলে ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু স্থানে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সতর্ক সীমায় পৌঁছাতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও বন্যা হতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

গাইবান্ধায় নদীগর্ভে বিলীন শতাধিক বসতভিটা

গাইবান্ধায় নদীগর্ভে বিলীন শতাধিক বসতভিটা

প্রকাশিত : ১২:১৪:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

গাইবান্ধার প্রধান চারটি নদ-নদীর মধ্যে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীতে বাড়ছে পানি এবং কমছে করতোয়ায়। পানি বৃদ্ধি-হ্রাসের এই দোলাচলে ভাঙছে সুন্দরগঞ্জ, সদর, গোবিন্দগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ির উপজেলার নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের অনেক এলাকা। এরমধ্যে সুন্দরগঞ্জের তিস্তায় গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে আকস্মিক ভাঙনে কয়েক ঘণ্টায় বিলীন হয়েছে শতাধিক পরিবারের বসতভিটা ও আবাদি জমি।

গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) শনিবারের (১৮ জুলাই) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী,শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে আজ শনিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত গেল ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১০৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অন্যদিকে করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জের চকরহিমাপুর স্টেশন পয়েন্টে ৩৪ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ১৪৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চলমান বন্যার মৌসুমে গাইবান্ধায় কোনো নদ-নদীর পানিই এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

পাউবোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৪ জুলাই তিস্তার পানি এ বছরের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছে বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপর পানি দ্রুত কমলেও গত বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) দুপুর থেকে আবার পানি বাড়তে শুরু করে। এই পানি বৃদ্ধি-হ্রাসের মধ্যেই সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লালচামার (ভোরের পাখি) এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লাল চামারে আকস্মিক ভাঙনের তাণ্ডব চালায় রাক্ষুসে তিস্তা। এদিন অল্প সময়ের ব্যবধানে অন্তত ১০০ এর কাছাকাছি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়। আজ তা শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। অনেকেই ঘর-দরজা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এছাড়া ভাঙন হচ্ছে এই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডেও।

কাপাসিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য হাবিজার রহমান জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে কিছু সময়ের মধ্যেই আকস্মিক ভাঙনে নদীতে বিলীন হয় অর্ধশতাধিক পরিবারের বসতভিটা। এখন বসতভিটা হারানো পরিবারের সংখ্যা ১০০-এর বেশি হবে। মুহূর্তের ভাঙনে সব শেষ হয়ে যায়। ভাঙনের সময় চরম বিপদের সম্মুখীন হয়েছে এখানকার মানুষ। এখনো অনেক পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে পারেনি। অনেকে ঘর খুলতেছেন।

তিনি জানান, সরাসরি ভাঙনের মুখে রয়েছে ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ ও আরো অন্তত ২০টি পরিবার। মসজিদের একাংশ খোলা হয়েছে। যেকোনো সময় ভাঙতে পারে। এই ভাঙন গত দুই মাস ধরে চলছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার মারাত্মকভাবে নদী ভাঙন শুরু হয়। ইতোমধ্যে এখানকার ২০ বিঘা ফসলি জমি বিলীন হয়েছে নদীতে।

এসময় তিনি আরও বলেন, বসতভিটা হারানো পরিবারগুলোর জন্য জরুরি সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত এখানে কেউই খোঁজ নিতে এলো না। বিদ্যুৎ বন্ধ রয়েছে এখানে।

ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, কোল করে করে নদী ভাঙছে। উত্তর-দক্ষিণে নদী কিন্তু ভাঙছে পশ্চিমে। এই ওয়ার্ডের লালচামারে ২৭টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে এবং ভাঙনের ঝুঁকির মুখে থাকা ১৪টি পরিবার সম্প্রতি বাড়িঘর সরিয়ে নিয়েছে।

তিনি বলেন, ৩ নম্বর ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভাঙন এলাকাটা কাছাকাছি লাগোয়া। এখানে জিও ব্যাগ ফেলানো হচ্ছে, কিন্তু অনেক কম। ভাঙনের এখানে এত কম ফেলানোর কারণে তা কাজে আসছে না। কিনারার শুরু থেকে বেঁধে আসলে কাজে লাগবে। কিন্তু মাঝখানে অল্প কিছুসংখ্যক ফেলানো হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধির ফলে নদী জেলার সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জে উপজেলায় প্রায় ৩০টি পয়েন্টে ভাঙনের ফলে নদী তীরবর্তী অন্তত আট শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদী পাড়ের বহু মানুষ।

ভাঙন কবলিত এসব এলাকার মধ্যে কাপাশিয়া ছাড়াও সুন্দরগঞ্জের কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালির খামার গ্রামের শখের বাজার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী, রাঘব, চন্ডিপুর ইউনিয়নের উত্তর সীচা, কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার, কেরানির চর, মিন্টু মিয়ার চর ও বাদামের চর।

অন্যদিকে, সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়নের সিধাইল ও ফুলছড়ি উপজেলার ভাঙন কবলিত এলাকার মধ্যে রয়েছে। কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসীঘাট, দক্ষিণ রসুলপুর; উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর; ফজলুপুর ইউনিয়নের মধ্য ও দক্ষিণ, খাটিয়ামারীর চর ও চর চৌমোহন।

এদিকে, নতুন করে ভাঙনের কবলে পড়েছে ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্রের তীরবর্তী ভূষির ভিটা গ্রাম। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুলাই রাতে হঠাৎ জিও ব্যাগ ধসে পড়ে ভাঙন দেখা দেয়। সেখানে তিন স্থানে এক জায়গায় প্রায় ৫০ মিটার, আরেক জায়গায় ৩০ মিটার এবং আরেক স্থানে ২০ মিটার মিটার করে দেবে যায়। এই ধসে যাওয়া তিন স্থানের দুটি সরাসরি সাধারণ মানুষের বসবাসের এলাকা।

এছাড়াও নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে গোবিন্দগঞ্জের করতোয়ার তীরবর্তী কয়েকটি এলাকায়।

ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উপজেলার ভাঙনের কবলে পড়া প্রত্যেকটি এলাকা সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুসারে পাউবোকে অবহিত করে দ্রুতভাবে কাজ করতে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।

ভাঙনের শিকার হয়ে ভিটেমাটি হারানো পরিবারগুলোর ব্যাপারে কী ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে বা হবে জানতে চেয়ে একাধিকবার কল করা হলেও ফোন রিসিভি করেননি সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলি। পরে তাকে খুদেবার্তা এবং শেষে হোয়াটসঅ্যাপ নক করেও পাওয়া যায়নি।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়ার ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডসহ নদী ভাঙনের কবলে পড়া ১৩/১৪ টি পয়েন্টে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি কাজ চলমান রয়েছে।

এছাড়া নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় ফুলছড়ি উপজেলার ভূষির ভিটা এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করা হয়েছে। সেখানে প্রাথমিকভাবে ৫০০০ জিও ব্যাগ ফেলানো হচ্ছে। ভাঙনের অন্যান্য পয়েন্টগুলোতেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করা হবে।

প্রসঙ্গত, আগামী ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার কয়েকটি জেলায় নদীর পানি সতর্ক সীমা ছুঁতে পারে বলেও জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

শনিবার (১৮ জুলাই) কেন্দ্রটির সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিনের স্বাক্ষর করা প্রধান অববাহিকা ও জোনভিত্তিক নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী ৫ দিন ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে। পানি বৃদ্ধির ফলে ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু স্থানে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সতর্ক সীমায় পৌঁছাতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও বন্যা হতে পারে।