ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

স্বাস্থ্য বিভাগের ২০ ফগার মেশিন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১২:২০:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের পাশাপাশি এবার স্বাস্থ্য বিভাগ নিজস্ব উদ্যোগে ২০টি ফগার মেশিন দিয়ে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

রোববার (২ আগস্ট) কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে এবং উপজেলা পরিষদের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ বিষয়ক বিশেষ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিভিল সার্জন বলেন, গত বছর চট্টগ্রামে প্রায় ৮ হাজার মানুষ ডেঙ্গু এবং ৮ হাজার মানুষ চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হন। এদের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার রোগী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

তিনি বলেন, একটি এডিস মশা একাধিক ব্যক্তিকে কামড়াতে পারে। বর্তমানে ডেঙ্গুর ১ ও ২ নম্বর ভ্যারিয়েন্টের পাশাপাশি ৩ ও ৪ নম্বর ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ বাড়ছে, যা তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ প্রশিক্ষিত জনবল দিয়ে এডিস মশার লার্ভার উৎস শনাক্ত, নিয়মিত ফগিং এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চলতি বছরের জরিপে নগরীর কয়েকটি এলাকায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলেও গত বছরের তুলনায় পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান, নিয়মিত তদারকি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কারণে এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলের আশপাশে তিন দিনের বেশি পরিষ্কার পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। কারণ এডিস মশা পরিষ্কার স্থির পানিতে বংশবিস্তার করে।

তিনি জানান, কর্ণফুলীর চরপাথরঘাটা এলাকায় ডেঙ্গুতে এক নারীর মৃত্যুর পর সেখানে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে লার্ভা ধ্বংস, ফগিং এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে। উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ ও কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা ডেঙ্গুতে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাই জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রতিরোধে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই।

সভায় কর্ণফুলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেছার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিদুয়ানুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সৌনম বড়ুয়া।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেছা বলেন, সম্প্রতি ডেঙ্গুর প্রকোপ আবার বেড়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জনসচেতনতা বৃদ্ধি। এ কাজে উপজেলার সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সচেতন নাগরিক ও সংবাদকর্মীদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, জ্বর হওয়ার ৪ থেকে ৭ দিনের মধ্যে কিংবা তীব্র পেটব্যথা, অনবরত বমি বা রক্তক্ষরণের মতো লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। জ্বরের প্রথম দিনেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনএস-১ ও সিবিসি পরীক্ষা করানো উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ব্যথানাশক বা অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, উপজেলাজুড়ে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বাড়ি, আঙিনা কিংবা ফুলের টবে তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি প্লাস্টিক ও পলিথিনসহ বর্জ্য নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

ডা. জেবুন্নেছা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন ধরনের সচেতনতামূলক লিফলেট ছাপানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এক হাজার কপি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য বিভাগের টিম গঠন করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

ইউএনও রিদুয়ানুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে মাইকিংসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সভায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরিফুর হক, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রোমানা রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কৌশিক চাকমা, ব্র্যাকের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার জান্নাতুল শামুয়া, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারী বৃষ্টির আভাস তিন বিভাগে

স্বাস্থ্য বিভাগের ২০ ফগার মেশিন

প্রকাশিত : ১২:২০:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের পাশাপাশি এবার স্বাস্থ্য বিভাগ নিজস্ব উদ্যোগে ২০টি ফগার মেশিন দিয়ে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

রোববার (২ আগস্ট) কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে এবং উপজেলা পরিষদের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ বিষয়ক বিশেষ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিভিল সার্জন বলেন, গত বছর চট্টগ্রামে প্রায় ৮ হাজার মানুষ ডেঙ্গু এবং ৮ হাজার মানুষ চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হন। এদের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার রোগী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

তিনি বলেন, একটি এডিস মশা একাধিক ব্যক্তিকে কামড়াতে পারে। বর্তমানে ডেঙ্গুর ১ ও ২ নম্বর ভ্যারিয়েন্টের পাশাপাশি ৩ ও ৪ নম্বর ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ বাড়ছে, যা তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ প্রশিক্ষিত জনবল দিয়ে এডিস মশার লার্ভার উৎস শনাক্ত, নিয়মিত ফগিং এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চলতি বছরের জরিপে নগরীর কয়েকটি এলাকায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলেও গত বছরের তুলনায় পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান, নিয়মিত তদারকি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কারণে এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলের আশপাশে তিন দিনের বেশি পরিষ্কার পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। কারণ এডিস মশা পরিষ্কার স্থির পানিতে বংশবিস্তার করে।

তিনি জানান, কর্ণফুলীর চরপাথরঘাটা এলাকায় ডেঙ্গুতে এক নারীর মৃত্যুর পর সেখানে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে লার্ভা ধ্বংস, ফগিং এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে। উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ ও কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা ডেঙ্গুতে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাই জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রতিরোধে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই।

সভায় কর্ণফুলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেছার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিদুয়ানুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সৌনম বড়ুয়া।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেছা বলেন, সম্প্রতি ডেঙ্গুর প্রকোপ আবার বেড়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জনসচেতনতা বৃদ্ধি। এ কাজে উপজেলার সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সচেতন নাগরিক ও সংবাদকর্মীদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, জ্বর হওয়ার ৪ থেকে ৭ দিনের মধ্যে কিংবা তীব্র পেটব্যথা, অনবরত বমি বা রক্তক্ষরণের মতো লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। জ্বরের প্রথম দিনেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনএস-১ ও সিবিসি পরীক্ষা করানো উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ব্যথানাশক বা অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, উপজেলাজুড়ে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বাড়ি, আঙিনা কিংবা ফুলের টবে তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি প্লাস্টিক ও পলিথিনসহ বর্জ্য নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

ডা. জেবুন্নেছা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন ধরনের সচেতনতামূলক লিফলেট ছাপানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এক হাজার কপি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য বিভাগের টিম গঠন করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

ইউএনও রিদুয়ানুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে মাইকিংসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সভায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরিফুর হক, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রোমানা রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কৌশিক চাকমা, ব্র্যাকের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার জান্নাতুল শামুয়া, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।