ঢাকা ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

ইলিশ নেই, ঋণের কিস্তি আছে তেঁতুলিয়ার জেলেদের চোখে এখন দুশ্চিন্তার ঢেউ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০২:৪৯:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে নৌকা বাঁধা। জালও প্রস্তুত। ইলিশ ধরার ভরা মৌসুম চলছে। অথচ নদীতে জাল ফেলেও কাঙ্খিত মাছ মিলছে না। দিনভর নদীতে ঘুরে যে পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে নৌকার জ্বালানি, জালের খরচ আর সংসারের ব্যয় মেটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।
তার ওপর মাথার ওপর ঋণের বোঝা। এনজিওর কিস্তি দিতে হচ্ছে নিয়মিত। নৌকা ও জাল তৈরির জন্য মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া দাদনের টাকাও শোধ করতে হবে। সামনে আবার আসছে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা।
সব মিলিয়ে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর জেলেদের কাছে এবারের ইলিশ মৌসুম যেন স্বস্তির বদলে নতুন দুশ্চিন্তা নিয়ে এসেছে।

উপজেলার চরবেরেট গ্রামের জেলে আখের আলী খাঁর বয়স ৫৫ বছর। প্রায় সারা জীবনই তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে মাছ ধরে কাটিয়েছেন। নদীর কোন জায়গায় কখন ইলিশের ঝাঁক পাওয়া যায়, কোন দিকে জাল ফেললে মাছ ওঠার সম্ভাবনা বেশি-এসব তাঁর অভিজ্ঞতার বিষয়। এবার সেই অভিজ্ঞতাও যেন কাজে আসছে না।
ছেলে সোহেলকে সঙ্গে নিয়ে নদীতে মাছ ধরেন আখের আলী। ইলিশের মৌসুম শুরুর আগে নৌকা ও জাল কেনা এবং মেরামতের জন্য ঋণ করেছিলেন। তাঁর পরিকল্পনা ছিল, চার-পাঁচ মাস মাছ ধরে সেই আয় দিয়ে ঋণ শোধ করবেন। এরপর যা থাকবে, তা দিয়ে চলবে সংসার। কিন্তু মৌসুমের প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও নদীতে আশানুরূপ ইলিশ মিলছে না।
আখের আলী বলেন, তাঁদের এলাকা ইলিশের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। অথচ এবার সেখানেও মাছের দেখা কম। এনজিওর ঋণের কিস্তি দিতে হচ্ছে, পাশাপাশি মহাজনের দাদনের টাকাও পরিশোধ করতে হবে। মাছ কম পাওয়ায় এখন কীভাবে এসব টাকা শোধ করবেন, সেটিই তাঁর সবচেয়ে বড় চিন্তা।
বাউফল উপজেলায় ইলিশ নির্ভর জেলের সংখ্যা ৫ হাজার ৫২১। নদীতে মাছ কম পাওয়ায় তাঁদের অনেকেরই এখন একই অবস্থা।
প্রতি বছর জুন থেকে অক্টোবর পযন্ত ইলিশ আহরণের মৌসুম। এ সময় তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে জাল ফেলেন হাজারো জেলে। কয়েক মাসের এই মৌসুমের আয় দিয়েই বছরের বড় একটি সময়ের সংসার চালাতে হয় তাঁদের।
কিন্তু এবার মৌসুমের শুরু থেকেই প্রত্যাশা অনুযায়ী ইলিশ না পাওয়ায় জেলেদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
গত শুক্রবার সকালে তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ের চরমিয়াজান ও চরবেড়েট গ্রামে গিয়ে জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় প্রত্যেকেরই একই অভিযোগ. নদীতে জাল ফেললেও ইলিশ মিলছে কম।
অনেক জেলে মৌসুম শুরুর আগে এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন। কেউ কেউ আড়তদারের কাছ থেকে ইলিশ দেওয়ার শর্তে দাদন নিয়েছেন। সেই টাকা দিয়ে নৌকা ও জাল তৈরি করেছেন। তাঁদের প্রত্যাশা ছিল, মৌসুমে ভালো ইলিশ মিলবে এবং মাছ বিক্রির আয় দিয়ে ঋণ পরিশোধ করবেন। কিন্তু মাছ না পাওয়ায় সেই হিসাব এখন মিলছে না।
চরমিয়াজান এলাকার জেলে ইসতাক ভূঁইয়ার পরিবারে সদস্য চারজন। ছেলে রাকিবের বয়স ১০ বছর, মেয়ে সুমাইয়ার ১২। দুজনই স্কুলে পড়ে। মাছ ধরেই তাঁদের পড়াশোনা, খাবার ও সংসারের অন্যান্য খরচ চালান ইসতাক।
ইলিশের মৌসুম শুরুর আগে তাঁর স্ত্রী রোজিনা বেগম এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন। নৌকা ও জাল তৈরির জন্য আড়তদারদের কাছ থেকেও দাদন নিতে হয়েছে।
ইসতাকের ভাষায়, নদীতে যে পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে সংসারের খরচই ঠিকমতো চলে না। তার ওপর এনজিওর কিস্তি ও মহাজনের দাদন, সব মিলিয়ে তিনি এখন কীভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন, তা বুঝতে পারছেন না।
এদিকে গত মৌসুসের চেয়ে চলতি মৌসুমে নদীতে ইলিশ মিলছে কম, জেলেদের এ অভিযোগের সঙ্গে মিলছে মৎস্য বিভাগের হিসাবও।
বাউফল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমের জুন ও জুলাই-এই দুই মাসে উপজেলায় ইলিশ আহরিত হয়েছে ৫১১ মেট্রিক টন।
অন্যদিকে গত মৌসুমের একই দুই মাসে ইলিশ আহরিত হয়েছিল ৮৮৩ দশমিক ২ মেট্রিক টন।
অর্থাৎ গত মৌসুমের তুলনায় চলতি মৌসুমের প্রথম দুই মাসে ইলিশ আহরণ কমেছে ৩৭২ দশমিক ২ মেট্রিক টন।
তেঁতুলিয়া নদীর প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ইলিশের অভয়ারণ্য রয়েছে। এই এলাকায় ভরা মৌসুমেও প্রত্যাশিত ইলিশ না পাওয়ায় জেলেদের মধ্যে বিস্ময়ও তৈরি হয়েছে।
ইলিশের প্রজনন নির্বিঘœ রাখতে প্রতিবছর নভেম্বর মাসে তেঁতুলিয়া নদীর ওই ১০০ কিলোমিটার এলাকায় মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এ সময় মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে নদীতে নজরদারিও বাড়ানো হয়।
জেলেদের ভয়, নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার আগে যদি পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা না পড়ে, তাহলে তাঁদের অনেকেই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আরও কঠিন সময়ের মুখোমুখি হবেন।
কারণ, ইলিশের মৌসুম তাঁদের কাছে শুধু মাছ ধরার কয়েকটি মাস নয়; এই সময়ের আয় দিয়েই চলে পরিবারের খাবার, সন্তানের পড়াশোনা, নৌকা-জালের খরচ এবং পুরোনো ঋণ পরিশোধের হিসাব।
বাউফল উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এম এম পারভেজ অবশ্য মনে করছেন, মৌসুমের এখনও সময় আছে। তাঁর আশা, সামনের দিনগুলোতে নদীতে ইলিশের পরিমাণ বাড়বে এবং জেলেরা কাঙ্খিত মাছ পেয়ে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন।
তবে ইলিশের অপেক্ষায় তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ের জেলেদের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে।
নৌকা আছে, জাল আছে, নদীও আছে, শুধু নেই সেই রুপালি ইলিশের প্রত্যাশিত ঝাঁক। আর সেই মাছের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো জেলের ঋণ, সংসার ও ভবিষ্যৎ। তেঁতুলিয়ার ঢেউ তাই এখন শুধু নদীর জলই দোলাচ্ছে না; দুলছে জেলেদের অনিশ্চিত জীবনের হিসাবও।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইলিশ নেই, ঋণের কিস্তি আছে তেঁতুলিয়ার জেলেদের চোখে এখন দুশ্চিন্তার ঢেউ

প্রকাশিত : ০২:৪৯:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে নৌকা বাঁধা। জালও প্রস্তুত। ইলিশ ধরার ভরা মৌসুম চলছে। অথচ নদীতে জাল ফেলেও কাঙ্খিত মাছ মিলছে না। দিনভর নদীতে ঘুরে যে পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে নৌকার জ্বালানি, জালের খরচ আর সংসারের ব্যয় মেটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।
তার ওপর মাথার ওপর ঋণের বোঝা। এনজিওর কিস্তি দিতে হচ্ছে নিয়মিত। নৌকা ও জাল তৈরির জন্য মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া দাদনের টাকাও শোধ করতে হবে। সামনে আবার আসছে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা।
সব মিলিয়ে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর জেলেদের কাছে এবারের ইলিশ মৌসুম যেন স্বস্তির বদলে নতুন দুশ্চিন্তা নিয়ে এসেছে।

উপজেলার চরবেরেট গ্রামের জেলে আখের আলী খাঁর বয়স ৫৫ বছর। প্রায় সারা জীবনই তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে মাছ ধরে কাটিয়েছেন। নদীর কোন জায়গায় কখন ইলিশের ঝাঁক পাওয়া যায়, কোন দিকে জাল ফেললে মাছ ওঠার সম্ভাবনা বেশি-এসব তাঁর অভিজ্ঞতার বিষয়। এবার সেই অভিজ্ঞতাও যেন কাজে আসছে না।
ছেলে সোহেলকে সঙ্গে নিয়ে নদীতে মাছ ধরেন আখের আলী। ইলিশের মৌসুম শুরুর আগে নৌকা ও জাল কেনা এবং মেরামতের জন্য ঋণ করেছিলেন। তাঁর পরিকল্পনা ছিল, চার-পাঁচ মাস মাছ ধরে সেই আয় দিয়ে ঋণ শোধ করবেন। এরপর যা থাকবে, তা দিয়ে চলবে সংসার। কিন্তু মৌসুমের প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও নদীতে আশানুরূপ ইলিশ মিলছে না।
আখের আলী বলেন, তাঁদের এলাকা ইলিশের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। অথচ এবার সেখানেও মাছের দেখা কম। এনজিওর ঋণের কিস্তি দিতে হচ্ছে, পাশাপাশি মহাজনের দাদনের টাকাও পরিশোধ করতে হবে। মাছ কম পাওয়ায় এখন কীভাবে এসব টাকা শোধ করবেন, সেটিই তাঁর সবচেয়ে বড় চিন্তা।
বাউফল উপজেলায় ইলিশ নির্ভর জেলের সংখ্যা ৫ হাজার ৫২১। নদীতে মাছ কম পাওয়ায় তাঁদের অনেকেরই এখন একই অবস্থা।
প্রতি বছর জুন থেকে অক্টোবর পযন্ত ইলিশ আহরণের মৌসুম। এ সময় তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে জাল ফেলেন হাজারো জেলে। কয়েক মাসের এই মৌসুমের আয় দিয়েই বছরের বড় একটি সময়ের সংসার চালাতে হয় তাঁদের।
কিন্তু এবার মৌসুমের শুরু থেকেই প্রত্যাশা অনুযায়ী ইলিশ না পাওয়ায় জেলেদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
গত শুক্রবার সকালে তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ের চরমিয়াজান ও চরবেড়েট গ্রামে গিয়ে জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় প্রত্যেকেরই একই অভিযোগ. নদীতে জাল ফেললেও ইলিশ মিলছে কম।
অনেক জেলে মৌসুম শুরুর আগে এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন। কেউ কেউ আড়তদারের কাছ থেকে ইলিশ দেওয়ার শর্তে দাদন নিয়েছেন। সেই টাকা দিয়ে নৌকা ও জাল তৈরি করেছেন। তাঁদের প্রত্যাশা ছিল, মৌসুমে ভালো ইলিশ মিলবে এবং মাছ বিক্রির আয় দিয়ে ঋণ পরিশোধ করবেন। কিন্তু মাছ না পাওয়ায় সেই হিসাব এখন মিলছে না।
চরমিয়াজান এলাকার জেলে ইসতাক ভূঁইয়ার পরিবারে সদস্য চারজন। ছেলে রাকিবের বয়স ১০ বছর, মেয়ে সুমাইয়ার ১২। দুজনই স্কুলে পড়ে। মাছ ধরেই তাঁদের পড়াশোনা, খাবার ও সংসারের অন্যান্য খরচ চালান ইসতাক।
ইলিশের মৌসুম শুরুর আগে তাঁর স্ত্রী রোজিনা বেগম এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন। নৌকা ও জাল তৈরির জন্য আড়তদারদের কাছ থেকেও দাদন নিতে হয়েছে।
ইসতাকের ভাষায়, নদীতে যে পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে সংসারের খরচই ঠিকমতো চলে না। তার ওপর এনজিওর কিস্তি ও মহাজনের দাদন, সব মিলিয়ে তিনি এখন কীভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন, তা বুঝতে পারছেন না।
এদিকে গত মৌসুসের চেয়ে চলতি মৌসুমে নদীতে ইলিশ মিলছে কম, জেলেদের এ অভিযোগের সঙ্গে মিলছে মৎস্য বিভাগের হিসাবও।
বাউফল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমের জুন ও জুলাই-এই দুই মাসে উপজেলায় ইলিশ আহরিত হয়েছে ৫১১ মেট্রিক টন।
অন্যদিকে গত মৌসুমের একই দুই মাসে ইলিশ আহরিত হয়েছিল ৮৮৩ দশমিক ২ মেট্রিক টন।
অর্থাৎ গত মৌসুমের তুলনায় চলতি মৌসুমের প্রথম দুই মাসে ইলিশ আহরণ কমেছে ৩৭২ দশমিক ২ মেট্রিক টন।
তেঁতুলিয়া নদীর প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ইলিশের অভয়ারণ্য রয়েছে। এই এলাকায় ভরা মৌসুমেও প্রত্যাশিত ইলিশ না পাওয়ায় জেলেদের মধ্যে বিস্ময়ও তৈরি হয়েছে।
ইলিশের প্রজনন নির্বিঘœ রাখতে প্রতিবছর নভেম্বর মাসে তেঁতুলিয়া নদীর ওই ১০০ কিলোমিটার এলাকায় মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এ সময় মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে নদীতে নজরদারিও বাড়ানো হয়।
জেলেদের ভয়, নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার আগে যদি পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা না পড়ে, তাহলে তাঁদের অনেকেই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আরও কঠিন সময়ের মুখোমুখি হবেন।
কারণ, ইলিশের মৌসুম তাঁদের কাছে শুধু মাছ ধরার কয়েকটি মাস নয়; এই সময়ের আয় দিয়েই চলে পরিবারের খাবার, সন্তানের পড়াশোনা, নৌকা-জালের খরচ এবং পুরোনো ঋণ পরিশোধের হিসাব।
বাউফল উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এম এম পারভেজ অবশ্য মনে করছেন, মৌসুমের এখনও সময় আছে। তাঁর আশা, সামনের দিনগুলোতে নদীতে ইলিশের পরিমাণ বাড়বে এবং জেলেরা কাঙ্খিত মাছ পেয়ে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন।
তবে ইলিশের অপেক্ষায় তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ের জেলেদের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে।
নৌকা আছে, জাল আছে, নদীও আছে, শুধু নেই সেই রুপালি ইলিশের প্রত্যাশিত ঝাঁক। আর সেই মাছের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো জেলের ঋণ, সংসার ও ভবিষ্যৎ। তেঁতুলিয়ার ঢেউ তাই এখন শুধু নদীর জলই দোলাচ্ছে না; দুলছে জেলেদের অনিশ্চিত জীবনের হিসাবও।