ঢাকা ০৯:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘সাগরে এখন মাছই যেন নেই’ মাছ কমায় ঋণ আর লোকসানের চাপে জেলেরা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৭:৫৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: সাগরে যাওয়ার আগে জেলেদের হাতে থাকে জ্বালানি, বরফ, খাবার ও অন্যান্য খরচের হিসাব। থাকে মাছ ধরে ফিরে এসে সেই খরচ মেটানোর প্রত্যাশাও। কিন্তু সেই প্রত্যাশা এখন অনেক সময় পূরণ হচ্ছে না।
জাল ফেলতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। অপেক্ষা করতে হচ্ছে দিনের পর দিন। অথচ আগের মতো মাছ মিলছে না। ফলে সমুদ্রে প্রতিটি ট্রিপ এখন অনেক জেলের কাছে শুধু মাছ ধরার অভিযান নয়, বরং লোকসানের ঝুঁকিও।
পটুয়াখালীর আলীপুর ও মহিপুরের মাছ অবতরণকেন্দ্রগুলোতে কথা বলে জেলেদের এমনই দুর্দশার চিত্র পাওয়া গেছে।
এফবি নূরজাহান ট্রলারের মালিক মিজান হোসেন বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর তাঁর ট্রলারে মাছের পরিমাণ অন্তত ৪০ শতাংশ কমেছে। তাঁর অভিযোগ, সাগরে ব্যাপকভাবে ট্রলিংয়ের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
জেলে মিজান হোসেন বলেন, ‘ট্রলিং জালে সব আকার ও প্রজাতির মাছ উঠে আসে। ছোট মাছগুলোও জালে ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়।’
জেলেদের সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হলো, সাগরে মাছ কমলেও মাছ ধরতে যাওয়ার খরচ কমেনি।
শাহ জব্বারিয়া ফিশ এন্টারপ্রাইজের মালিক ইসমাইল হোসেন বলেন, একসময় একটি ট্রলার এক ট্রিপেই দেড় থেকে দুই টন ইলিশ নিয়ে ফিরত। এখন একই পরিমাণ মাছ সংগ্রহ করতে একাধিক ট্রলার প্রয়োজন হচ্ছে।
একটি ট্রলারের একেকটি সমুদ্রযাত্রায় জ্বালানি ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রায় চার লাখ টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু মাছ কম পাওয়ায় অনেক সময় সেই খরচও উঠে আসে না।
ফলে মাছ ধরতে যাওয়াটা এখন আগের মতো নিশ্চিত আয়ের কাজ নয়। বরং জেলেদের সামনে থাকে ঋণ, খরচ এবং অনিশ্চিত আয়ের হিসাব।
মহিপুর মৎস্যজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ফজলু গাজী বলেন, গত চার-পাঁচ বছরের মধ্যে এ বছর ইলিশের আহরণ সবচেয়ে কম বলে তিনি মনে করছেন।
তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর আমরা জেলেদের আগাম টাকা দিই। এবার মাছের পরিমাণ এতটাই কমেছে যে সেই টাকাটাও ফেরত পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।’
অর্থাৎ, মাছ কমার প্রভাব শুধু জেলের নৌকায় আটকে নেই। এর প্রভাব পড়ছে ট্রলারমালিক, আড়তদার ও মাছের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অন্যদের ওপরও।

হানিফ মাঝি’ একটি ট্রলার পরিচালনা করেন। তাঁর অভিজ্ঞতাও একই।
তিনি বলেন, ‘সাগরে এখন মাছই যেন নেই। জাল ফেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় খুব সামান্য মাছ নিয়ে ফিরতে হয়।’
চলতি বছর ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা ২৩ জুলাই শেষ হওয়ার পর তাঁর ট্রলার ১০টি ট্রিপ দিয়েছে। এসব ট্রিপে প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। মাছ বিক্রি করে আয় হয়েছে প্রায় ৪২ লাখ টাকা।
অর্থাৎ, ১০টি ট্রিপে প্রায় ৪২ লাখ টাকা আয় হলেও খরচ বাদ দেওয়ার পর হাতে থাকে মাত্র প্রায় দুই লাখ টাকা, যার মধ্যে ট্রলার পরিচালনা, শ্রমিকদের পারিশ্রমিকসহ অন্যান্য ব্যয়ও রয়েছে।
অতীতে চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ট্রলার মাঝি বাদশা বলেন, একটি ট্রলার এক ট্রিপেই ১০ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত মাছ বিক্রি করতে পারত। এখন সেই তুলনায় মাছের পরিমাণ এতটাই কমেছে যে সমুদ্রে দীর্ঘ সময় থেকেও আগের মতো আয় করা যাচ্ছে না।
জেলেদের এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছে সরকারি পরিসংখ্যানেও।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাংলাদেশে সামুদ্রিক মাছের আহরণ ছিল ৫ লাখ ১৭ হাজার টন। এরপর কয়েক বছর ধরে তা বেড়ে ২০২১-২২ অর্থবছরে রেকর্ড ৭ লাখ ৬ হাজার টনে পৌঁছায়।
কিন্তু এরপর থেকে টানা চার বছর সামুদ্রিক মাছের আহরণ কমেছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রাথমিক হিসাবে সামুদ্রিক মাছের আহরণ ৫ লাখ ১৫ হাজার টন। হিসাবটি চূড়ান্ত হলে গত ১৬ বছরের মধ্যে এটিই হবে সর্বনিম্ন আহরণ।
২০২১-২২ অর্থবছরের সর্বোচ্চ আহরণের তুলনায় বর্তমান আহরণ প্রায় ২৭ শতাংশ কম।
পটুয়াখালীর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দীও মাছের আহরণ কমে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইলিশের আহরণ কমেছে। অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের আহরণও কমেছে। আমাদের হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার মোট মাছ আহরণ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে।’
কেন কমছে মাছ? জানতে চাইলে মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, অতিরিক্ত মাছ ধরা, ধ্বংসাত্মক জাল ব্যবহার, দূষণ এবং নদী ও সমুদ্রের আবাসস্থলের পরিবর্তনের কারণে সামুদ্রিক মাছের মজুত কমছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের ব্লু ইকোনমি শাখার সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শরীফুল আজম বলেন, সামুদ্রিক মাছের মোট আহরণের প্রায় ৪০ শতাংশই ইলিশ। দূষণ, আবাসস্থলের পরিবর্তন ও অতিরিক্ত আহরণের কারণে ইলিশের উৎপাদনও কমছে।
নদী ও প্রজননক্ষেত্রে দূষণের কারণে ইলিশের ডিম ও পোনার টিকে থাকার হার কমছে। নদী ও সমুদ্রের তলদেশে চর বা বালুর স্তর তৈরি হওয়ায় ইলিশের স্বাভাবিক চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
অন্যদিকে বেহুন্দি জাল, মনোফিলামেন্ট গিলনেটসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর জালে পোনা ও ছোট মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ছে। পটুয়াখালী ও কলাপাড়ার উপকূলীয় এলাকায় অগভীর সমুদ্রে ট্রলিং নিয়েও জেলেদের অভিযোগ রয়েছে। এতে বড় মাছের পাশাপাশি পোনা ও ছোট মাছ মারা যাচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মাছের আবাসস্থল।
মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে প্রায় ৩০ হাজার ছোট আকারের বা আর্টিসানাল মাছ ধরার নৌযান রয়েছে। এর ৮৫ শতাংশের বেশি ইলিশ ধরার ওপর নির্ভরশীল। ফলে ইলিশের মজুত কমে গেলে সরাসরি সংকটে পড়েন এসব জেলে।
শরীফুল আজম বলেন, মাছের মজুত পুনর্গঠনে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। এ জন্য সমুদ্রে নজরদারি বাড়ানো, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা, ধ্বংসাত্মক জাল বন্ধ এবং মাছ ধরার নৌযানকে ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

‘সাগরে এখন মাছই যেন নেই’ মাছ কমায় ঋণ আর লোকসানের চাপে জেলেরা

প্রকাশিত : ০৭:৫৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: সাগরে যাওয়ার আগে জেলেদের হাতে থাকে জ্বালানি, বরফ, খাবার ও অন্যান্য খরচের হিসাব। থাকে মাছ ধরে ফিরে এসে সেই খরচ মেটানোর প্রত্যাশাও। কিন্তু সেই প্রত্যাশা এখন অনেক সময় পূরণ হচ্ছে না।
জাল ফেলতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। অপেক্ষা করতে হচ্ছে দিনের পর দিন। অথচ আগের মতো মাছ মিলছে না। ফলে সমুদ্রে প্রতিটি ট্রিপ এখন অনেক জেলের কাছে শুধু মাছ ধরার অভিযান নয়, বরং লোকসানের ঝুঁকিও।
পটুয়াখালীর আলীপুর ও মহিপুরের মাছ অবতরণকেন্দ্রগুলোতে কথা বলে জেলেদের এমনই দুর্দশার চিত্র পাওয়া গেছে।
এফবি নূরজাহান ট্রলারের মালিক মিজান হোসেন বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর তাঁর ট্রলারে মাছের পরিমাণ অন্তত ৪০ শতাংশ কমেছে। তাঁর অভিযোগ, সাগরে ব্যাপকভাবে ট্রলিংয়ের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
জেলে মিজান হোসেন বলেন, ‘ট্রলিং জালে সব আকার ও প্রজাতির মাছ উঠে আসে। ছোট মাছগুলোও জালে ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়।’
জেলেদের সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হলো, সাগরে মাছ কমলেও মাছ ধরতে যাওয়ার খরচ কমেনি।
শাহ জব্বারিয়া ফিশ এন্টারপ্রাইজের মালিক ইসমাইল হোসেন বলেন, একসময় একটি ট্রলার এক ট্রিপেই দেড় থেকে দুই টন ইলিশ নিয়ে ফিরত। এখন একই পরিমাণ মাছ সংগ্রহ করতে একাধিক ট্রলার প্রয়োজন হচ্ছে।
একটি ট্রলারের একেকটি সমুদ্রযাত্রায় জ্বালানি ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রায় চার লাখ টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু মাছ কম পাওয়ায় অনেক সময় সেই খরচও উঠে আসে না।
ফলে মাছ ধরতে যাওয়াটা এখন আগের মতো নিশ্চিত আয়ের কাজ নয়। বরং জেলেদের সামনে থাকে ঋণ, খরচ এবং অনিশ্চিত আয়ের হিসাব।
মহিপুর মৎস্যজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ফজলু গাজী বলেন, গত চার-পাঁচ বছরের মধ্যে এ বছর ইলিশের আহরণ সবচেয়ে কম বলে তিনি মনে করছেন।
তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর আমরা জেলেদের আগাম টাকা দিই। এবার মাছের পরিমাণ এতটাই কমেছে যে সেই টাকাটাও ফেরত পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।’
অর্থাৎ, মাছ কমার প্রভাব শুধু জেলের নৌকায় আটকে নেই। এর প্রভাব পড়ছে ট্রলারমালিক, আড়তদার ও মাছের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অন্যদের ওপরও।

হানিফ মাঝি’ একটি ট্রলার পরিচালনা করেন। তাঁর অভিজ্ঞতাও একই।
তিনি বলেন, ‘সাগরে এখন মাছই যেন নেই। জাল ফেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় খুব সামান্য মাছ নিয়ে ফিরতে হয়।’
চলতি বছর ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা ২৩ জুলাই শেষ হওয়ার পর তাঁর ট্রলার ১০টি ট্রিপ দিয়েছে। এসব ট্রিপে প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। মাছ বিক্রি করে আয় হয়েছে প্রায় ৪২ লাখ টাকা।
অর্থাৎ, ১০টি ট্রিপে প্রায় ৪২ লাখ টাকা আয় হলেও খরচ বাদ দেওয়ার পর হাতে থাকে মাত্র প্রায় দুই লাখ টাকা, যার মধ্যে ট্রলার পরিচালনা, শ্রমিকদের পারিশ্রমিকসহ অন্যান্য ব্যয়ও রয়েছে।
অতীতে চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ট্রলার মাঝি বাদশা বলেন, একটি ট্রলার এক ট্রিপেই ১০ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত মাছ বিক্রি করতে পারত। এখন সেই তুলনায় মাছের পরিমাণ এতটাই কমেছে যে সমুদ্রে দীর্ঘ সময় থেকেও আগের মতো আয় করা যাচ্ছে না।
জেলেদের এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছে সরকারি পরিসংখ্যানেও।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাংলাদেশে সামুদ্রিক মাছের আহরণ ছিল ৫ লাখ ১৭ হাজার টন। এরপর কয়েক বছর ধরে তা বেড়ে ২০২১-২২ অর্থবছরে রেকর্ড ৭ লাখ ৬ হাজার টনে পৌঁছায়।
কিন্তু এরপর থেকে টানা চার বছর সামুদ্রিক মাছের আহরণ কমেছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রাথমিক হিসাবে সামুদ্রিক মাছের আহরণ ৫ লাখ ১৫ হাজার টন। হিসাবটি চূড়ান্ত হলে গত ১৬ বছরের মধ্যে এটিই হবে সর্বনিম্ন আহরণ।
২০২১-২২ অর্থবছরের সর্বোচ্চ আহরণের তুলনায় বর্তমান আহরণ প্রায় ২৭ শতাংশ কম।
পটুয়াখালীর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দীও মাছের আহরণ কমে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইলিশের আহরণ কমেছে। অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের আহরণও কমেছে। আমাদের হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার মোট মাছ আহরণ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে।’
কেন কমছে মাছ? জানতে চাইলে মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, অতিরিক্ত মাছ ধরা, ধ্বংসাত্মক জাল ব্যবহার, দূষণ এবং নদী ও সমুদ্রের আবাসস্থলের পরিবর্তনের কারণে সামুদ্রিক মাছের মজুত কমছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের ব্লু ইকোনমি শাখার সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শরীফুল আজম বলেন, সামুদ্রিক মাছের মোট আহরণের প্রায় ৪০ শতাংশই ইলিশ। দূষণ, আবাসস্থলের পরিবর্তন ও অতিরিক্ত আহরণের কারণে ইলিশের উৎপাদনও কমছে।
নদী ও প্রজননক্ষেত্রে দূষণের কারণে ইলিশের ডিম ও পোনার টিকে থাকার হার কমছে। নদী ও সমুদ্রের তলদেশে চর বা বালুর স্তর তৈরি হওয়ায় ইলিশের স্বাভাবিক চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
অন্যদিকে বেহুন্দি জাল, মনোফিলামেন্ট গিলনেটসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর জালে পোনা ও ছোট মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ছে। পটুয়াখালী ও কলাপাড়ার উপকূলীয় এলাকায় অগভীর সমুদ্রে ট্রলিং নিয়েও জেলেদের অভিযোগ রয়েছে। এতে বড় মাছের পাশাপাশি পোনা ও ছোট মাছ মারা যাচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মাছের আবাসস্থল।
মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে প্রায় ৩০ হাজার ছোট আকারের বা আর্টিসানাল মাছ ধরার নৌযান রয়েছে। এর ৮৫ শতাংশের বেশি ইলিশ ধরার ওপর নির্ভরশীল। ফলে ইলিশের মজুত কমে গেলে সরাসরি সংকটে পড়েন এসব জেলে।
শরীফুল আজম বলেন, মাছের মজুত পুনর্গঠনে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। এ জন্য সমুদ্রে নজরদারি বাড়ানো, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা, ধ্বংসাত্মক জাল বন্ধ এবং মাছ ধরার নৌযানকে ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।