ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কালিয়াকৈরে শিয়ালের তান্ডব: ৩ দিনে শিশুসহ আহত অন্তত ২৫, জনমনে আতঙ্ক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৯:০২:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের একাধিক এলাকায় বনাঞ্চল থেকে লোকালয়ে শিয়ালের উপদ্রব মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে।

স্থানীয়দের দাবি, গত তিন দিনে শিয়ালের আক্রমণে শিশুসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে একাধিক গবাদিপশুকেও কামড় দিয়েছে শিয়াল।

ঘটনার বিবরণ ও সরেজমিন চিত্র চিত্রায়ন করতে গিয়ে দেখা যায়, ধুলিগড়া, পামওয়েল বাজার ও গন্দেকচালা এলাকায় দিনের বিভিন্ন সময়ে শিয়ালের আনাগোনা বেড়েছে। রোববার সকালে পামওয়েল বাজার এলাকায় দেখা যায়, বাজারে আসা অধিকাংশ মানুষের হাতে নিরাপত্তার জন্য লাঠি রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বনের ভেতরের এলাকা থেকে একসঙ্গে দুই-তিনটি শিয়াল লোকালয়ে চলে আসছে এবং মানুষের উপস্থিতি টের পেলেই আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। ফলে বাজারে যাওয়া, মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া কিংবা দৈনন্দিন কাজে বের হতে আতঙ্ক কাজ করছে সবার মধ্যে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে বিদ্যালয়গামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

আহতদের মধ্যে আছিয়া (৩৫), দুখিল মাতবর (৬৫), দ্বীন ইসলাম (১২), মফিজ মাস্টার (৪০), শারমিন (৩৫), আলমাস (৩৮), আলী হোসেন (৩৫), মিম (৫) ও হরিদাসী (৬০)-সহ অন্তত ২৫ জন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

আক্রান্ত আলমাস হোসেন বলেন, “গরু আনতে বাড়ির নিচে গেলে হঠাৎ দুটি শিয়াল আমাকে আক্রমণ করে ১০ থেকে ১২ বার কামড় দেয়। ডাক-চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এসে আমাকে উদ্ধার করেন।”

স্থানীয় বাসিন্দা রহমত মিয়া, স্বপনা শীল ও জাব্বার জানান, বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকা হওয়ায় শিয়াল সহজে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। শিশুরা ঘরের বাইরে যেতে ভয় পাচ্ছে। চাপাইর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুর নবী বলেন, “দিন যত যাচ্ছে শিয়ালের কামড়ে আহতের সংখ্যা বাড়ছে। পুরো এলাকা জুড়েই আতঙ্ক বিরাজ করছে।”

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দিদারুল আহসান জানান, বনাঞ্চলে খাদ্যাভাব দেখা দিলে শিয়াল লোকালয়ে প্রবেশ করতে পারে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের কারণে শিয়াল নিধন করা সম্ভব নয়; তবে এদের ধরে নিরাপদ স্থানে অপসারণ বা ভ্যাকসিনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ. এইচ. এম. ফখরুল হোসাইন বলেন, “বিষয়টি আমরা জেনেছি। পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এলাকাবাসী নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কালিয়াকৈরে শিয়ালের তান্ডব: ৩ দিনে শিশুসহ আহত অন্তত ২৫, জনমনে আতঙ্ক

প্রকাশিত : ০৯:০২:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের একাধিক এলাকায় বনাঞ্চল থেকে লোকালয়ে শিয়ালের উপদ্রব মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে।

স্থানীয়দের দাবি, গত তিন দিনে শিয়ালের আক্রমণে শিশুসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে একাধিক গবাদিপশুকেও কামড় দিয়েছে শিয়াল।

ঘটনার বিবরণ ও সরেজমিন চিত্র চিত্রায়ন করতে গিয়ে দেখা যায়, ধুলিগড়া, পামওয়েল বাজার ও গন্দেকচালা এলাকায় দিনের বিভিন্ন সময়ে শিয়ালের আনাগোনা বেড়েছে। রোববার সকালে পামওয়েল বাজার এলাকায় দেখা যায়, বাজারে আসা অধিকাংশ মানুষের হাতে নিরাপত্তার জন্য লাঠি রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বনের ভেতরের এলাকা থেকে একসঙ্গে দুই-তিনটি শিয়াল লোকালয়ে চলে আসছে এবং মানুষের উপস্থিতি টের পেলেই আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। ফলে বাজারে যাওয়া, মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া কিংবা দৈনন্দিন কাজে বের হতে আতঙ্ক কাজ করছে সবার মধ্যে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে বিদ্যালয়গামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

আহতদের মধ্যে আছিয়া (৩৫), দুখিল মাতবর (৬৫), দ্বীন ইসলাম (১২), মফিজ মাস্টার (৪০), শারমিন (৩৫), আলমাস (৩৮), আলী হোসেন (৩৫), মিম (৫) ও হরিদাসী (৬০)-সহ অন্তত ২৫ জন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

আক্রান্ত আলমাস হোসেন বলেন, “গরু আনতে বাড়ির নিচে গেলে হঠাৎ দুটি শিয়াল আমাকে আক্রমণ করে ১০ থেকে ১২ বার কামড় দেয়। ডাক-চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এসে আমাকে উদ্ধার করেন।”

স্থানীয় বাসিন্দা রহমত মিয়া, স্বপনা শীল ও জাব্বার জানান, বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকা হওয়ায় শিয়াল সহজে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। শিশুরা ঘরের বাইরে যেতে ভয় পাচ্ছে। চাপাইর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুর নবী বলেন, “দিন যত যাচ্ছে শিয়ালের কামড়ে আহতের সংখ্যা বাড়ছে। পুরো এলাকা জুড়েই আতঙ্ক বিরাজ করছে।”

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দিদারুল আহসান জানান, বনাঞ্চলে খাদ্যাভাব দেখা দিলে শিয়াল লোকালয়ে প্রবেশ করতে পারে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের কারণে শিয়াল নিধন করা সম্ভব নয়; তবে এদের ধরে নিরাপদ স্থানে অপসারণ বা ভ্যাকসিনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ. এইচ. এম. ফখরুল হোসাইন বলেন, “বিষয়টি আমরা জেনেছি। পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এলাকাবাসী নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।