ঢাকা ০৮:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

বরিশালে সবজিতে স্বস্তি, নাগালের বাইরে মাছ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৬:৫৫:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে
বরিশালের বাজারে মাছ কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও স্বস্তি ফেরেনি মাছের বাজারে। নদ-নদীতে দেশি প্রজাতির মাছের সরবরাহ কম থাকায় চাহিদা বেড়েছে চাষের মাছের। সেই সুযোগে সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে সবজির বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা থাকায় কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন ক্রেতারা।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডের মাছের বাজার ও বহুমুখী সিটি মার্কেটের পাইকারি সবজির বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
পোর্ট রোড মাছের বাজারে প্রতি কেজি পাবদা ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, রুই ২৮০ থেকে ৪৫০, কাতলা ২৮০ থেকে ৫০০, তেলাপিয়া ১৬০ থেকে ১৮০, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০, চাষের কৈ ২০০ থেকে ২২০ এবং দেশি কৈ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া চাষের শিং ৫০০ থেকে ৬০০, টেংরা ৫৫০ থেকে ৬৫০, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০, চিংড়ি ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ এবং কোরাল ৫০০ থেকে ৯৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে ইলিশের দাম ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত।
মাছের এমন চড়া দামে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। নগরীর বাংলাবাজারে বাজার করতে আসা রাসেল বলেন, কয়েক দিন ধরে সবজির দাম স্বাভাবিক থাকলেও মাছের বাজারে আগুন। নিজেদের নদ-নদীর মাছের দামও নাগালের বাইরে। সাধারণ মানুষ কী কিনে খাবে? এ জন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা দরকার।
সাইফুল নামের আরেক ক্রেতা বলেন, এক কেজি চিংড়ি মাছ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় কিনেছেন। এখন সেই মাছ ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে অন্যান্য মাছের দামও বেড়েছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী পছন্দের মাছ কিনতে না পেরে তেলাপিয়া ও পাঙাশের মতো মাছ কিনতে হচ্ছে।
বারেক নামের আরেক ক্রেতা বলেন, নিজেদের নদ-নদীর ইলিশও এখন কেনার সাধ্যের বাইরে। অন্যান্য মাছও কেনা যাচ্ছে না। চাষের পাঙাশ ও তেলাপিয়ার দামও দিন দিন বাড়ছে। তাঁর অভিযোগ, মাছের দাম বাড়ানো-কমানোর ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের কারসাজি রয়েছে।
পোর্ট রোডের পাইকারি মাছ বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, নদীর মাছের সরবরাহ কম থাকায় চাষের মাছের চাহিদা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দামে। সপ্তাহের ব্যবধানে আকার ও প্রকারভেদে বিভিন্ন মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
অন্যদিকে নগরীর বহুমুখী সিটি মার্কেটের পাইকারি সবজির বাজারে বেশির ভাগ পণ্যের দাম রয়েছে আগের মতোই। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৮০ টাকা, পটল ৩০, ঢেঁড়স ৪০, চিচিঙ্গা ৪০, ধুন্দল ৫০, ঝিঙা ৪০, করলা ৪০, ফুলকপি ৪০, বাঁধাকপি ৫৫, গাজর ৯০, পেঁপে ৬ থেকে ১০ এবং লাউ ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। তবে নতুন উঠতে শুরু করা শীতকালীন শিমের দাম কেজিপ্রতি ৯০ থেকে ১০০ টাকা।
পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে এসব সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে দেখা গেছে।
আমিন নামের এক ক্রেতা বলেন, বৃষ্টির মৌসুমে সরবরাহ কম থাকায় সবজির দাম বেশি ছিল। এখন আবার পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কথা বলে দাম বাড়তি রাখা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
বহুমুখী সিটি মার্কেটের পাইকারি সবজির ব্যবসায়ী আলামিন বলেন, পণ্যের দাম বাড়ানো বা কমানোর ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তেমন কোনো হাত নেই। তাঁরা যে দামে পণ্য কিনে আনেন, সে অনুযায়ী বিক্রি করেন।
এদিকে মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। কয়েক দিন ধরে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা, লেয়ার ৩৩০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে সবজিতে স্বস্তি, নাগালের বাইরে মাছ

প্রকাশিত : ০৬:৫৫:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
বরিশালের বাজারে মাছ কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও স্বস্তি ফেরেনি মাছের বাজারে। নদ-নদীতে দেশি প্রজাতির মাছের সরবরাহ কম থাকায় চাহিদা বেড়েছে চাষের মাছের। সেই সুযোগে সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে সবজির বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা থাকায় কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন ক্রেতারা।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডের মাছের বাজার ও বহুমুখী সিটি মার্কেটের পাইকারি সবজির বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
পোর্ট রোড মাছের বাজারে প্রতি কেজি পাবদা ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, রুই ২৮০ থেকে ৪৫০, কাতলা ২৮০ থেকে ৫০০, তেলাপিয়া ১৬০ থেকে ১৮০, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০, চাষের কৈ ২০০ থেকে ২২০ এবং দেশি কৈ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া চাষের শিং ৫০০ থেকে ৬০০, টেংরা ৫৫০ থেকে ৬৫০, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০, চিংড়ি ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ এবং কোরাল ৫০০ থেকে ৯৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে ইলিশের দাম ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত।
মাছের এমন চড়া দামে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। নগরীর বাংলাবাজারে বাজার করতে আসা রাসেল বলেন, কয়েক দিন ধরে সবজির দাম স্বাভাবিক থাকলেও মাছের বাজারে আগুন। নিজেদের নদ-নদীর মাছের দামও নাগালের বাইরে। সাধারণ মানুষ কী কিনে খাবে? এ জন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা দরকার।
সাইফুল নামের আরেক ক্রেতা বলেন, এক কেজি চিংড়ি মাছ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় কিনেছেন। এখন সেই মাছ ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে অন্যান্য মাছের দামও বেড়েছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী পছন্দের মাছ কিনতে না পেরে তেলাপিয়া ও পাঙাশের মতো মাছ কিনতে হচ্ছে।
বারেক নামের আরেক ক্রেতা বলেন, নিজেদের নদ-নদীর ইলিশও এখন কেনার সাধ্যের বাইরে। অন্যান্য মাছও কেনা যাচ্ছে না। চাষের পাঙাশ ও তেলাপিয়ার দামও দিন দিন বাড়ছে। তাঁর অভিযোগ, মাছের দাম বাড়ানো-কমানোর ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের কারসাজি রয়েছে।
পোর্ট রোডের পাইকারি মাছ বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, নদীর মাছের সরবরাহ কম থাকায় চাষের মাছের চাহিদা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দামে। সপ্তাহের ব্যবধানে আকার ও প্রকারভেদে বিভিন্ন মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
অন্যদিকে নগরীর বহুমুখী সিটি মার্কেটের পাইকারি সবজির বাজারে বেশির ভাগ পণ্যের দাম রয়েছে আগের মতোই। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৮০ টাকা, পটল ৩০, ঢেঁড়স ৪০, চিচিঙ্গা ৪০, ধুন্দল ৫০, ঝিঙা ৪০, করলা ৪০, ফুলকপি ৪০, বাঁধাকপি ৫৫, গাজর ৯০, পেঁপে ৬ থেকে ১০ এবং লাউ ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। তবে নতুন উঠতে শুরু করা শীতকালীন শিমের দাম কেজিপ্রতি ৯০ থেকে ১০০ টাকা।
পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে এসব সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে দেখা গেছে।
আমিন নামের এক ক্রেতা বলেন, বৃষ্টির মৌসুমে সরবরাহ কম থাকায় সবজির দাম বেশি ছিল। এখন আবার পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কথা বলে দাম বাড়তি রাখা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
বহুমুখী সিটি মার্কেটের পাইকারি সবজির ব্যবসায়ী আলামিন বলেন, পণ্যের দাম বাড়ানো বা কমানোর ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তেমন কোনো হাত নেই। তাঁরা যে দামে পণ্য কিনে আনেন, সে অনুযায়ী বিক্রি করেন।
এদিকে মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। কয়েক দিন ধরে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা, লেয়ার ৩৩০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।