পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালী শহরে জবাই করে মাংস বিক্রির প্রচারণা চালাতে ব্যস্ত সড়কে মহিষ নিয়ে ঘুরছিলেন বিক্রেতারা। একপর্যায়ে মহিষটি ক্ষিপ্ত হয়ে পথচারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে এক নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন বাঁধঘাট এলাকার গৃহবধূ জেসমিন বেগম (৩৫), একই এলাকার আল-আমিন (৫০) এবং সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা আজিজ ঘরামী (৩৫)। তাঁদের উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহরের কলাতলা এলাকায় শুক্রবার মহিষ জবাই করে মাংস বিক্রির ঘোষণা দিয়ে কয়েক দিন ধরে মহিষটি নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছিলেন বিক্রেতারা। বৃহস্পতিবার সকালেও মহিষটি নিয়ে শহরের ব্যস্ততম হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকায় প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছিল। একপর্যায়ে মহিষটি ক্ষিপ্ত হয়ে এক পথচারী নারীকে আক্রমণ করে। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আরও দুজন মহিষটির আক্রমণের শিকার হন।
এ সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যস্ত সড়কে থাকা লোকজন ছোটাছুটি শুরু করেন। পরে স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। ঘটনার পর মহিষটির মালিক ও সংশ্লিষ্ট মাংস বিক্রেতারা সেখান থেকে সরে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি সপ্তাহে, বিশেষ করে শুক্রবার সরকারি ছুটির দিনে, পটুয়াখালী শহরের বিভিন্ন স্থানে অনুমোদনহীনভাবে গবাদিপশু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। জবাইয়ের কয়েক দিন আগে থেকেই পশু নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে প্রচারণা চালানো হয়। এভাবে ব্যস্ত সড়কে বড় আকারের গবাদিপশু নিয়ে চলাচল করায় জননিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মহিষটি জব্দ করেছে। পরে সেটি স্থানীয় ব্যক্তিদের জিম্মায় রাখা হয়েছে। এ ঘটনার পাশাপাশি অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















