বেনাপোল প্রতিনিধি: কোন এককালে ফেরিওয়ালা বাসাবাড়ির পাশ দিয়ে হাঁকডাক দিত। তাদের কাছে থাকতো আলতা, চুড়ি, ফিতা, স্নো, পাউডার, লিপস্টিক, নেইলপলিশ থেকে শুরু করে সাজসজ্জার নানান উপকরণ, যা কিশোরী ও তরুণীদের আকৃষ্ট করতো। তাই এলাকায় ফেরিওয়ালার আগমন ঘটলেই কিশোরী ও তরুণীরা ছুটে গিয়ে ফেরিওয়ালাকে থামাতো।
গ্রামীণ সমাজে আজও হয়তো সেই ফেরিওয়ালাদের দেখা মিললেও নগর জীবনে তাদের খুঁজে পাওয়া ভার। সেকালে রোজকার দিনের প্রয়োজনে অথবা উৎসবে চলতো ফেরিওয়ালার কাছ থেকে কেনাকাটা। কালের আবর্তে এখন ফেরিওয়ালার আধুনিক ভার্সন অনলাইন শপিং।
আর বিভিন্ন ধরনের মেলা ও মীনাবাজারের প্রচলন তো বহু বছর ধরেই। তার সাথে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন ধরণের কসমেটিকস্ মার্কেট। ঈদের কেনাকাটায় এখন ভিড় জমছে শহরের বিপণীবিতান, অস্থায়ী বাজার ও পাড়া মহল্লার কসমেটিকস্ এর দোকানে।
শেষ হতে চললো সিয়াম সাধনার মাস রমজান। ঈদের আর কয়েকদিন বাকি। তাই কেনাকাটার এ পর্যায়ে যশোরের ঈদ বাজারে বিভিন্ন বয়সী নারী ও মেয়েরা ছুটছেন কসমেটিকস্ কিনতে। উৎসবের জমকালো সাজে পোশাক ও জুতার পাশাপাশি কসমেটিকস্ও সমান গুরুত্ব বহন করে। সুন্দর পোশাক পরিচ্ছদ ও জুতার পাশাপাশি কসমেটিকস এর ব্যবহার সাজে বাড়তি মাত্রা যোগ করে। তাই নারী ও মেয়েরা উৎসব আসলেই নিজেকে সাজাতে পোশাক ও জুতার পাশাপাশি সমান গুরুত্ব দেন কসমেটিকস্ এর প্রতি।

শহরের চুড়িপট্টি, সিটিপ্লাজা, জেস টাওয়ার, অস্থায়ী বাজার পুলিশ প্লাজাসহ বিভিন্ন বিপণীবিতানে শুরু হয়েছে কসমেটিকসের বেচাকেনা। তবে দেশি কিংবা বিদেশী কসমেটিকস্ বাড়তি দামে পিছিয়ে নেই এবারেও, এমনটাই বলছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে বিক্রেতারা জানান ব্যবসায়িক মন্দা যাবার কথা।
কোথায় কেমন দাম : চুড়িপট্টির বিভিন্ন দোকানে মেহেদী বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০টাকায়। পাঞ্চক্লিপ ৪০ থেকে ১০০টাকা। লিপস্টিক ১০০ থেকে ৮০০ টাকা। নেলপলিস ৫০ থেকে ১৫০ টাকা। মেকআপ ফাউন্ডেশন ২০০ থেকে ৬৫০ টাকা। আংটি ১০০থেকে ২০০টাকা। ব্রেসলেট ১৫০থেকে ২৫০টাকা। চুড়ি ১০০থেকে ২০০টাকা। মেটালের চুড়ি সেট ২৫০ থেকে ৫০০টাকা। পায়েল ১০০থেকে ৩০০টাকা। কানের দুল ২০০থেকে ৩৫০টাকা। জেস টাওয়ারে মেহেদী বিক্রি হচ্ছে ২০থেকে ২০০টাকায়। মেকআপ ফাউন্ডেশন ৩০০ থেকে ৯৫০টাকা। আইশ্যাডো ২০থেকে ৯০০টাকা। কমপ্যাক্ট পাউডার ১৫০থেকে ৮০০টাকা। লিপস্টিক ১০০থেকে ৫৫০টাকা। নেইলপলিশ ৫০থেকে ২৫০টাকা। ব্রেসলেট ৩৫০থেকে ৫০০টাকা। পায়েল ১৫০থেকে ২০০টাকা। পাঞ্চক্লিপ ৫০থেকে ২৫০টাকা। ইমিটিশনের আংটি ১৫০থেকে ৩৫০টাকা। কানের দুল ৫০থেকে ৩০০টাকা।
সিটিপ্লাজায় মেহেদী পাওয়া যাবে ৩০থেকে ৮০টাকায়। মেকআপ বক্স ৭০০থেকে দুই হাজার ৩০০টাকা। লিপস্টিক ১৫০থেকে ৫৫০টাকা। নেইলপলিশ ২০০থেকে ১৫০টাকা। ইমিটিশনের আংটি ৭০থেকে ৬৫০টাকা। পাঞ্চ ক্লিপ ও হেয়ারব্যান্ড ৫০থেকে ২৫০টাকা। কানের দুল ১২০থেকে ৭০০টাকা। চুড়ি সেট ১৫০থেকে এক হাজার ৮০০টাকা। নেকলেস সেট ৪০০থেকে সাত হাজার টাকা।
যা বলছেন ক্রেতা : চুড়ামনকাটি এলাকার উর্মি আক্তার বলেন, এবার দামটা বেশি মনে হচ্ছে, বাজেটে মিললে অনেককিছুই কিনবো। এয়ারপোর্ট এলাকার ফারিয়া জাহান বলেন, দাম যদিও বেশি, এমনকি মেহেদীর দামও কিছুটা বেড়েছে। তবু ঈদের সাজগোজে কসমেটিকস্ খুব জরুরি। আর.এন রোড নতুনবাজার এলাকার সুমনা সামাদ বলেন, সাজগোজের জিনিসপত্র দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়, সবই আছে তবু নতুন কিনতে মন চায়। বেজপাড়া এলাকার আলেয়া আক্তার বলেন, সাজতে পছন্দ করি তাই আমার সারাবছরই কসমেটিকস্ দরকার হয়, আর ঈদ হলেতো কথাই নেই।
যা বলছেন বিক্রেতারা : চুড়িপট্টির কসমেটিকস্ প্লাস এর বিক্রেতা আল আমিন বলেন, এবারে মন্দা যাচ্ছে, আজ ২০রোজা পার হয়ে গেলেও বেচাকেনা এখনো জমে ওঠেনি। অন্যবার সারাদিন আমরা কোন অবসরই পাই না। সাকিব স্টোরের বিক্রেতা সাব্বির হোসেন বলেন, মেহেদীর বিক্রি হচ্ছে, অন্য সব আইটেম তেমন হচ্ছে না। সামনের দিনগুলোতে বেচাকেনা বাড়ার আশা করছি। জেস টাওয়ারের ফালগুনী পার্লার কালেকশান এর স্বত্বাধিকারী জহিরুল ইসলাম বলেন, দুই তিনদিন হলো বেচাকেনা শুরু হয়েছে, এখনো জমে ওঠেনি।
সিটিপ্লাজার শুভেচ্ছা কসমেটিকস্ এর বিক্রেতা নাজমুল হোসেন বলেন, অন্যবার ২০রোজার পর থেকেই বেচাকেনা শুরু হয়, এবারে টুকটাক বেচাকেনা হচ্ছে। সিটিপ্লাজার স্টোনপ্লাস এর স্বত্বাধিকারী মোহম্মদ শাহরিয়ার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের যশোরের অনেক প্রবাসীরা থাকেন, যাদের অনেকেই এবারে টাকা পাঠাতে পারেননি। যে কারণে শুধু কসমেটিকস্ না, জামা কাপড়, জুতা স্যান্ডেল থেকে শুরু করে এবারে অন্যান্য পণ্যেরও বেচাকেনা কম হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























