নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও নান্দনিক প্রকাশনায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলা একাডেমি ‘শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান করেছে ঢাকার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাত্রা প্রকাশকে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী ডা. শামসুন্নাহার রত্না। এই স্বীকৃতি বাংলা একাডেমি কর্তৃক অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষে নান্দনিক প্রকাশনার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য প্রদান করা হয়েছে।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানটি বইমেলার প্যাভিলিয়নে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির হাতে ক্রেস্ট, সম্মাননাপত্র এবং নির্ধারিত অঙ্কের চেক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানটি ছিল শৃঙ্খলাপূর্ণ ও সজ্জিত, যেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, প্রকাশনা জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন সাংবাদিক।
মাত্রা প্রকাশ দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক বই প্রকাশের মাধ্যমে পাঠকসমাজে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি পাঠকদের জন্য শুধুমাত্র বই প্রকাশের কাজেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং নান্দনিক ও বৈচিত্র্যময় প্রকাশনার দিকেও নজর দিয়েছে। তাদের প্রকাশিত বইগুলো কেবল তথ্যবহুল নয়, বরং শিল্প ও নান্দনিক দিক থেকেও সমাদৃত।
ডা. শামসুন্নাহার রত্না, যিনি মাত্রা প্রকাশের স্বত্বাধিকারী, বলেন, “বাংলা একাডেমির এই স্বীকৃতি আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। আমাদের লক্ষ্য সবসময়ই ছিল এমন বই প্রকাশ করা যা পাঠককে জ্ঞান দেয়, মনন জাগায় এবং সংস্কৃতি ও নান্দনিকতাকে সমৃদ্ধ করে। এই পুরস্কার আমাদের সেই প্রচেষ্টাকে নতুন উৎসাহ যোগাচ্ছে।”
বাংলা একাডেমি দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন পুরস্কার দিয়ে আসছে। বিশেষ করে ‘শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ বাংলা প্রকাশনা ও সাহিত্য জগতে একটি মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য করা হয়। এই পুরস্কারের মাধ্যমে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত অবদানের প্রশংসা করা হয়, যা ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে।
মাত্রা প্রকাশ এর প্রকাশিত বইগুলো বিভিন্ন বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে। বাংলা সাহিত্য, ইতিহাস, সংস্কৃতি, শিশুতোষ বই এবং গবেষণাধর্মী লেখা প্রতিষ্ঠানটির মূল দিকনির্দেশনার মধ্যে রয়েছে। তাদের বইগুলোতে আধুনিক ছাপার প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাঠকদের জন্য বইকে আরও আকর্ষণীয় ও সহজলভ্য করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে পাঠক এবং লেখকদের মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।
বাংলা প্রকাশনা জগতের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মাত্রা প্রকাশ শুধুমাত্র একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করার একটি শৈল্পিক আন্দোলন। প্রতিষ্ঠানটি নতুন লেখক ও গবেষককে প্রজন্মের পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই কারণে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে তাদের এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার প্রদান করা অত্যন্ত স্বাভাবিক।

পুরস্কার প্রাপ্তির পর ডা. শামসুন্নাহার রত্না আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, একটি বই কেবল জ্ঞানের সংস্থান নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক ও নান্দনিক অভিজ্ঞতা। আমাদের প্রকাশনার লক্ষ্য পাঠককে সেই অভিজ্ঞতা পৌঁছে দেওয়া। এই পুরস্কার আমাদের প্রচেষ্টাকে আরও দৃঢ়ভাবে চালিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করছে।”
বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা। তারা মন্তব্য করেছেন যে, মাত্রা প্রকাশ বাংলা প্রকাশনা জগতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি কেবল বই প্রকাশে নয়, পাঠক ও লেখক উভয়ের জন্য সৃজনশীল ও প্রগতিশীল পরিবেশ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এই পুরস্কারের মাধ্যমে বাংলা একাডেমি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না, বরং পুরো প্রকাশনা জগতকে উৎসাহিত করছে। তারা চাইছেন, আরও প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির উন্নয়নে অবদান রাখুক। বিশেষ করে শিশুতোষ ও গবেষণাধর্মী বই প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাঠকরা প্রায়শই মন্তব্য করেন যে, মাত্রা প্রকাশ এর বইগুলো কেবল জ্ঞানের উৎস নয়, বরং সৃজনশীলতা ও নান্দনিকতার দিক থেকেও অনন্য। তাদের প্রকাশিত বইগুলোতে প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং পাঠককে মননশীল করে তোলার পাশাপাশি সাহিত্যিক সৌন্দর্যের অভিজ্ঞতাও দেয়।
বাংলা একাডেমির এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি নতুন উচ্চতা স্পর্শ করার প্রতীক। এটি শুধুমাত্র তাদের কৃতিত্বের স্বীকৃতি নয়, বরং আগামী দিনের প্রকাশনা জগতে তাদের আরও উন্নত ও সৃজনশীল পদক্ষেপের পথপ্রদর্শক।
শেষমেষ, মাত্রা প্রকাশ এর এই সাফল্য বাংলা প্রকাশনা জগতের জন্য গর্বের বিষয়। ডা. শামসুন্নাহার রত্না ও তার প্রতিষ্ঠানের এই অর্জন ভবিষ্যতে আরও বড় স্বীকৃতি ও উদ্ভাবনী প্রকাশনার পথে এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন, তাদের জন্য এই পুরস্কার প্রমাণ করে যে, সৃজনশীলতা ও নান্দনিক প্রচেষ্টা অবশ্যই সমাজে স্বীকৃতি পায়। মাত্রা প্রকাশ এর এই অর্জন নিঃসন্দেহে পাঠক, লেখক এবং প্রকাশক সকলের জন্য আনন্দের এবং অনুপ্রেরণার খোঁজার এক নতুন অধ্যায় খুলেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















