সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: হাওরবেষ্টিত জনপদের জেলা সুনামগঞ্জের চারদিকে অথৈ জলরাশি থাকলেও হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য এক ফোঁটা নিরাপদ পানীয় জল সংগ্রহ করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং প্রাকৃতিক উৎসগুলো দূষিত হওয়ার কারণে এই সংকট এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে নারী ও মেয়েশিশুরা পানি সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে গিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হচ্ছে।
সুপেয় পানির তীব্র সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনেরা। বিশ্ব পানি দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এএলআরডি (ALRD)-এর সহযোগিতায় এবং স্থানীয় সহযোগী সংস্থাসমূহের উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার সকালে জেলা শহরে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ১০টায় সুনামগঞ্জ শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পদ্মার নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান-এর সভাপতিত্বে এবং আরডিএসএ-এর নির্বাহী পরিচালক মিজানুল হক সরকার-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসভিডিএস-এর নির্বাহী পরিচালক মোঃ ওবায়দুল হক মিলন।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট কবি ও গবেষক সুখেন্দু সেন, গবেষক ইকবাল কাগজী, প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট খলিল রহমান।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের জেলা সভাপতি মো. রাজু আহমেদ, সহ-সভাপতি ওবায়দুল মুন্সী, সমাজসেবক নুরুল হক, আরপিডব্লিউএস-এর নির্বাহী পরিচালক নিজাম উদ্দিন, অনির্বাণ সংস্থার সভানেত্রী শিল্পী বেগম, চলন্তিকা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক জোৎস্না বেগম, নারী সংগঠক চম্পা বেগম এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ও মার্জিয়া বেগম।
আলোচনা সভা থেকে হাওরাঞ্চলের পানি সংকট নিরসনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হল, জলবায়ু সহনশীল পানির উৎস (গভীর নলকূপ ও রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং) বৃদ্ধি করা, হাওরের জলাশয় ও নদী দখল-দূষণ মুক্ত করা, পানি নীতিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ও নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ স্যানিটেশন ও পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















