বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের বয়সসীমা বৃদ্ধি করে ৩৪ বছর নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) এনডিএফ-এর দপ্তর সম্পাদক ডা. এ কে এম জিয়াউল হক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম এবং মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন।
এনডিএফ নেতৃবৃন্দ বলেন, চিকিৎসা শিক্ষা অন্যান্য সাধারণ শিক্ষার তুলনায় অধিক সময়সাপেক্ষ ও কঠোর পরিশ্রমনির্ভর। একজন শিক্ষার্থীকে এমবিবিএস সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়; এরপর ইন্টার্নশিপ, প্রশিক্ষণ এবং অনেক ক্ষেত্রে উচ্চতর শিক্ষার জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হয়। ফলে বর্তমান বিসিএস পরীক্ষার নির্ধারিত বয়সসীমার কারণে অনেক মেধাবী ও যোগ্য চিকিৎসক অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ইতিপূর্বে যখন অন্যান্য সরকারি চাকরির বয়সসীমা ৩০ বছর ছিল, তখন চিকিৎসকদের জন্য তা ৩২ বছর নির্ধারিত ছিল। পরবর্তীতে অন্যান্য চাকরির ক্ষেত্রে বয়সসীমা ৩২ বছরে উন্নীত করা হলেও—এমনকি এ-সংক্রান্ত বিল জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার পরও, চিকিৎসকদের বয়সসীমা সমন্বয় করে ৩৪ বছর নির্ধারণ করা হয়নি, যা চিকিৎসকদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের শামিল।
এনডিএফ মনে করে, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত চিকিৎসকদের সরকারি সেবায় অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিদ্যমান বয়সসীমা কাঠামোর কারণে অনেক সম্ভাবনাময় চিকিৎসক বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন না; যা একদিকে ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণ হচ্ছে, অন্যদিকে জাতীয় স্বাস্থ্য খাতও দক্ষ জনবল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, চিকিৎসকদের জন্য বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ করলে তারা তাদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এর ফলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় আরও দক্ষ, অভিজ্ঞ ও যোগ্য চিকিৎসক অন্তর্ভুক্ত হবেন, যা দেশের সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দেশের স্বাস্থ্য খাতের বাস্তবতা ও চিকিৎসা শিক্ষার দীর্ঘ সময়কাল বিবেচনায় নিয়ে সংগঠনটি এ দাবি উত্থাপন করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























