ঢাকা ০৬:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি সংকটে বোরো মৌসুমে তীব্র প্রভাব পড়েছে কৃষিতে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০২:৫৭:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে
মৌলভীবাজারে জ্বালানি সংকটে তীব্র প্রভাব পড়েছে কৃষিতে। জ্বালানি সংকটে আউশ ধান উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সাথে বোরো মৌসুমে ধান কাটা, মাড়াই ও পরিবহন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পরেছেন কৃষকেরা।
আউশ ধানের বীজতলা থেকে শুরু করে জমি ভাঙা, হাল চাষ একই সাথে বোরোধান কাটার জন্য যেসব মেশিন ব্যবহার হয় সব ডিজেল চালিত থাকায় এই সমস্যায় পড়তে হয়েছে কৃষকদের।
জানা যায়, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে জ্বালানি তেল কম পাওয়া যাচ্ছে। শহরের পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রি হলেও ছোট ছোট দোকানে তেল বিক্রি একেবারেই বন্ধ রয়েছে। এতে করে চলতি মৌসুমে আগাম বৃষ্টি হলেও কৃষকেরা আউশ ধানের বীজতলা ও জমি ভাঙাতে পারছেন না। কারণ, ডিজেল চালিত কৃষি যন্ত্র থাকায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। একই সমস্যা বোরোধানেও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হাওর এলাকায় বোরোধান কাটার সময় হলেও ধান কাটার হারভেস্টর মেশিন, মাড়াইয়ের মেশিন এবং পরিবহনের যানবাহন ডিজেলচালিত হওয়ায় জ্বালানির অভাবে কৃষকরা সময়মতো ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।
আউশ ধান চাষীরা জানান, এ বছর চৈত্র মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। এখনও বৃষ্টি হচ্ছে। আউশের বীজতলা তৈরি করার সঠিক সময় একই সাথে জমি চাষের জন্য প্রথমে ভাঙাতে হয়। তবে ডিজেল সংকট হওয়ার কারণে ট্রাক্টর চালাতে পারছেন না মালিকেরা।
বোরো চাষীরা জানান, বৈশাখের শুরু থেকেই হাওরে ধান কাটা শুরু হয়েছে। হাওরে একসাথেই ধান কাটা হয়। তবে ধান কাটার জন্য তেল সংকটে হারভেস্টর মেশিন, মাড়াইয়ের মেশিন এবং পরিবহনের যানবাহন পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় আউশধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮ হাজার ৫০০ হেক্টর। আর বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর। চলতি মৌসুমে আউশ ধান আবাদের জন্য ৫৪ হাজার কৃষককে সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। হাওরে পুরাদস্তুর বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে।
রাজনগর উপজেলার হারভেস্টর মেশিনের মালিক জুবের আহমদ বলেন, এই সময়ে আমার মেশিন হাওরে ধান কাটার কথা। তবে তেল সংকটে এখনও হাওরে যেতে পারিনি। একটা মেশিন চালাতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৮০-১০০ লিটার তেলের প্রয়োজন। এই তেল কই থেকে পাব।
রাজনগর উপজেলার আলমাস মিয়া নামে এক কৃষক বলেন, আমি কাউয়াদিঘী হাওরে বোরোধান চাষ করছি। আমার ধান পেকে এসেছে। ধান কাটার জন্য মানুষ পাচ্ছি না। আবার তেল সংকটে মেশিন এখনও আসেনি। পরিবহনের জন্য গাড়ি সংকট। সবমিলিয়ে মহা বিপদে পড়ে গেছি ধান নিয়ে।
মিজান আহমেদ নামে এক কৃষক বলেন, আমরা আউশধানের বীজ তলা করার জন্য কোথাও ট্রাক্টর পাচ্ছি না। যাদের আছে, সবার সাথে যোগাযোগ করেছি। সবাই বলছে, তাদের তেল নেই।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, জ্বালানি সংকটের সমস্যা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা কথা বলছি পেট্রোল পাম্প মালিকদের সঙ্গে। এখন বোরোধান কাটার সময়, হাওরে পুরোদমে ধান কাটা চলছে। একই সাথে আউশধানের বীজতলা তৈরি করার সঠিক সময়।
জনপ্রিয় সংবাদ

পটুয়াখালী রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ¯স্নেহাংশু সরকার

জ্বালানি সংকটে বোরো মৌসুমে তীব্র প্রভাব পড়েছে কৃষিতে

প্রকাশিত : ০২:৫৭:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
মৌলভীবাজারে জ্বালানি সংকটে তীব্র প্রভাব পড়েছে কৃষিতে। জ্বালানি সংকটে আউশ ধান উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সাথে বোরো মৌসুমে ধান কাটা, মাড়াই ও পরিবহন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পরেছেন কৃষকেরা।
আউশ ধানের বীজতলা থেকে শুরু করে জমি ভাঙা, হাল চাষ একই সাথে বোরোধান কাটার জন্য যেসব মেশিন ব্যবহার হয় সব ডিজেল চালিত থাকায় এই সমস্যায় পড়তে হয়েছে কৃষকদের।
জানা যায়, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে জ্বালানি তেল কম পাওয়া যাচ্ছে। শহরের পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রি হলেও ছোট ছোট দোকানে তেল বিক্রি একেবারেই বন্ধ রয়েছে। এতে করে চলতি মৌসুমে আগাম বৃষ্টি হলেও কৃষকেরা আউশ ধানের বীজতলা ও জমি ভাঙাতে পারছেন না। কারণ, ডিজেল চালিত কৃষি যন্ত্র থাকায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। একই সমস্যা বোরোধানেও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হাওর এলাকায় বোরোধান কাটার সময় হলেও ধান কাটার হারভেস্টর মেশিন, মাড়াইয়ের মেশিন এবং পরিবহনের যানবাহন ডিজেলচালিত হওয়ায় জ্বালানির অভাবে কৃষকরা সময়মতো ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।
আউশ ধান চাষীরা জানান, এ বছর চৈত্র মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। এখনও বৃষ্টি হচ্ছে। আউশের বীজতলা তৈরি করার সঠিক সময় একই সাথে জমি চাষের জন্য প্রথমে ভাঙাতে হয়। তবে ডিজেল সংকট হওয়ার কারণে ট্রাক্টর চালাতে পারছেন না মালিকেরা।
বোরো চাষীরা জানান, বৈশাখের শুরু থেকেই হাওরে ধান কাটা শুরু হয়েছে। হাওরে একসাথেই ধান কাটা হয়। তবে ধান কাটার জন্য তেল সংকটে হারভেস্টর মেশিন, মাড়াইয়ের মেশিন এবং পরিবহনের যানবাহন পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় আউশধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮ হাজার ৫০০ হেক্টর। আর বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর। চলতি মৌসুমে আউশ ধান আবাদের জন্য ৫৪ হাজার কৃষককে সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। হাওরে পুরাদস্তুর বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে।
রাজনগর উপজেলার হারভেস্টর মেশিনের মালিক জুবের আহমদ বলেন, এই সময়ে আমার মেশিন হাওরে ধান কাটার কথা। তবে তেল সংকটে এখনও হাওরে যেতে পারিনি। একটা মেশিন চালাতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৮০-১০০ লিটার তেলের প্রয়োজন। এই তেল কই থেকে পাব।
রাজনগর উপজেলার আলমাস মিয়া নামে এক কৃষক বলেন, আমি কাউয়াদিঘী হাওরে বোরোধান চাষ করছি। আমার ধান পেকে এসেছে। ধান কাটার জন্য মানুষ পাচ্ছি না। আবার তেল সংকটে মেশিন এখনও আসেনি। পরিবহনের জন্য গাড়ি সংকট। সবমিলিয়ে মহা বিপদে পড়ে গেছি ধান নিয়ে।
মিজান আহমেদ নামে এক কৃষক বলেন, আমরা আউশধানের বীজ তলা করার জন্য কোথাও ট্রাক্টর পাচ্ছি না। যাদের আছে, সবার সাথে যোগাযোগ করেছি। সবাই বলছে, তাদের তেল নেই।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, জ্বালানি সংকটের সমস্যা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা কথা বলছি পেট্রোল পাম্প মালিকদের সঙ্গে। এখন বোরোধান কাটার সময়, হাওরে পুরোদমে ধান কাটা চলছে। একই সাথে আউশধানের বীজতলা তৈরি করার সঠিক সময়।