ঢাকা ০৯:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

বৈশাখের আগুনরঙা হাসি কৃষ্ণচূড়ায় লাল হয়ে উঠেছে গ্রামীণ পথঘাট

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৬:৪৩:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: গ্রীষ্মের দহনজ্বালা যখন জনজীবনকে ক্লান্ত করে তোলে, ঠিক তখনই প্রকৃতি যেন নিজের তুলিতে আঁকে এক অনন্য রঙের ছবি। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এখন সেই ছবিরই জীবন্ত রূপ চারপাশ জুড়ে দাউদাউ করে ফুটেছে কৃষ্ণচূড়া। সবুজ পাতার ফাঁকে উজ্জ্বল লাল ফুল যেন আগুন হয়ে জ্বলছে, আর সেই আগুনেই প্রাণ ফিরে পেয়েছে গ্রামীণ মেঠোপথ।
কুয়াকাটা মহাসড়ক ধরে এগোলে চোখে পড়ে লাল ফুলের সারি। কলাপাড়া পৌরসভা চত্বর থেকে শুরু করে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম, সবখানেই এখন কৃষ্ণচূড়ার রঙিন ছোঁয়া। দূর থেকে মনে হয়, বৈশাখের তপ্ত রোদ যেন মাটিতে নেমে এসে ফুল হয়ে ফুটেছে। প্রকৃতির এই অপূর্ব সাজ যেন শিল্পীর আঁকা ক্যানভাস।
এই সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন পথচারী থেকে শুরু করে পর্যটকরা। অনেকেই থেমে যাচ্ছেন, ক্যামেরাবন্দি করছেন মুহূর্তগুলো। স্থানীয় তরুণ-তরুণীরা স্মার্টফোনে ধারণ করা সেই দৃশ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। প্রকৃতির রঙিন বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে দূর-দূরান্তে।


স্থানীয়দের ভাষ্য, গরমের এই নিরস সময়ে কৃষ্ণচূড়া প্রকৃতিকে দিয়েছে নতুন প্রাণ। সবুজের মাঝে রক্তিম ফুল মনকে করে তোলে প্রফুল্ল। কড়া রোদ কিংবা বৃষ্টির পর রৌদ্রোজ্জ্বল বিকেলে এই ফুলের সৌন্দর্য যেন আরও দ্বিগুণ হয়ে ওঠে।
তবে আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে এক ধরনের শঙ্কাও। দর্শনার্থীরা বলছেন, দিন দিন কমে যাচ্ছে এই রঙিন গাছের সংখ্যা। তাই প্রকৃতির ভারসাম্য ও সৌন্দর্য রক্ষায় বেশি করে কৃষ্ণচূড়া রোপণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
উদ্ভিদবিদদের মতে, কৃষ্ণচূড়ার আরেক নাম গুলমোহর, যার বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া। লাল, হলুদ ও সাদা,তিন রঙের এই ফুলের মধ্যে সাদা কৃষ্ণচূড়া সবচেয়ে দস্প্রাপ্য।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পাশে দাঁড়াই’-এর সভাপতি নয়নাভিরাম গাইন নয়ন জানান, আন্ধার মানিক নদীর ওপর নির্মিত সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় সারি সারি কৃষ্ণচূড়া গাছ ইতোমধ্যেই তৈরি করেছে সেলফির জনপ্রিয় স্পট। এই সৌন্দর্য আরও বাড়াতে সংগঠনের পক্ষ থেকে সড়কের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে নওভাঙ্গা ছালেহিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক মো. ইভান মাতব্বর বলেন, বন বিভাগের সহায়তায় গত বছর যে গাছগুলো রোপণ করা হয়েছে, সেগুলো বড় হয়ে উঠলে কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের জন্য এটি হয়ে উঠবে আরও আকর্ষণীয় এক দর্শনীয় স্থান।
মহিপুর মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক চঞ্চল সাহা বলেন, “গ্রীষ্মে প্রকৃতি তার নিজস্ব ছন্দে ফিরে আসে। নতুন পাতা, ফুল আর ফলে ভরে ওঠে চারদিক। তার মধ্যে কৃষ্ণচূড়ার এই লাল রঙ যেন প্রকৃতির হাসি।”
প্রকৃতির এই রঙিন হাসি যেন শুধু চোখ জুড়ায় না, মনে জাগায় নতুন আশাও, যদি আমরা যতেœ রাখি, তবে এই লাল আগুনরঙা সৌন্দর্য আরও বহুদিন বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব।

বরিশালে কৃষি প্রযুক্তি ও পুষ্টিমেলার উদ্বোধণ

বৈশাখের আগুনরঙা হাসি কৃষ্ণচূড়ায় লাল হয়ে উঠেছে গ্রামীণ পথঘাট

প্রকাশিত : ০৬:৪৩:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: গ্রীষ্মের দহনজ্বালা যখন জনজীবনকে ক্লান্ত করে তোলে, ঠিক তখনই প্রকৃতি যেন নিজের তুলিতে আঁকে এক অনন্য রঙের ছবি। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এখন সেই ছবিরই জীবন্ত রূপ চারপাশ জুড়ে দাউদাউ করে ফুটেছে কৃষ্ণচূড়া। সবুজ পাতার ফাঁকে উজ্জ্বল লাল ফুল যেন আগুন হয়ে জ্বলছে, আর সেই আগুনেই প্রাণ ফিরে পেয়েছে গ্রামীণ মেঠোপথ।
কুয়াকাটা মহাসড়ক ধরে এগোলে চোখে পড়ে লাল ফুলের সারি। কলাপাড়া পৌরসভা চত্বর থেকে শুরু করে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম, সবখানেই এখন কৃষ্ণচূড়ার রঙিন ছোঁয়া। দূর থেকে মনে হয়, বৈশাখের তপ্ত রোদ যেন মাটিতে নেমে এসে ফুল হয়ে ফুটেছে। প্রকৃতির এই অপূর্ব সাজ যেন শিল্পীর আঁকা ক্যানভাস।
এই সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন পথচারী থেকে শুরু করে পর্যটকরা। অনেকেই থেমে যাচ্ছেন, ক্যামেরাবন্দি করছেন মুহূর্তগুলো। স্থানীয় তরুণ-তরুণীরা স্মার্টফোনে ধারণ করা সেই দৃশ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। প্রকৃতির রঙিন বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে দূর-দূরান্তে।


স্থানীয়দের ভাষ্য, গরমের এই নিরস সময়ে কৃষ্ণচূড়া প্রকৃতিকে দিয়েছে নতুন প্রাণ। সবুজের মাঝে রক্তিম ফুল মনকে করে তোলে প্রফুল্ল। কড়া রোদ কিংবা বৃষ্টির পর রৌদ্রোজ্জ্বল বিকেলে এই ফুলের সৌন্দর্য যেন আরও দ্বিগুণ হয়ে ওঠে।
তবে আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে এক ধরনের শঙ্কাও। দর্শনার্থীরা বলছেন, দিন দিন কমে যাচ্ছে এই রঙিন গাছের সংখ্যা। তাই প্রকৃতির ভারসাম্য ও সৌন্দর্য রক্ষায় বেশি করে কৃষ্ণচূড়া রোপণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
উদ্ভিদবিদদের মতে, কৃষ্ণচূড়ার আরেক নাম গুলমোহর, যার বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া। লাল, হলুদ ও সাদা,তিন রঙের এই ফুলের মধ্যে সাদা কৃষ্ণচূড়া সবচেয়ে দস্প্রাপ্য।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পাশে দাঁড়াই’-এর সভাপতি নয়নাভিরাম গাইন নয়ন জানান, আন্ধার মানিক নদীর ওপর নির্মিত সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় সারি সারি কৃষ্ণচূড়া গাছ ইতোমধ্যেই তৈরি করেছে সেলফির জনপ্রিয় স্পট। এই সৌন্দর্য আরও বাড়াতে সংগঠনের পক্ষ থেকে সড়কের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে নওভাঙ্গা ছালেহিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক মো. ইভান মাতব্বর বলেন, বন বিভাগের সহায়তায় গত বছর যে গাছগুলো রোপণ করা হয়েছে, সেগুলো বড় হয়ে উঠলে কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের জন্য এটি হয়ে উঠবে আরও আকর্ষণীয় এক দর্শনীয় স্থান।
মহিপুর মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক চঞ্চল সাহা বলেন, “গ্রীষ্মে প্রকৃতি তার নিজস্ব ছন্দে ফিরে আসে। নতুন পাতা, ফুল আর ফলে ভরে ওঠে চারদিক। তার মধ্যে কৃষ্ণচূড়ার এই লাল রঙ যেন প্রকৃতির হাসি।”
প্রকৃতির এই রঙিন হাসি যেন শুধু চোখ জুড়ায় না, মনে জাগায় নতুন আশাও, যদি আমরা যতেœ রাখি, তবে এই লাল আগুনরঙা সৌন্দর্য আরও বহুদিন বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব।