মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শান্তি আলোচনার প্রস্তাবের বিপরীতে পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে নিজেদের জবাব পাঠিয়ে দিয়েছে ইরান। রোববার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। একই সময়ে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি দিয়ে দুটি বিশাল জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের কাছে পাঠানো এই জবাবে ইরান সব ফ্রন্টে, বিশেষ করে লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়েছে। তবে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ কখন কিংবা কীভাবে পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি তেহরান।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার আগে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের এই জবাবের প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখনো কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত সপ্তাহে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের পর গত ৪৮ ঘণ্টা পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও রোববার কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের আকাশে ‘শত্রু পক্ষের’ ড্রোন শনাক্ত হয়েছে। এক মাস আগে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও এসব ড্রোন ওই অঞ্চলের নিরাপত্তাহীনতাকে সামনে এনেছে।
জাহাজ চলাচলের তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার বলছে, রোববার কাতার এনার্জির ‘আল খারাইতিয়াত’ নামের একটি জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে পাকিস্তানের কাসিম বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর এটিই প্রথম কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজ; যা ওই প্রণালি অতিক্রম করল।
গ্যাসের অভাবে পাকিস্তানে বিদ্যুৎ সংকটের প্রেক্ষাপটে এই সরবরাহ দেশটিকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার ও পাকিস্তানের সঙ্গে আস্থা তৈরির অংশ হিসেবে ইরান এই জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।
এ ছাড়া পানামার পতাকাবাহী ও ব্রাজিলগামী একটি পণ্যবাহী জাহাজও ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর নির্ধারিত রুট ব্যবহার করে সফলভাবে প্রণালি পার হয়েছে। এর আগে ৪ মে জাহাজটি পার হওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিল।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















