ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

অধিকাল ভাতা পুনর্বহালের দাবিতে বেনাপোল বন্দরে কর্মচারীদের কর্মবিরতি, থমকে যায় আমদানি-রপ্তানিরগতি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১২:০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে
বেনাপোল (শার্শা) প্রতিনিধি: অধিকাল ভাতা পুনর্বহালের দাবিতে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
রবিবার (১০ মে) বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এ কর্মবিরতি পালন করা হয়। একইসঙ্গে বন্দরের কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনের প্রভাবে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দেয় এবং বন্দরজুড়ে অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়।
বিকেল ৫টার দিকে শুরু হওয়া মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন বেনাপোল স্থলবন্দরে কর্মরত বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় বন্দরে প্রবেশ ও পণ্য খালাস কার্যক্রম ব্যাহত হয়। টার্মিনাল এলাকায় একের পর এক পণ্যবাহী ট্রাক আটকে থাকতে দেখা যায়। ফলে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পাসপোর্ট যাত্রী চলাচলেও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
আন্দোলনরত কর্মচারীরা জানান, হঠাৎ বিনা মেঘে বজ্রাঘাতের মতো অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রবিধি-৩ শাখা থেকে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন বন্দরের কর্মচারীদের অধিকাল ভাতা (ওভারটাইম) বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও তারা কোনো ধরনের অধিকাল ভাতা পাচ্ছেন না।
আন্দোলনরত কর্মচারী নাহিদ বলেন, “বেনাপোল বন্দরের কার্যক্রম শুধু নির্ধারিত অফিস সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভারত-বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখতে প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। অনেক সময় সরকারি ছুটি ও ঈদের দিনেও কাজ করতে হয়। অথচ অতিরিক্ত শ্রমের ন্যায্য মূল্য থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।”
বিক্ষোভ সমাবেশে বন্দর কর্মচারী শাহাদৎ বলেন, “অধিকাল ভাতা বন্ধ থাকায় কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ বাড়ছে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে পরিবার পরিজন নিয়ে চলা খুবই কস্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি সমাধানে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত অধিকাল ভাতা পুনর্বহাল ও বকেয়া ভাতা পরিশোধ করতে হবে।”
বেনাপোল স্থলবন্দর কর্মচারী দাবি আদায় পরিষদের আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান মিয়া বলেন, “দাবি আদায় না হলে ১১ মে আবারও বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করা হবে। প্রয়োজনে পর্যায়ক্রমে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এমনকি আগামী রবিবার থেকে লাগাতার অফিস সময়ের বাইরে দায়িত্ব পালন থেকেও বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।”
তিনি আরও জানান, একই দাবিতে দেশের অন্যান্য স্থলবন্দরেও একযোগে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। অধিকাল ভাতা বন্ধ থাকায় কর্মচারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করা হলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
বেনাপোল বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থলবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন, খালাস কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচলে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পিস্তল ও গুলিসহ আটক ৩ সাভারে

অধিকাল ভাতা পুনর্বহালের দাবিতে বেনাপোল বন্দরে কর্মচারীদের কর্মবিরতি, থমকে যায় আমদানি-রপ্তানিরগতি

প্রকাশিত : ১২:০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
বেনাপোল (শার্শা) প্রতিনিধি: অধিকাল ভাতা পুনর্বহালের দাবিতে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
রবিবার (১০ মে) বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এ কর্মবিরতি পালন করা হয়। একইসঙ্গে বন্দরের কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনের প্রভাবে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দেয় এবং বন্দরজুড়ে অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়।
বিকেল ৫টার দিকে শুরু হওয়া মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন বেনাপোল স্থলবন্দরে কর্মরত বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় বন্দরে প্রবেশ ও পণ্য খালাস কার্যক্রম ব্যাহত হয়। টার্মিনাল এলাকায় একের পর এক পণ্যবাহী ট্রাক আটকে থাকতে দেখা যায়। ফলে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পাসপোর্ট যাত্রী চলাচলেও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
আন্দোলনরত কর্মচারীরা জানান, হঠাৎ বিনা মেঘে বজ্রাঘাতের মতো অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রবিধি-৩ শাখা থেকে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন বন্দরের কর্মচারীদের অধিকাল ভাতা (ওভারটাইম) বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও তারা কোনো ধরনের অধিকাল ভাতা পাচ্ছেন না।
আন্দোলনরত কর্মচারী নাহিদ বলেন, “বেনাপোল বন্দরের কার্যক্রম শুধু নির্ধারিত অফিস সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভারত-বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখতে প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। অনেক সময় সরকারি ছুটি ও ঈদের দিনেও কাজ করতে হয়। অথচ অতিরিক্ত শ্রমের ন্যায্য মূল্য থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।”
বিক্ষোভ সমাবেশে বন্দর কর্মচারী শাহাদৎ বলেন, “অধিকাল ভাতা বন্ধ থাকায় কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ বাড়ছে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে পরিবার পরিজন নিয়ে চলা খুবই কস্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি সমাধানে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত অধিকাল ভাতা পুনর্বহাল ও বকেয়া ভাতা পরিশোধ করতে হবে।”
বেনাপোল স্থলবন্দর কর্মচারী দাবি আদায় পরিষদের আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান মিয়া বলেন, “দাবি আদায় না হলে ১১ মে আবারও বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করা হবে। প্রয়োজনে পর্যায়ক্রমে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এমনকি আগামী রবিবার থেকে লাগাতার অফিস সময়ের বাইরে দায়িত্ব পালন থেকেও বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।”
তিনি আরও জানান, একই দাবিতে দেশের অন্যান্য স্থলবন্দরেও একযোগে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। অধিকাল ভাতা বন্ধ থাকায় কর্মচারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করা হলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
বেনাপোল বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থলবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন, খালাস কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচলে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।