ঢাকা ১২:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

তিন ব্যাংকে ব্যবসায়ীর ১৬২ কোটি টাকার এফডিআরের খোঁজ, নথি তলব

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৯:২২:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি মামলার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আসামি ও ৫ আগস্ট পরবর্তী সমালোচিত ব্যবসায়ী মেসার্স মুরাদ এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. গোলাম সরোয়ার চৌধুরী নামে দেশের তিন ব্যাংকে ১৬২ কোটি টাকার এফডিআরের খোঁজ মিলেছে।

তদন্তের প্রয়োজনে ইউনিয়ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামে ব্যাংকগুলোর শাখার রেকর্ডপত্র তলব করে চিঠি দিয়েছে দুদক। সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় থেকে ব্যাংকগুলো এমডি বরাবর পাঠানো পৃথক চিঠিতে রেকর্ডপত্র আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে বলে জানা গেছে।

রোববার (১২ জুলাই) দুদকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মূলত ঋণের টাকা পরিশোধ না করে বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআরসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধারের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দুদকের তলবি চিঠির সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে মেসার্স মুরাদ এন্টারপ্রাইজের নামে থাকা এমটিডিআর বা মেয়াদি আমানত সংক্রান্ত সব নথিপত্র তলব করে আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে দাখিল করার জন্য পৃথক পৃথক চিঠি দিয়েছে তদন্ত কর্মকর্তা।

তলবকৃত নথির মধ্যে রয়েছে- ইউনিয়ন ব্যাংকের চট্টগ্রামের দেওয়ানবাজার শাখা, লালদিঘী শাখা ও ঈদগাহ শাখায় ৭০ কোটি টাকার এমটিডিআর, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রাম বিভাগের মোহরা শাখা, খাতুনগঞ্জ শাখা, পাঁচলাইশ শাখা, প্রবর্তক মোড় শাখা ও খুলশী শাখায় ১২ কোটি টাকার এফডিআর এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও আগ্রাবাদ শাখায় ৮০ কোটি টাকার এমটিডিআরের সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে।

ওই মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২১ সালের নভেম্বরে এস আলম–সংশ্লিষ্ট মেসার্স মুরাদ এন্টারপ্রাইজের মালিক গোলাম সরওয়ার চৌধুরী চট্টগ্রামের ইসলামী ব্যাংকের চাক্তাই শাখায় ঋণের জন্য আবেদন করেন। পরের মাসে শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা অনুমোদন করেন। মিথ্যা তথ্যের ওপর জাল কাগজে এ ঋণের জন্য আবেদন করে মুরাদ এন্টারপ্রাইজ। পরে এ ঋণ অনুমোদন করা হয়। কোনো প্রকার যাচাই না করেই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাংকের কর্মকর্তারা পরস্পর যোগসাজশে এ ঋণ অনুমোদন করেন। প্রথমে ৮৯০ কোটি টাকা ঋণের জন্য আবেদন করা হলেও পরে সেটা ১ হাজার ১০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। মুরাদ এন্টারপ্রাইজ যে বিনিয়োগের কথা বলে ঋণ নিয়েছিল, তা না করে অন্য এক শিল্প গ্রুপের ব্যবসার ঋণ পরিশোধে তা ব্যবহার করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

তিন ব্যাংকে ব্যবসায়ীর ১৬২ কোটি টাকার এফডিআরের খোঁজ, নথি তলব

প্রকাশিত : ০৯:২২:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি মামলার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আসামি ও ৫ আগস্ট পরবর্তী সমালোচিত ব্যবসায়ী মেসার্স মুরাদ এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. গোলাম সরোয়ার চৌধুরী নামে দেশের তিন ব্যাংকে ১৬২ কোটি টাকার এফডিআরের খোঁজ মিলেছে।

তদন্তের প্রয়োজনে ইউনিয়ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামে ব্যাংকগুলোর শাখার রেকর্ডপত্র তলব করে চিঠি দিয়েছে দুদক। সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় থেকে ব্যাংকগুলো এমডি বরাবর পাঠানো পৃথক চিঠিতে রেকর্ডপত্র আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে বলে জানা গেছে।

রোববার (১২ জুলাই) দুদকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মূলত ঋণের টাকা পরিশোধ না করে বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআরসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধারের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দুদকের তলবি চিঠির সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে মেসার্স মুরাদ এন্টারপ্রাইজের নামে থাকা এমটিডিআর বা মেয়াদি আমানত সংক্রান্ত সব নথিপত্র তলব করে আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে দাখিল করার জন্য পৃথক পৃথক চিঠি দিয়েছে তদন্ত কর্মকর্তা।

তলবকৃত নথির মধ্যে রয়েছে- ইউনিয়ন ব্যাংকের চট্টগ্রামের দেওয়ানবাজার শাখা, লালদিঘী শাখা ও ঈদগাহ শাখায় ৭০ কোটি টাকার এমটিডিআর, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রাম বিভাগের মোহরা শাখা, খাতুনগঞ্জ শাখা, পাঁচলাইশ শাখা, প্রবর্তক মোড় শাখা ও খুলশী শাখায় ১২ কোটি টাকার এফডিআর এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও আগ্রাবাদ শাখায় ৮০ কোটি টাকার এমটিডিআরের সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে।

ওই মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২১ সালের নভেম্বরে এস আলম–সংশ্লিষ্ট মেসার্স মুরাদ এন্টারপ্রাইজের মালিক গোলাম সরওয়ার চৌধুরী চট্টগ্রামের ইসলামী ব্যাংকের চাক্তাই শাখায় ঋণের জন্য আবেদন করেন। পরের মাসে শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা অনুমোদন করেন। মিথ্যা তথ্যের ওপর জাল কাগজে এ ঋণের জন্য আবেদন করে মুরাদ এন্টারপ্রাইজ। পরে এ ঋণ অনুমোদন করা হয়। কোনো প্রকার যাচাই না করেই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাংকের কর্মকর্তারা পরস্পর যোগসাজশে এ ঋণ অনুমোদন করেন। প্রথমে ৮৯০ কোটি টাকা ঋণের জন্য আবেদন করা হলেও পরে সেটা ১ হাজার ১০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। মুরাদ এন্টারপ্রাইজ যে বিনিয়োগের কথা বলে ঋণ নিয়েছিল, তা না করে অন্য এক শিল্প গ্রুপের ব্যবসার ঋণ পরিশোধে তা ব্যবহার করা হয়।