ফেনীতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেডের সাবেক বিক্রয় সহকারী খালেদ সাইফুল্লাহ টিপুকে আট বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে। এ ছাড়া জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্জিত ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮ টাকা মূল্যের সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এ রায় দেন।
অভিযুক্ত খালেদ সাইফুল্লাহ টিপু ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার বক্তারমুন্সী রাজাপুর এলাকার মৃত আবুল হোসেন কানুনগোর ছেলে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নোয়াখালীর পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জহির উদ্দিন এসব তথ্য জানান।
দুদক সূত্রে জানা যায়, খালেদ সাইফুল্লাহ টিপু ২০০০ সালের ২৩ নভেম্বর থেকে ২০০৪ সালের ১৪ জুলাই পর্যন্ত বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেডের গৌরীপুর কার্যালয়ে বিক্রয় সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি ১৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭১৮ টাকা ব্যয়ে ৫১৯ দশমিক ৩৭ শতক জমি কেনেন। একইসঙ্গে একটি বাড়ি নির্মাণে ৩৪ লাখ ১৭ হাজার ৪৯১ টাকা ব্যয় দেখান। তবে প্রকৌশলীর মূল্যায়নে ওই বাড়ির নির্মাণ ব্যয় পাওয়া যায় ৬১ লাখ ৭ হাজার ৯৯ টাকা। এতে নির্মাণ ব্যয়ের ২৬ লাখ ৮৯ হাজার ৬০৮ টাকার কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি।
এ ছাড়া ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার রামপুর মৌজায় একটি তিনতলা মার্কেট নির্মাণে ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়। দুদকের তদন্তে বাড়ি ও মার্কেট নির্মাণসহ অন্যান্য সম্পদের হিসাব পর্যালোচনা করে খালেদ সাইফুল্লাহ টিপুর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া যায়। তদন্ত শেষে দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. মশিউর রহমান তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় তাকে তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং ২৭(১) ধারায় পাঁচ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও আরও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।
দুদকের নোয়াখালীর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জহির উদ্দিন বলেন, তার বিরুদ্ধে পৃথক দুই ধারায় দেওয়া সাজার মোট মেয়াদ ৮ বছর। একইসঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। পাশাপাশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্জিত ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮ টাকা মূল্যের সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















