ঢাকা ০৭:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

দিনে মৎস্যবন্দর, রাতে ‘আলোর শহর’—খাপড়াভাঙ্গা নদীর বুকে নতুন পর্যটন বিস্ময়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৫:১১:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার খাপড়াভাঙ্গা নদী দিনের বেলায় দেশের অন্যতম ব্যস্ত মৎস্যাঞ্চল। নদীর দুই তীরে গড়ে ওঠা আলীপুর ও মহিপুর—এই দুই মৎস্যবন্দরকে কেন্দ্র করে সারাদিন চলে মাছের বেচাকেনা, ট্রলারের আনাগোনা আর জেলে ও ব্যবসায়ীদের কর্মব্যস্ততা।
কিন্তু সূর্য ডুবে যাওয়ার পর যেন বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। অন্ধকার নেমে এলে নদীর দুই পাড়জুড়ে একে একে জ্বলে ওঠে শত শত মাছ ধরার ট্রলারের লাল, নীল, সবুজ ও সাদা আলো। শান্ত নদীর জলে সেই আলোর প্রতিফলন সৃষ্টি করে এক মোহময় পরিবেশ। দূর থেকে মনে হয়, জলের বুকে ভেসে আছে আলোকসজ্জিত একটি ছোট্ট শহর।

এই দৃশ্য এখন শুধু স্থানীয়দের নয়, কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছেও হয়ে উঠেছে অন্যতম আকর্ষণ।
সমুদ্র থেকে মাছ ধরে ফেরা ট্রলারগুলো কিংবা বৈরী আবহাওয়ায় আশ্রয় নেওয়া নৌযানগুলো সন্ধ্যার পর নদীতে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে। নিরাপত্তা ও কাজের প্রয়োজনেই ট্রলারগুলোতে জ্বলে থাকে বিভিন্ন রঙের বাতি। আর সেই প্রয়োজনীয় আলোকসজ্জাই এখন তৈরি করেছে এক অনন্য নৈসর্গিক সৌন্দর্য।
প্রতিদিন সন্ধ্যা নামতেই কুয়াকাটা-কলাপাড়া সড়কের খাপড়াভাঙ্গা নদীর সেতুর ওপর ভিড় করেন শত শত মানুষ। কেউ দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন নদীর নৈশরূপ, কেউ আবার মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন, তোলেন সেলফি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ছবিগুলো আরও মানুষকে টেনে আনছে এই স্থানে।
কুয়াকাটা থেকে ঘুরতে আসা সাফওয়ান হোসেন বলেন, “সমুদ্র সৈকত ঘুরে আমরা শুধু এই আলোর দৃশ্য দেখার জন্য এখানে এসেছি। কাছ থেকে দেখার পর মনে হয়েছে, বাস্তবে এটি ছবির চেয়েও অনেক সুন্দর।”
পর্যটক আজিজুর রহমান বলেন, “দূর থেকে দেখে মনে হয়েছিল নদীর মধ্যে আলোকসজ্জিত একটি শহর ভাসছে। কাছে এসে দেখি অসংখ্য মাছ ধরার ট্রলারের রঙিন আলোর ঝলকানি। সত্যিই অসাধারণ অভিজ্ঞতা।”
স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর রহমান বলেন, “আগে এখানে শুধু ট্রলার ভিড়ত। এখন সন্ধ্যা হলেই আশপাশের এলাকা থেকে মানুষ ঘুরতে আসে। ধীরে ধীরে জায়গাটি একটি বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।”
স্থানীয় সংবাদকর্মী মো. আনোয়ার হোসেন আনু মনে করেন, “উপকূলের জেলেদের জীবনসংগ্রাম, নদীর শান্ত জলরাশি আর হাজারো আলোর ঝলকানি—সব মিলিয়ে প্রতিটি সন্ধ্যায় খাপড়াভাঙ্গা নদী যেন সৌন্দর্যের এক নীরব গল্প শোনায়। একবার এ দৃশ্য দেখলে সহজে ভোলা যায় না।”
স্থানীয়দের মতে, আলীপুর ও মহিপুর মৎস্যবন্দর দেশের সামুদ্রিক মৎস্য অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তবে এর পাশাপাশি রাতের এই নৈসর্গিক সৌন্দর্য পরিকল্পিতভাবে তুলে ধরা গেলে এটি উপকূলীয় পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
নদীতীরের সৌন্দর্যবর্ধন, পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা, নিরাপদ দর্শনপয়েন্ট এবং আলোকসজ্জার পরিকল্পিত উন্নয়ন করা গেলে খাপড়াভাঙ্গা নদী শুধু মৎস্যবন্দরের পরিচয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের উপকূলের অন্যতম আকর্ষণীয় সন্ধ্যাকালীন পর্যটন গন্তব্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসপাতালে রাম চরণ

দিনে মৎস্যবন্দর, রাতে ‘আলোর শহর’—খাপড়াভাঙ্গা নদীর বুকে নতুন পর্যটন বিস্ময়

প্রকাশিত : ০৫:১১:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার খাপড়াভাঙ্গা নদী দিনের বেলায় দেশের অন্যতম ব্যস্ত মৎস্যাঞ্চল। নদীর দুই তীরে গড়ে ওঠা আলীপুর ও মহিপুর—এই দুই মৎস্যবন্দরকে কেন্দ্র করে সারাদিন চলে মাছের বেচাকেনা, ট্রলারের আনাগোনা আর জেলে ও ব্যবসায়ীদের কর্মব্যস্ততা।
কিন্তু সূর্য ডুবে যাওয়ার পর যেন বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। অন্ধকার নেমে এলে নদীর দুই পাড়জুড়ে একে একে জ্বলে ওঠে শত শত মাছ ধরার ট্রলারের লাল, নীল, সবুজ ও সাদা আলো। শান্ত নদীর জলে সেই আলোর প্রতিফলন সৃষ্টি করে এক মোহময় পরিবেশ। দূর থেকে মনে হয়, জলের বুকে ভেসে আছে আলোকসজ্জিত একটি ছোট্ট শহর।

এই দৃশ্য এখন শুধু স্থানীয়দের নয়, কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছেও হয়ে উঠেছে অন্যতম আকর্ষণ।
সমুদ্র থেকে মাছ ধরে ফেরা ট্রলারগুলো কিংবা বৈরী আবহাওয়ায় আশ্রয় নেওয়া নৌযানগুলো সন্ধ্যার পর নদীতে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে। নিরাপত্তা ও কাজের প্রয়োজনেই ট্রলারগুলোতে জ্বলে থাকে বিভিন্ন রঙের বাতি। আর সেই প্রয়োজনীয় আলোকসজ্জাই এখন তৈরি করেছে এক অনন্য নৈসর্গিক সৌন্দর্য।
প্রতিদিন সন্ধ্যা নামতেই কুয়াকাটা-কলাপাড়া সড়কের খাপড়াভাঙ্গা নদীর সেতুর ওপর ভিড় করেন শত শত মানুষ। কেউ দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন নদীর নৈশরূপ, কেউ আবার মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন, তোলেন সেলফি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ছবিগুলো আরও মানুষকে টেনে আনছে এই স্থানে।
কুয়াকাটা থেকে ঘুরতে আসা সাফওয়ান হোসেন বলেন, “সমুদ্র সৈকত ঘুরে আমরা শুধু এই আলোর দৃশ্য দেখার জন্য এখানে এসেছি। কাছ থেকে দেখার পর মনে হয়েছে, বাস্তবে এটি ছবির চেয়েও অনেক সুন্দর।”
পর্যটক আজিজুর রহমান বলেন, “দূর থেকে দেখে মনে হয়েছিল নদীর মধ্যে আলোকসজ্জিত একটি শহর ভাসছে। কাছে এসে দেখি অসংখ্য মাছ ধরার ট্রলারের রঙিন আলোর ঝলকানি। সত্যিই অসাধারণ অভিজ্ঞতা।”
স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর রহমান বলেন, “আগে এখানে শুধু ট্রলার ভিড়ত। এখন সন্ধ্যা হলেই আশপাশের এলাকা থেকে মানুষ ঘুরতে আসে। ধীরে ধীরে জায়গাটি একটি বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।”
স্থানীয় সংবাদকর্মী মো. আনোয়ার হোসেন আনু মনে করেন, “উপকূলের জেলেদের জীবনসংগ্রাম, নদীর শান্ত জলরাশি আর হাজারো আলোর ঝলকানি—সব মিলিয়ে প্রতিটি সন্ধ্যায় খাপড়াভাঙ্গা নদী যেন সৌন্দর্যের এক নীরব গল্প শোনায়। একবার এ দৃশ্য দেখলে সহজে ভোলা যায় না।”
স্থানীয়দের মতে, আলীপুর ও মহিপুর মৎস্যবন্দর দেশের সামুদ্রিক মৎস্য অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তবে এর পাশাপাশি রাতের এই নৈসর্গিক সৌন্দর্য পরিকল্পিতভাবে তুলে ধরা গেলে এটি উপকূলীয় পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
নদীতীরের সৌন্দর্যবর্ধন, পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা, নিরাপদ দর্শনপয়েন্ট এবং আলোকসজ্জার পরিকল্পিত উন্নয়ন করা গেলে খাপড়াভাঙ্গা নদী শুধু মৎস্যবন্দরের পরিচয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের উপকূলের অন্যতম আকর্ষণীয় সন্ধ্যাকালীন পর্যটন গন্তব্য।