ঢাকা ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

উজিরপুরে সাঁকো উদ্বোধনে প্রশংসায় বিএনপি নেতা শহিদ খান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১১:০৪:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ১০ বার দেখা হয়েছে
দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ লাঘবে সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে নিজেদের অর্থ ও শ্রমে অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছেন বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। স্থানীয় বিএনপি নেতা ও উজিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম খানের নেতৃত্ব ও অনুপ্রেরণায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে নির্মিত প্রায় ২০০ ফুট দীর্ঘ এই সাঁকো এখন স্থানীয়দের চলাচলে সাময়িক স্বস্তি এনে দিয়েছে।
এ সাঁকো উদ্বোধন করে  প্রশংসায় ভাসছেন বিএনপি নেতা ও বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষা অনুরাগী মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম খান।
স্থানীয়দের চাঁদায় নির্মিত সাঁকোটিতে বাঁশের পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়েছে সুপারিগাছ। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার নারী, শিশু, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে চলাচলে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। বিশেষ করে বর্ষাকালে যোগাযোগব্যবস্থা আরও কঠিন হয়ে পড়ায় স্থানীয়দের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। এ পরিস্থিতিতে নিজেদের উদ্যোগেই সাঁকো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন এলাকাবাসী।
গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে সাঁকোটি সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এ উপলক্ষে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। ফুল ও বেলুন দিয়ে সাজানো হয় সাঁকোর আশপাশের এলাকা। আয়োজন করা হয় ঢোল-বাদ্য ও বয়াতিদের গান। পরে লাল ফিতা কেটে সাঁকোটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উজিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম খান। উদ্বোধন শেষে উপস্থিত নারী-পুরুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
সাঁকো নির্মাণ ও উদ্বোধনের ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের অনেকেই উদ্যোগটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের একটি জনদুর্ভোগ নিরসনে সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এলাকাবাসী যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা সামাজিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক ঐক্যের একটি দৃষ্টান্ত।
তবে স্থানীয়দের কাছে এই সাঁকো কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তাদের দাবি, অস্থায়ী বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে সেখানে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু বা টেকসই যোগাযোগব্যবস্থা নির্মাণ করা প্রয়োজন। এতে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ স্থায়ীভাবে দূর হবে এবং শিক্ষা, ব্যবসা ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে গতি ফিরবে।
এ বিষয়ে মো. শহিদুল ইসলাম খান বলেন, সাঁকো নির্মাণ ও উদ্বোধনের মূল উদ্যোগ এলাকাবাসীর। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়ে আসছিলেন। এ কারণে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও সুপারিগাছ সংগ্রহ করে সাঁকোটি নির্মাণ করেন।
তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয়রা তাঁকে সাঁকোর কাছে নিয়ে যান। সেখানে উপস্থিত প্রায় দেড় থেকে দুই শতাধিক মানুষ তাঁকে লাল ফিতা কেটে সাঁকোটির উদ্বোধন করার অনুরোধ করেন। স্থানীয়দের অনুরোধে তিনি সাঁকোটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন উপলক্ষে গান-বাজনা ও মিষ্টি বিতরণের আয়োজনও এলাকাবাসীর উদ্যোগে করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে নির্মিত সাঁকোটির ফলে আপাতত যোগাযোগের দুর্ভোগ কিছুটা কমলেও এর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তাই এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সেখানে একটি স্থায়ী ও নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলবে। এতে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

ইয়াবা ও দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৩ মহাখালীতে

উজিরপুরে সাঁকো উদ্বোধনে প্রশংসায় বিএনপি নেতা শহিদ খান

প্রকাশিত : ১১:০৪:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ লাঘবে সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে নিজেদের অর্থ ও শ্রমে অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছেন বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। স্থানীয় বিএনপি নেতা ও উজিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম খানের নেতৃত্ব ও অনুপ্রেরণায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে নির্মিত প্রায় ২০০ ফুট দীর্ঘ এই সাঁকো এখন স্থানীয়দের চলাচলে সাময়িক স্বস্তি এনে দিয়েছে।
এ সাঁকো উদ্বোধন করে  প্রশংসায় ভাসছেন বিএনপি নেতা ও বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষা অনুরাগী মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম খান।
স্থানীয়দের চাঁদায় নির্মিত সাঁকোটিতে বাঁশের পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়েছে সুপারিগাছ। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার নারী, শিশু, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে চলাচলে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। বিশেষ করে বর্ষাকালে যোগাযোগব্যবস্থা আরও কঠিন হয়ে পড়ায় স্থানীয়দের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। এ পরিস্থিতিতে নিজেদের উদ্যোগেই সাঁকো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন এলাকাবাসী।
গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে সাঁকোটি সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এ উপলক্ষে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। ফুল ও বেলুন দিয়ে সাজানো হয় সাঁকোর আশপাশের এলাকা। আয়োজন করা হয় ঢোল-বাদ্য ও বয়াতিদের গান। পরে লাল ফিতা কেটে সাঁকোটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উজিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম খান। উদ্বোধন শেষে উপস্থিত নারী-পুরুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
সাঁকো নির্মাণ ও উদ্বোধনের ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের অনেকেই উদ্যোগটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের একটি জনদুর্ভোগ নিরসনে সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এলাকাবাসী যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা সামাজিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক ঐক্যের একটি দৃষ্টান্ত।
তবে স্থানীয়দের কাছে এই সাঁকো কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তাদের দাবি, অস্থায়ী বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে সেখানে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু বা টেকসই যোগাযোগব্যবস্থা নির্মাণ করা প্রয়োজন। এতে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ স্থায়ীভাবে দূর হবে এবং শিক্ষা, ব্যবসা ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে গতি ফিরবে।
এ বিষয়ে মো. শহিদুল ইসলাম খান বলেন, সাঁকো নির্মাণ ও উদ্বোধনের মূল উদ্যোগ এলাকাবাসীর। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়ে আসছিলেন। এ কারণে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও সুপারিগাছ সংগ্রহ করে সাঁকোটি নির্মাণ করেন।
তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয়রা তাঁকে সাঁকোর কাছে নিয়ে যান। সেখানে উপস্থিত প্রায় দেড় থেকে দুই শতাধিক মানুষ তাঁকে লাল ফিতা কেটে সাঁকোটির উদ্বোধন করার অনুরোধ করেন। স্থানীয়দের অনুরোধে তিনি সাঁকোটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন উপলক্ষে গান-বাজনা ও মিষ্টি বিতরণের আয়োজনও এলাকাবাসীর উদ্যোগে করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে নির্মিত সাঁকোটির ফলে আপাতত যোগাযোগের দুর্ভোগ কিছুটা কমলেও এর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তাই এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সেখানে একটি স্থায়ী ও নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলবে। এতে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটবে।