ঢাকা ১২:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

সোনালি আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিতেও আশার আলো

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৯:১৭:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

সোনালি আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিতেও আশার আলো দেখছেন মাগুরার পাটচাষিরা। একসময় পাটকাঠি শুধু রান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া, পানের বরজ কিংবা গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এর বহুমুখী ব্যবহার বেড়েছে। পার্টিকেল বোর্ড তৈরি থেকে শুরু করে বিভিন্ন কলকারখানায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে পাটকাঠির চাহিদা ও দাম। ফলে পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিও এখন কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে।

সরেজমিন মাগুরার শ্রীপুরের চন্দ্রপাড়া গোপালপুর, তারাউজিয়াল, কাদিরপাড়া, মহেশপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার দুই পাশে বাঁশ দিয়ে তৈরি মাচার ওপর সারি সারি করে পাটকাঠি শুকাতে দেওয়া হয়েছে। কোথাও আবার কয়েকটি পাটকাঠি একত্র করে আঁটি বেঁধে রাখা হয়েছে। পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর পর পাটকাঠি শুকানো ও সংরক্ষণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

এদিকে পাট জাগ দেওয়া হয়েছে এমন বিভিন্ন স্থানে ভোর থেকেই ভিড় করছেন আশপাশের গ্রামের গৃহিণীরা। তারা পাটচাষিদের কাছ থেকে পাট নিয়ে আঁশ ছাড়ানোর কাজে সহযোগিতা করছেন। বিনিময়ে নগদ টাকা না নিয়ে, নিয়ে যাচ্ছেন পাটকাঠি। এতে একদিকে কৃষকদের শ্রমিক খরচ কমছে, অন্যদিকে গৃহিণীরাও পাচ্ছেন রান্নার জ্বালানি।

শালিখা উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের বরইচারা গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, খাল-বিল ও নদীর ধারে শত শত নারী পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত। দিনশেষে মজুরি হিসেবে তারা নিচ্ছেন পাটকাঠি। পরে ভ্যানযোগে সেই পাটকাঠি নিয়ে যাচ্ছেন নিজেদের বাড়িতে।

শিউলী খাতুন নামে এক নারী বলেন, ‘বাড়িতে জ্বালানির সংকট রয়েছে। তাই পাট বাছতে এসেছি। কাজের বিনিময়ে টাকা না নিয়ে পাটকাঠি সংগ্রহ করছি। এতে বাড়ির জ্বালানির চাহিদা কিছুটা মিটছে।’

রহিমা বেগম নামে আরেক নারী বলেন, পাটকাঠি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নানা কাজে লাগে। রান্নার কাজেও এটি ব্যবহার করি। তাই পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর বিনিময়ে পাটকাঠি সংগ্রহ করতে এসেছি।

শ্রীপুরের তারাউজিয়াল গ্রামের পাটচাষি বিকুল বলেন, ‘আমি কয়েক জায়গায় পাট জাগ দিয়েছি। সব জায়গাতেই অনেক নারী পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে আসছেন। তাদের কাজের বিনিময়ে পাটকাঠি দেওয়া হচ্ছে। এতে পাটের আঁশ ছাড়ানোর শ্রমিক খরচ অনেকটাই কমে যাচ্ছে। ফলে পাট চাষে বিনিয়োগ করা অর্থের একটা অংশ পাটকাঠি থেকেই উঠে আসছে।’

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনালি আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিতেও আশার আলো

প্রকাশিত : ০৯:১৭:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

সোনালি আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিতেও আশার আলো দেখছেন মাগুরার পাটচাষিরা। একসময় পাটকাঠি শুধু রান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া, পানের বরজ কিংবা গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এর বহুমুখী ব্যবহার বেড়েছে। পার্টিকেল বোর্ড তৈরি থেকে শুরু করে বিভিন্ন কলকারখানায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে পাটকাঠির চাহিদা ও দাম। ফলে পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিও এখন কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে।

সরেজমিন মাগুরার শ্রীপুরের চন্দ্রপাড়া গোপালপুর, তারাউজিয়াল, কাদিরপাড়া, মহেশপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার দুই পাশে বাঁশ দিয়ে তৈরি মাচার ওপর সারি সারি করে পাটকাঠি শুকাতে দেওয়া হয়েছে। কোথাও আবার কয়েকটি পাটকাঠি একত্র করে আঁটি বেঁধে রাখা হয়েছে। পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর পর পাটকাঠি শুকানো ও সংরক্ষণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

এদিকে পাট জাগ দেওয়া হয়েছে এমন বিভিন্ন স্থানে ভোর থেকেই ভিড় করছেন আশপাশের গ্রামের গৃহিণীরা। তারা পাটচাষিদের কাছ থেকে পাট নিয়ে আঁশ ছাড়ানোর কাজে সহযোগিতা করছেন। বিনিময়ে নগদ টাকা না নিয়ে, নিয়ে যাচ্ছেন পাটকাঠি। এতে একদিকে কৃষকদের শ্রমিক খরচ কমছে, অন্যদিকে গৃহিণীরাও পাচ্ছেন রান্নার জ্বালানি।

শালিখা উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের বরইচারা গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, খাল-বিল ও নদীর ধারে শত শত নারী পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত। দিনশেষে মজুরি হিসেবে তারা নিচ্ছেন পাটকাঠি। পরে ভ্যানযোগে সেই পাটকাঠি নিয়ে যাচ্ছেন নিজেদের বাড়িতে।

শিউলী খাতুন নামে এক নারী বলেন, ‘বাড়িতে জ্বালানির সংকট রয়েছে। তাই পাট বাছতে এসেছি। কাজের বিনিময়ে টাকা না নিয়ে পাটকাঠি সংগ্রহ করছি। এতে বাড়ির জ্বালানির চাহিদা কিছুটা মিটছে।’

রহিমা বেগম নামে আরেক নারী বলেন, পাটকাঠি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নানা কাজে লাগে। রান্নার কাজেও এটি ব্যবহার করি। তাই পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর বিনিময়ে পাটকাঠি সংগ্রহ করতে এসেছি।

শ্রীপুরের তারাউজিয়াল গ্রামের পাটচাষি বিকুল বলেন, ‘আমি কয়েক জায়গায় পাট জাগ দিয়েছি। সব জায়গাতেই অনেক নারী পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে আসছেন। তাদের কাজের বিনিময়ে পাটকাঠি দেওয়া হচ্ছে। এতে পাটের আঁশ ছাড়ানোর শ্রমিক খরচ অনেকটাই কমে যাচ্ছে। ফলে পাট চাষে বিনিয়োগ করা অর্থের একটা অংশ পাটকাঠি থেকেই উঠে আসছে।’