ঢাকা ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

যে সেতুটির নির্মাণ কাজ থেমে রয়েছে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০২:২৮:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২ বার দেখা হয়েছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালী শহর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে পায়রাকুঞ্জ এলাকায় পায়রা নদীর ওপর নির্মাণ শুরু হয়েছিল ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সেতু। সেতুটি হলে পটুয়াখালী থেকে পিরোজপুর হয়ে খুলনা ও মোংলার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু এক হাজার ৪২ কোটি টাকার সেই প্রকল্প এখন পড়ে আছে অর্ধনির্মিত অবস্থায়। কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ।
২০২০ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়। ২০২৩ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও তা হয়নি। বর্তমানে প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি মাত্র ২০ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ২৬ শতাংশ।

মাঠপর্যায়ে ১০ দশমিক ৪ একর জমি অধিগ্রহণ, তিনতলা টোল ও অফিস ভবন, অস্থায়ী কার্যালয়, নির্মাণ ইয়ার্ড, ছয়টি টেস্ট পাইল, ৬০টি সার্ভিস পাইল, ছয়টি পাইল ক্যাপ এবং তিনটি পিয়ার কলাম নির্মাণ করা হয়েছে।
এছাড়াও নির্মাণস্থলে পড়ে আছে মরিচা ধরা যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী। এরই মধ্যে কিছু পাইল, পাইল ক্যাপ ও পিয়ার নির্মাণ করা হয়েছে।
আইএমইডির মূল্যায়ন বলছে, প্রকল্পটির জটিলতা শুরু হয় অনুমোদনের আগেই। পুরোনো সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশার সঙ্গে বর্তমান ভৌগোলিক ও ভূ-প্রযুক্তিগত পরিস্থিতির পার্থক্যের কারণে নকশা পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। পরে নকশা, ঠিকাদার ও পরামর্শকের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি এবং করোনাভাইরাস মহামারির কারণে প্রকল্পে আরও বিলম্ব হয়।
২০২৩ সালের সংশোধিত চুক্তিতে সেতুর নকশায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়। নতুন নকশার অনুমোদন না হওয়ায় বর্তমানে কাজ পুনরায় শুরু করা যাচ্ছে না। আইএমইডি ঠিকাদারের কিছু নকশাগত ঘাটতির কথাও উল্ল্যেখ করেছে। তবে ঠিকাদারপক্ষের দাবি, পরামর্শকের কারিগরি নির্দেশনা বারবার পরিবর্তন হওয়ায় নকশা চূড়ান্ত করতে দেরি হয়েছে।
সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় মির্জাগঞ্জের মানুষের পায়রা নদী পারাপারে এখনো ফেরি ও নৌযানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগীকে দ্রুত পটুয়াখালী জেলা সদরে নেওয়ার ক্ষেত্রে এতে ভোগান্তি বাড়ছে।
মির্জাগঞ্জের কৃষক খালেক ভূঁইয়া মনে করেন, সেতুর কাজ শুরু হওয়ার সময় মানুষের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছিল। তাঁর আশা ছিল, সেতু হলে কৃষিপণ্য সহজে অন্য এলাকায় নেওয়া যাবে এবং ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাবে।
‘আমি খুব খুশি হয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, হয়তো আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ এবার শেষ হবে,” বলেন খালেক।
কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি। গত ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর কাজ শুরু হয়নি। এখন নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতি পাহারা দিচ্ছেন কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী।
প্রকল্প পরিচালক তফাজ্জল হোসেনের মতে, কাজ চালিয়ে যাওয়ার মতো অর্থের সংকটে রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। প্রকল্পের পরামর্শকদের জন্য নির্মিত ভবনের তৃতীয় তলাও অসম্পূর্ণ। প্রয়োজনীয় আসবাব ও সরঞ্জাম না থাকায় সেখানে পরামর্শকেরা বসবাস শুরু করতে পারেননি।
নকশা নিয়ে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘তারা বারবার ত্রুটিপূর্ণ নকশা জমা দিচ্ছে, যাতে নকশা চূড়ান্ত অনুমোদন না পায় এবং তাদের কাজও করতে না হয়। এটাই মূল কারণ।”
এ অবস্থায় ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ। তবে এতে নতুন করে সময় ও ব্যয় বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর নাসির হোসেন কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মূল সমস্যা নকশা ও প্রকল্পের আওতা বাড়ার কারণে অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে জটিলতা। নকশার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জানান, প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার বিষয়টি তিনি আগে অবগত ছিলেন না।
তিনি বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব এবং সেতুটির নির্মাণকাজ দ্রুত পুনরায় শুরু করার জন্য আমার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে মন্দির থেকে সোনা-রূপা চুরির ঘটনায় তরুণ গ্রেপ্তার,মালামাল উদ্ধার

যে সেতুটির নির্মাণ কাজ থেমে রয়েছে

প্রকাশিত : ০২:২৮:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালী শহর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে পায়রাকুঞ্জ এলাকায় পায়রা নদীর ওপর নির্মাণ শুরু হয়েছিল ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সেতু। সেতুটি হলে পটুয়াখালী থেকে পিরোজপুর হয়ে খুলনা ও মোংলার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু এক হাজার ৪২ কোটি টাকার সেই প্রকল্প এখন পড়ে আছে অর্ধনির্মিত অবস্থায়। কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ।
২০২০ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়। ২০২৩ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও তা হয়নি। বর্তমানে প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি মাত্র ২০ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ২৬ শতাংশ।

মাঠপর্যায়ে ১০ দশমিক ৪ একর জমি অধিগ্রহণ, তিনতলা টোল ও অফিস ভবন, অস্থায়ী কার্যালয়, নির্মাণ ইয়ার্ড, ছয়টি টেস্ট পাইল, ৬০টি সার্ভিস পাইল, ছয়টি পাইল ক্যাপ এবং তিনটি পিয়ার কলাম নির্মাণ করা হয়েছে।
এছাড়াও নির্মাণস্থলে পড়ে আছে মরিচা ধরা যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী। এরই মধ্যে কিছু পাইল, পাইল ক্যাপ ও পিয়ার নির্মাণ করা হয়েছে।
আইএমইডির মূল্যায়ন বলছে, প্রকল্পটির জটিলতা শুরু হয় অনুমোদনের আগেই। পুরোনো সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশার সঙ্গে বর্তমান ভৌগোলিক ও ভূ-প্রযুক্তিগত পরিস্থিতির পার্থক্যের কারণে নকশা পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। পরে নকশা, ঠিকাদার ও পরামর্শকের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি এবং করোনাভাইরাস মহামারির কারণে প্রকল্পে আরও বিলম্ব হয়।
২০২৩ সালের সংশোধিত চুক্তিতে সেতুর নকশায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়। নতুন নকশার অনুমোদন না হওয়ায় বর্তমানে কাজ পুনরায় শুরু করা যাচ্ছে না। আইএমইডি ঠিকাদারের কিছু নকশাগত ঘাটতির কথাও উল্ল্যেখ করেছে। তবে ঠিকাদারপক্ষের দাবি, পরামর্শকের কারিগরি নির্দেশনা বারবার পরিবর্তন হওয়ায় নকশা চূড়ান্ত করতে দেরি হয়েছে।
সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় মির্জাগঞ্জের মানুষের পায়রা নদী পারাপারে এখনো ফেরি ও নৌযানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগীকে দ্রুত পটুয়াখালী জেলা সদরে নেওয়ার ক্ষেত্রে এতে ভোগান্তি বাড়ছে।
মির্জাগঞ্জের কৃষক খালেক ভূঁইয়া মনে করেন, সেতুর কাজ শুরু হওয়ার সময় মানুষের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছিল। তাঁর আশা ছিল, সেতু হলে কৃষিপণ্য সহজে অন্য এলাকায় নেওয়া যাবে এবং ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাবে।
‘আমি খুব খুশি হয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, হয়তো আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ এবার শেষ হবে,” বলেন খালেক।
কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি। গত ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর কাজ শুরু হয়নি। এখন নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতি পাহারা দিচ্ছেন কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী।
প্রকল্প পরিচালক তফাজ্জল হোসেনের মতে, কাজ চালিয়ে যাওয়ার মতো অর্থের সংকটে রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। প্রকল্পের পরামর্শকদের জন্য নির্মিত ভবনের তৃতীয় তলাও অসম্পূর্ণ। প্রয়োজনীয় আসবাব ও সরঞ্জাম না থাকায় সেখানে পরামর্শকেরা বসবাস শুরু করতে পারেননি।
নকশা নিয়ে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘তারা বারবার ত্রুটিপূর্ণ নকশা জমা দিচ্ছে, যাতে নকশা চূড়ান্ত অনুমোদন না পায় এবং তাদের কাজও করতে না হয়। এটাই মূল কারণ।”
এ অবস্থায় ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ। তবে এতে নতুন করে সময় ও ব্যয় বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর নাসির হোসেন কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মূল সমস্যা নকশা ও প্রকল্পের আওতা বাড়ার কারণে অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে জটিলতা। নকশার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জানান, প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার বিষয়টি তিনি আগে অবগত ছিলেন না।
তিনি বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব এবং সেতুটির নির্মাণকাজ দ্রুত পুনরায় শুরু করার জন্য আমার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’