নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার।ঝুনাগাছ চাপানী সরকারি মহিলা কলেজে ডিগ্রি, অনার্স কোর্স চালুর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি, উপজেলার অন্যতম মহিলা এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিগ্রি, অনার্স চালু করা হলে স্থানীয় নারী শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে এবং ঝুনাগাছ চাপানীতে নারী শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।
জানা যায়, উত্তর জনপদের ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নে মহিলাদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ২০০৮ সালের মার্চ মাসে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ঝুনাগাছ চাপানী সরকারি মহিলা কলেজ। কলেজটি ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ডালিয়া সড়কের পাশে ২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ২ একর জমির ওপর অবস্থিত। কলেজ সুত্রে জানাযায় ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলেজটি সরকারী করণ করা হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার পাশাপাশি কারিগড়ি বিএমটি শিক্ষার সুযোগ রয়েছে।
কলেজ সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলেজটি সরকারিকরণ করা পর বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৩ শতর ও বেশি শিক্ষার্থী এবং ৩১ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে একাডেমিক ভবন সংকট থাকার পরেও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হলেও কলেজটিতে এখনো ডিগ্রি, অনার্স পর্যায়ের কোনো কোর্স চালু হয়নি। ইন্টারমেডিয়েট শিক্ষা শেষ করার পর উচ্চ শিক্ষার জন্য অনেক শিক্ষার্থীকে উপজেলার বাইরে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে বিভাগীয় শহর রংপুর, জেলা শহর নীলফামারী কিংবা ঢাকায় যেতে হয়। শিক্ষার্থীরা বলছেন, ঝুনাগাছ চাপানী থেকে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অনার্সে ভর্তি হতে হলে আবাসন, যাতায়াত,খাবার সহ নানা খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ব্যয় অনেক সময় উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া নিরাপত্তা বিবেচনায় দূরবর্তী স্থানে মেয়ে শিক্ষার্থীদের অনেক পরিবার পাঠাতে চায় না।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ঝুনাগাছ চাপানী সরকারি মহিলা কলেজের দীর্ঘদিনের অবকাঠামো, শিক্ষার্থীসংখ্যা ও শিক্ষাকার্যক্রম বিবেচনায় নিয়ে ডিগ্রি কোর্স সহ পর্যায়ক্রমে উপযুক্ত কয়েকটি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে একদিকে যেমন স্থানীয় শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে ডিমলা উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থাও আরও এগিয়ে যাবে।
কলেজটির শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন একাডেমিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সাফল্যের নজিরও রয়েছে।
২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী কলেজটি বরাবরই ভালো ফলাফল ও নানামুখী শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য পরিচিত।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, শুধু ডিগ্রি পর্যায়ের শিক্ষা নয়, ডিমলায় শিক্ষার্থীদের নিজ উপজেলায় থেকেই ডিগ্রি, সহ স্নাতক পর্যায়ের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বিষয়ে অনার্স কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তারা বলেন, ঝুনাগাছ চাপানী সরকারি মহিলা কলেজে ডিগ্রি, অনার্স চালু হলে প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার পথ আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও বাড়ির কাছাকাছি থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।
এ বিষয়ে ঝুনাগাছ চাপানী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান বলেন, সবার মতো আমিও চাই উপজেলা পর্যায়ে ডিগ্রি, সহ অনার্স কোর্স চালু হোক। অনেক ছেলে-মেয়ে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আর্থিক সংকট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দূরত্বের কারণে, বিশেষ করে মেয়েরা, ডিগ্রী, অনার্সে পড়াশোনা করতে পারে না। ফলে বাধ্য হয়ে তাদের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ভর্তি হতে হয়। এখন যেহেতু প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ সরকারি করা হয়েছে, তাই সরকারি উদ্যোগে এসব কলেজে ডিগ্রি,অনার্স কোর্স চালু করা হলে তা শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই ভালো হবে। বিভিন্ন সমস্যার কারণে আমরা এতদিন নিজ উদ্যোগে ডিগ্রি, অনার্স কোর্স চালু করতে পারিনি। সরকারি উদ্যোগে অনার্স চালু হলে আমরা বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক পাব। ভালো শিক্ষার্থী ও দক্ষ শিক্ষকদের সমন্বয়ে শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে। এতে ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন সহ আশেপাশের ছেলে-মেয়েদের জন্য উচ্চশিক্ষার একটি বড় সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।
এলাকাবাসী রফিকুল ইসলাম জানান, এ মহি কলেজে ডিগ্রী, অনার্স কোর্স চালু হলে শুধু ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন সহ পার্শ্ববর্তী উপজেলা সমুহের হাজারো শিক্ষার্থী কম খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















