ঢাকা ০৯:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুমকিতে নদীগর্ভে বিলীন বাহেরচর, গৃহহীন ৩০ পরিবার, হুমকিতে সাইক্লোন শেল্টার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৬:৪০:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পায়রা নদীর তীরবর্তী বাহেরচর গ্রামে বছরের পর বছর নদী ভাঙ্গনে ভিটেমাটি হারা হচ্ছে শত শত পরিবার। বাপ-দাদার পৈতৃক ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে এসব পরিবার। দৃশ্যমান সরকারি কোন উদ্যোগ না থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছে ভাঙ্গন কবলিত বাহেরচর গ্রামবাসী। বিদ্যুৎ ও আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে গ্রামের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ) সকাল ১১ টায় সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রাম পায়রা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে পুরো এলাকা। দীর্ঘ দিন ধরে চলা এই ভাঙনে ইতিমধ্যে শত শত ঘরবাড়ি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। কোন কোন ঘড় ৮-১০ বার ভাংতে হয়েছে। সর্বশেষ ভাঙনে গৃহহীন হয়ে পড়েছে অন্তত ৩০টি পরিবার। ভিটে মাটি হারিয়ে বাধ্য হয়ে তারা রাস্তার পাশে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে বাহেরচর এলাকা ভাঙছে। পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনে তাদের ভিটেমাটি এমনকি বাপ-দাদার শেষ সমাধিও নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন শেষ যে সম্বলটুকু আছে তাও হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটছে তাদের। সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কয়েক বছর আগে স্বল্প কিছু সহায়তা পেলেও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই জনপদের মানুষ।

ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে ৩২ নম্বর আংগারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার, সিকদার বাড়ি জামে মসজিদ ও মোল্লা বাড়ি। ভাঙন অব্যাহত থাকলে অচিরেই বিলীন হবে দুটি বাড়ি সহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। সাইক্লোন শেল্টারটি বিলীন হয়ে গেলে দুর্যোগের সময় আশ্রয় নেওয়ার কোনো জায়গা থাকবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে নিটুলী রানী (৪৬) জানান, এ পর্যন্ত তিনি সাতবার ভিটেমাটি হারিয়েছেন। শেষ আশ্রয়টুকু নদীগর্ভে চলে গেলে তিনি সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের পাশে ভাঙা একটি ঘরে অশ্রয় নিয়েছেন। তার আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।
আক্ষেপ করে জাকির খান(৫০) বলেন, ” কত মানুষ আইলো কত কতা কইলাম, কামের কিছুই হইলো না। আমনেগো লগে কতা কইয়া হইবো কি? কেউতো আমাগো দিকে চাইলো না।”
রিপন মাল (৩৭) জানান, বাপদাদাদের আমল থেকে এ গ্রামটি ভাঙছে। এ বয়সে তিনি পাঁচ ছয়বার বসত ঘর পাল্টিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বাজারে গিয়ে বাসা ভাড়া করে থাকছেন। আংগারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন সিকদার বলেন, “এ পর্যন্ত আমাদের সাড়ে তিনশ একর জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ১৯৭৭-৭৮ সালে নদীর অপরপ্রান্তে বাকেরগঞ্জের সাথে নতুন চরে ৬০ টি পরিবারের জন্য ৯০ একর জমি কার্ডের মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়া হলেও বাকেরগঞ্জের লোক জবরদখল করে রাখায় আমাদের কোন পরিবার জমি পায়নি।”
ভুক্তভোগী বাদল চৌকিদার (৪৮) জানান, বারবার নদী ভাঙনে তাদের সহায়সম্বল কিছুই নেই। বাধ্য হয়ে রাস্তার উপর বসবাস করতে হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে তাদের পূনর্বাসনের দাবি জানান।
আংগারিয়া ৩ নম্বর ইউপি সদস্য শাহীন গাজী বলেন, পায়রার অব্যাহত ভাঙনে তাঁর নির্বাচনী ওয়ার্ডটি বিলুপ্তির পথে। তিনি ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
আংগারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো. জিল্লুর রহমান, বাহেরচর গ্রামটির অস্তিত্ব রক্ষা এবং ভুক্তভোগীদের সাহায্যের জন্য প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান।
দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপজেলা পরিষদ থেকে ত্রানসহায়তা প্রদান এবং ভাঙনরোধে পানিউন্নয়ন বোর্ডের সাথে আলোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও নদী শাসনের ব্যবস্থা না করলে মানচিত্র থেকে মুছে যাবে পুরো বাহেরচর এলাকা।

দুমকিতে নদীগর্ভে বিলীন বাহেরচর, গৃহহীন ৩০ পরিবার, হুমকিতে সাইক্লোন শেল্টার

প্রকাশিত : ০৬:৪০:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পায়রা নদীর তীরবর্তী বাহেরচর গ্রামে বছরের পর বছর নদী ভাঙ্গনে ভিটেমাটি হারা হচ্ছে শত শত পরিবার। বাপ-দাদার পৈতৃক ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে এসব পরিবার। দৃশ্যমান সরকারি কোন উদ্যোগ না থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছে ভাঙ্গন কবলিত বাহেরচর গ্রামবাসী। বিদ্যুৎ ও আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে গ্রামের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ) সকাল ১১ টায় সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রাম পায়রা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে পুরো এলাকা। দীর্ঘ দিন ধরে চলা এই ভাঙনে ইতিমধ্যে শত শত ঘরবাড়ি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। কোন কোন ঘড় ৮-১০ বার ভাংতে হয়েছে। সর্বশেষ ভাঙনে গৃহহীন হয়ে পড়েছে অন্তত ৩০টি পরিবার। ভিটে মাটি হারিয়ে বাধ্য হয়ে তারা রাস্তার পাশে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে বাহেরচর এলাকা ভাঙছে। পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনে তাদের ভিটেমাটি এমনকি বাপ-দাদার শেষ সমাধিও নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন শেষ যে সম্বলটুকু আছে তাও হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটছে তাদের। সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কয়েক বছর আগে স্বল্প কিছু সহায়তা পেলেও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই জনপদের মানুষ।

ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে ৩২ নম্বর আংগারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার, সিকদার বাড়ি জামে মসজিদ ও মোল্লা বাড়ি। ভাঙন অব্যাহত থাকলে অচিরেই বিলীন হবে দুটি বাড়ি সহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। সাইক্লোন শেল্টারটি বিলীন হয়ে গেলে দুর্যোগের সময় আশ্রয় নেওয়ার কোনো জায়গা থাকবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে নিটুলী রানী (৪৬) জানান, এ পর্যন্ত তিনি সাতবার ভিটেমাটি হারিয়েছেন। শেষ আশ্রয়টুকু নদীগর্ভে চলে গেলে তিনি সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের পাশে ভাঙা একটি ঘরে অশ্রয় নিয়েছেন। তার আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।
আক্ষেপ করে জাকির খান(৫০) বলেন, ” কত মানুষ আইলো কত কতা কইলাম, কামের কিছুই হইলো না। আমনেগো লগে কতা কইয়া হইবো কি? কেউতো আমাগো দিকে চাইলো না।”
রিপন মাল (৩৭) জানান, বাপদাদাদের আমল থেকে এ গ্রামটি ভাঙছে। এ বয়সে তিনি পাঁচ ছয়বার বসত ঘর পাল্টিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বাজারে গিয়ে বাসা ভাড়া করে থাকছেন। আংগারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন সিকদার বলেন, “এ পর্যন্ত আমাদের সাড়ে তিনশ একর জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ১৯৭৭-৭৮ সালে নদীর অপরপ্রান্তে বাকেরগঞ্জের সাথে নতুন চরে ৬০ টি পরিবারের জন্য ৯০ একর জমি কার্ডের মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়া হলেও বাকেরগঞ্জের লোক জবরদখল করে রাখায় আমাদের কোন পরিবার জমি পায়নি।”
ভুক্তভোগী বাদল চৌকিদার (৪৮) জানান, বারবার নদী ভাঙনে তাদের সহায়সম্বল কিছুই নেই। বাধ্য হয়ে রাস্তার উপর বসবাস করতে হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে তাদের পূনর্বাসনের দাবি জানান।
আংগারিয়া ৩ নম্বর ইউপি সদস্য শাহীন গাজী বলেন, পায়রার অব্যাহত ভাঙনে তাঁর নির্বাচনী ওয়ার্ডটি বিলুপ্তির পথে। তিনি ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
আংগারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো. জিল্লুর রহমান, বাহেরচর গ্রামটির অস্তিত্ব রক্ষা এবং ভুক্তভোগীদের সাহায্যের জন্য প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান।
দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপজেলা পরিষদ থেকে ত্রানসহায়তা প্রদান এবং ভাঙনরোধে পানিউন্নয়ন বোর্ডের সাথে আলোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও নদী শাসনের ব্যবস্থা না করলে মানচিত্র থেকে মুছে যাবে পুরো বাহেরচর এলাকা।