ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দর্শকদের তথ্য বিক্রি করে আয় করতে চায় আইসিসি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০২:০০:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

বিশ্ব ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে আগামী নভেম্বরে। ইন্দোনেশিয়ার বালিতে ১৩ থেকে ১৫ নভেম্বর বসবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ত্রৈমাসিক সভা। এই বৈঠকে মূল আলোচনার বিষয়গুলোর একটি হবে ক্রিকেটের বৈশ্বিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কৌশল।

বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্যালোচনা করতে এ বছরের শুরুতে ম্যাককিনসিকে দায়িত্ব দিয়েছিল আইসিসি। খেলাটির অর্থনীতি, আয় বাড়ানোর নতুন পথ এবং বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটের বিস্তার—এসব বিষয় নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করেছে। তবে প্রতিবেদনের সব সুপারিশ আইসিসি গ্রহণ করবে কি না, সেটি বালির বৈঠকেই স্পষ্ট হবে।

আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহর নেতৃত্বাধীন সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের প্রসারে জোর দিচ্ছে। ম্যাককিনসির প্রতিবেদনে তাই সম্প্রচারস্বত্ব থেকে পাওয়া আয়ের ওপর আইসিসির নির্ভরতা কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বিশ্ব ক্রিকেটে বড় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুব বেশি নয়, এই বাস্তবতায় বিকল্প আয়ের উৎস খোঁজার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে করপোরেট স্পনসরশিপ বাড়ানো, ডেটা থেকে আয় করার নতুন পথ তৈরি এবং মোবাইল গেমিং প্রকল্প চালু করা। বিশেষ করে ডেটা মনিটাইজেশনকে দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখানে ক্রিকেটের পরিসংখ্যান নয়, খেলোয়াড় ও সমর্থকদের অংশগ্রহণ থেকে তৈরি বিপুল পরিমাণ বৈশ্বিক তথ্যকে কাজে লাগানোর কথা বলা হয়েছে।

এই ধরনের উদ্যোগ থেকে নতুন রাজস্বের বড় সুযোগ দেখছে আইসিসি। ফিফা ইতিমধ্যে নিজেদের ডেটা সম্পদ কাজে লাগিয়ে আয়ের নতুন পথ তৈরি করেছে—ম্যাককিনসির প্রতিবেদনে সেটিকেও একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়েছে।

নারী ক্রিকেটকেও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রেখেছে আইসিসি। সংস্থাটির লক্ষ্য, নারী ক্রিকেটকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় নারী খেলায় পরিণত করা। একই সঙ্গে আগামী এক দশকে ক্রিকেটের বৈশ্বিক বার্ষিক অর্থনীতি প্রায় তিন গুণ বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে। বর্তমানে বিশ্ব ক্রিকেটের বার্ষিক অর্থনীতির আকার আনুমানিক ৩৫০ থেকে ৩৮০ কোটি ডলার; সেটিকে ১ হাজার কোটি ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

এই অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে ভারত যে সবচেয়ে বড় অবদানকারী থাকবে, সেটিও প্রতিবেদনের আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি চীন, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো জনবহুল ও বড় বাজারে ক্রিকেটের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

দুবাইয়ে সাম্প্রতিক ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম (এফটিপি) কর্মশালার আলোচনাতেও এই বৃহত্তর পরিকল্পনার প্রতিফলন দেখা গেছে। দ্বিপাক্ষিক সিরিজের তুলনায় বহুদলীয় ম্যাচ বাড়ানোর পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়েও উৎসাহ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এর ফলে ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডের সংখ্যা কিছুটা কমতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আইসিসির হাতে নয়। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজন সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট বোর্ডগুলোর নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়, আর বহুদলীয় প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে আইসিসির ভূমিকা বেশি।

মায়ের স্বপ্ন ছিল ছেলে হবে জজ, মৃত্যুকে হারিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ করলেন কালকিনির তাইজুল

দর্শকদের তথ্য বিক্রি করে আয় করতে চায় আইসিসি

প্রকাশিত : ০২:০০:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ব ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে আগামী নভেম্বরে। ইন্দোনেশিয়ার বালিতে ১৩ থেকে ১৫ নভেম্বর বসবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ত্রৈমাসিক সভা। এই বৈঠকে মূল আলোচনার বিষয়গুলোর একটি হবে ক্রিকেটের বৈশ্বিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কৌশল।

বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্যালোচনা করতে এ বছরের শুরুতে ম্যাককিনসিকে দায়িত্ব দিয়েছিল আইসিসি। খেলাটির অর্থনীতি, আয় বাড়ানোর নতুন পথ এবং বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটের বিস্তার—এসব বিষয় নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করেছে। তবে প্রতিবেদনের সব সুপারিশ আইসিসি গ্রহণ করবে কি না, সেটি বালির বৈঠকেই স্পষ্ট হবে।

আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহর নেতৃত্বাধীন সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের প্রসারে জোর দিচ্ছে। ম্যাককিনসির প্রতিবেদনে তাই সম্প্রচারস্বত্ব থেকে পাওয়া আয়ের ওপর আইসিসির নির্ভরতা কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বিশ্ব ক্রিকেটে বড় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুব বেশি নয়, এই বাস্তবতায় বিকল্প আয়ের উৎস খোঁজার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে করপোরেট স্পনসরশিপ বাড়ানো, ডেটা থেকে আয় করার নতুন পথ তৈরি এবং মোবাইল গেমিং প্রকল্প চালু করা। বিশেষ করে ডেটা মনিটাইজেশনকে দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখানে ক্রিকেটের পরিসংখ্যান নয়, খেলোয়াড় ও সমর্থকদের অংশগ্রহণ থেকে তৈরি বিপুল পরিমাণ বৈশ্বিক তথ্যকে কাজে লাগানোর কথা বলা হয়েছে।

এই ধরনের উদ্যোগ থেকে নতুন রাজস্বের বড় সুযোগ দেখছে আইসিসি। ফিফা ইতিমধ্যে নিজেদের ডেটা সম্পদ কাজে লাগিয়ে আয়ের নতুন পথ তৈরি করেছে—ম্যাককিনসির প্রতিবেদনে সেটিকেও একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়েছে।

নারী ক্রিকেটকেও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রেখেছে আইসিসি। সংস্থাটির লক্ষ্য, নারী ক্রিকেটকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় নারী খেলায় পরিণত করা। একই সঙ্গে আগামী এক দশকে ক্রিকেটের বৈশ্বিক বার্ষিক অর্থনীতি প্রায় তিন গুণ বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে। বর্তমানে বিশ্ব ক্রিকেটের বার্ষিক অর্থনীতির আকার আনুমানিক ৩৫০ থেকে ৩৮০ কোটি ডলার; সেটিকে ১ হাজার কোটি ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

এই অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে ভারত যে সবচেয়ে বড় অবদানকারী থাকবে, সেটিও প্রতিবেদনের আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি চীন, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো জনবহুল ও বড় বাজারে ক্রিকেটের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

দুবাইয়ে সাম্প্রতিক ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম (এফটিপি) কর্মশালার আলোচনাতেও এই বৃহত্তর পরিকল্পনার প্রতিফলন দেখা গেছে। দ্বিপাক্ষিক সিরিজের তুলনায় বহুদলীয় ম্যাচ বাড়ানোর পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়েও উৎসাহ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এর ফলে ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডের সংখ্যা কিছুটা কমতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আইসিসির হাতে নয়। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজন সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট বোর্ডগুলোর নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়, আর বহুদলীয় প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে আইসিসির ভূমিকা বেশি।