দুমকি প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর দুমকিতে ১২ বছরের এক কন্যাশিশুকে অপহরণের ঘটনার আট ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মো. শাহ জামাল (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রেস রিলিজ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়ন এলাকায় ওই শিশুকে অপহরণের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দুমকি থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একাধিক দল শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।

পুলিশ জানায়, শাহ জামাল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাসিন্দা। তিনি সৌদি আরব প্রবাসী এবং প্রায় তিন মাস আগে দেশে আসেন। প্রায় চার বছর আগে সৌদি আরবে থাকাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে শিশুটির মায়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। দেশে ফেরার পরও তিনি শিশুটির পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখতেন।
পুলিশের দাবি, গত ২৬ সেপ্টেম্বর শাহ জামাল ওই শিশুর বাড়িতে বেড়াতে যান। এ সময় শিশুটির বাবা মো. নেছার উদ্দিনকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উপহার দিয়ে পরিবারের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন।
প্রেস রিলিজে বলা হয়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শাহ জামাল কুমিল্লায় নিজ বাড়ির উদ্দেশে শিশুটির বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় শিশুটির পরিবারের অগোচরে তার দেওয়া মোবাইল ফোনটি নিয়ে যান। পরে শিশুটিকে খাবার কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পাশের অটোরিকশা স্ট্যান্ডে নিয়ে যান। সেখানে তাকে সঙ্গে যাওয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখানো হয়।
এরপর শিশুটিকে দুমকি থানাধীন পাগলা মোড়ের বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বিকেল ৫টার দিকে বাসযোগে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন শাহ জামাল ও শিশুটি।
পুলিশ জানায়, শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা শাহ জামালের মোবাইল ফোনে কল করেন। তবে তিনি কোনো সাড়া না দেওয়ায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শিশুটির নিখোঁজের বিষয়টি দুমকি থানায় জানানো হয়।
পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে দুমকি থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একাধিক দল পাগলা মোড়, পায়রা সেতুর টোল প্লাজাসহ আশপাশের এলাকার শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শিশুটিকে অপহরণের প্রাথমিক প্রমাণ পায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এরপর শিশুটিকে উদ্ধারে দুমকি থানার একটি দল ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে এসআরবি-১০-এর সহায়তায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার এবং শাহ জামালকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মো. নেছার উদ্দিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুমকি থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি ৩ অক্টোবর দায়ের করা হয় এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০২৫)-এর ৭/৩০ ধারায় রুজু করা হয়েছে।
পুলিশের প্রেস রিলিজে আরও বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহ জামাল অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা সহযোগী জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল স্বাক্ষরিত প্রেস রিলিজে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















