জুবাইয়া বিন্তে কবির: বাংলাদেশ নামক এই ব-দ্বীপের ইতিহাস আসলে মাটি ও মানুষের ইতিহাস। এই মাটির প্রতিটি কণায় লেগে আছে কৃষকের ঘাম, আর এই ঘামের প্রতিটি ফোঁটায় লেখা আছে বেঁচে থাকার সংগ্রাম। ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছিলাম, কিন্তু অর্থনৈতিক মুক্তি পাইনি। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে যখন ক্ষুধার্ত মানুষের আর্তনাদে আকাশ ভারী, আন্তর্জাতিক বিশ্ব যখন বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে করুণা করছে, তখন এক কিংবদন্তি সৈনিক, এক রাখাল প্রেসিডেন্ট কোদাল হাতে নেমে এলেন মাঠে। তিনি বললেন, “এদেশের ভাগ্য লেখা থাকে কৃষকের হাসিতে।” তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশের কৃষির ইতিহাসকে যদি দুটি অধ্যায়ে ভাগ করা হয়, তবে প্রথম অধ্যায় হলো জিয়ার আগের হতাশা ও খাদ্য ঘাটতির ইতিহাস, আর দ্বিতীয় অধ্যায় হলো জিয়া ও জিয়া পরিবারের হাত ধরে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও কৃষি বিপ্লবের ইতিহাস। ১৯৭৫ থেকে ২০২৬ – এই পঞ্চাশ বছরের পথচলায় যতবার কৃষক মুখ থুবড়ে পড়েছে, ততবার তাকে হাত ধরে টেনে তুলেছে একটি পরিবার – জিয়া পরিবার। শহীদ জিয়া বীজ দিয়েছেন, খাল কেটেছেন, বিদ্যুৎ দিয়েছেন। তাঁর যোগ্য সহধর্মিণী, আপোষহীন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া সেই কৃষকের ঋণ মওকুফ করেছেন, খাজনা মওকুফ করেছেন, তাকে মায়ের আঁচলে আগলে রেখেছেন। আর আজ তাঁদেরই রক্তের উত্তরাধিকার, দেশনায়ক তারেক রহমান সেই কৃষককে দিচ্ছেন ডিজিটাল পরিচয়, স্মার্ট কার্ড, ড্রোন, রোবট আর জলবায়ু সহনশীল ভবিষ্যতের স্বপ্ন। আজ যখন সরকার ২,২৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকার ‘সেটেপ’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যখন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বিকার’ নামক বিশ্বমানের জলবায়ু গবেষণা কেন্দ্র হচ্ছে, যখন ১৪ লাখ কৃষকের ডাটাবেজ হচ্ছে, ৪৭৫ কিলোমিটার খাল নতুন করে খনন হচ্ছে – তখন আমাদের বুঝতে হবে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন প্রকল্প নয়। এটি একটি পরিবারের পঞ্চাশ বছরের সাধনা, একটি দর্শনের ধারাবাহিক বাস্তবায়ন। এই প্রতিবেদন সেই মহাকাব্যেরই দলিল।
সেটেপ প্রকল্প: নতুন যুগের সূচনা : দেশের কৃষি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মানকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে বর্তমান সরকার যে মেগা প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে তার নাম ‘স্ট্রেংদেনিং এগ্রিকালচারাল টারশিয়ারি এডুকেশন প্রজেক্ট’ বা সংক্ষেপে ‘সেটেপ’। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রস্তাবিত এই প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পাঁচ বছর ধরে বাস্তবায়িত হবে। তথ্য বলছে, প্রকল্পের মোট ব্যয় ২,২৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকার মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩০০ কোটি টাকা এবং বাকি ১,৯৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা আসবে প্রকল্প ঋণ হিসেবে। এর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে আমাদের গৌরবের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ। তবে এটি শুধু বাকৃবির প্রকল্প নয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের সকল সরকারি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদগুলো প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা অনুদান, যৌথ গবেষণা ও শিক্ষক সক্ষমতা বৃদ্ধির আওতায় যুক্ত হবে। অর্থাৎ শহীদ জিয়ার সেই বিকেন্দ্রীকৃত কৃষি উন্নয়নের দর্শন – সকলকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।
ব্যয়ে কাটছাঁট: স্বচ্ছতা ও দূরদর্শিতার প্রতীক : এই প্রকল্পটি কেন জিয়া পরিবারের সরকারের প্রতিচ্ছবি, তার প্রমাণ মেলে এর পর্যালোচনায়। পরিকল্পনা কমিশন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের যৌথ পর্যালোচনায় অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্দয়ভাবে কাটছাঁট করা হয়েছে। পরিসংখ্যান দিচ্ছি: পরামর্শক খাতে প্রস্তাব ছিল ১৪৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা, তা কমিয়ে করা হয়েছে ১৩০ কোটি ৩০ লাখ ৫ হাজার টাকা – সাশ্রয় ১৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। বিদেশে পূর্ণকালীন পিএইচডি ও মাস্টার্সের নামে যে ১০০ কোটি টাকার বিলাসী প্রস্তাব ছিল, তা কমিয়ে ৬০ কোটি টাকা করা হয়েছে – সাশ্রয় ৪০ কোটি টাকা। সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিদেশে স্থায়ীভাবে ডিগ্রি নয়, বরং দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করে বিদেশের উন্নত ল্যাবে কাজ করার সুযোগ বাড়ানো হবে। এতে মেধা পাচার রোধ হবে। একইভাবে বিদেশি প্রশিক্ষণ খাত ৩৪ কোটি ৪২ লাখ থেকে ২৪ কোটি ৪২ লাখ ৫০ হাজারে এবং কর্মশালা, সম্মেলন ও সেমিনার খাত ২৭ কোটি ৩৪ লাখ ৯৯ হাজার থেকে ১৪ কোটি ৫০ লাখে নামিয়ে আনা হয়েছে। এটি অপচয় রোধ নয়, এটি দেশপ্রেম। এটি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ‘দেশের টাকা দেশেই, দেশের মেধা দেশের জন্য’ – নীতির বাস্তব প্রয়োগ, যা তিনি পিতা জিয়াউর রহমানের কাছ থেকেই শিখেছেন।
বিকার: জলবায়ু যুদ্ধে বাংলাদেশের দুর্গ : প্রকল্পের সবচেয়ে গর্বের ও যুগান্তকারী উদ্যোগ হলো বাকৃবিতে ‘বাংলাদেশ ইনস্ট্রুমেন্টেশন সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল রিসার্চ’ বা ‘বিকার’ প্রতিষ্ঠা।
কেন এটি প্রয়োজন? বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনে প্রতি বছর ১% হারে ফসলি জমি কমছে, লবণাক্ততা বাড়ছে ২৬%, খরা ও অসময়ে বন্যা বাড়ছে। এই কেন্দ্রে রিমোট সেন্সিং, জিপিএস, জিআইএস, ড্রোন, ডিজিটাল টুইন, ওয়েদার অ্যানালিটিকস, বিগ ডেটা, বায়োটেকনোলজি ও রোবটিক্সের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি উদ্ভাবন করা হবে। এর ল্যাব শুধু বাকৃবির নয়, দেশের সকল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ব্যবহার করতে পারবেন, এমনকি প্রয়োজনে সাধারণ কৃষকের জন্যও এর সেবা উন্মুক্ত থাকবে। এর ভবনের নকশা ও তদারকির পরামর্শক ব্যয়ও ৩৭ লাখ ৭৯ হাজার ১১ ডলার থেকে যাচাই-বাছাই করে ৩৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩৬ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে – প্রায় ২ লাখ ডলার সাশ্রয়।
সবুজ বিপ্লবের জনক: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান :
পৃথিবীর ইতিহাসে প্রতিটি সবুজ বিপ্লবের একজন জনক থাকে। পশ্চিমা বিশ্বে নোবেলজয়ী নরম্যান বোরলগ, ভারতে এম এস স্বামীনাথন। আর বাংলাদেশে? বাংলাদেশে সবুজ বিপ্লবের অবিসংবাদিত জনক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫ সালে যখন দেশে খাদ্য ঘাটতি ৩০ লাখ মেট্রিক টন, ৮০% মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে, সেচের আওতা মাত্র ১৫%, তখন তিনি রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে প্রথমেই কৃষিকে ‘প্রথম সেক্টর’ ঘোষণা করেন। তিনি বলেছিলেন, “ভালো বীজে ভালো ফসল”। এই একটি বাক্য ছিল একটি জাতির কৃষি-মুক্তির ইশতেহার।
জাতীয় বীজ অধ্যাদেশ ১৯৭৭: মাইলফলক : এই দর্শন থেকেই ১৯৭৭ সালের জুলাই মাসে তিনি জারি করেন যুগান্তকারী জাতীয় বীজ অধ্যাদেশ। এর আগে কৃষক বাজার থেকে বীজ কিনে প্রতারিত হতো, ফলন হতো না। এই অধ্যাদেশে বীজের উৎপাদন, সংরক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে ব্যক্তি খাতকে যুক্ত করা হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া ব্যবসা ভেঙে দেওয়া হয়। ফল কী? আজ বাংলাদেশে ১৫০টির বেশি বেসরকারি বীজ কোম্পানি, যারা দেশের ৬০% উন্নত বীজ সরবরাহ করে, বছরে যাদের বাজার প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা – তার আইনি ও নৈতিক ভিত্তি রচনা করে গেছেন জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের BR-4 থেকে BR-11 এর মতো উচ্চফলনশীল জাতগুলোর দ্রুত মাঠে ছড়িয়ে পড়ার পেছনেও ছিল এই অধ্যাদেশ।
খাল খনন কর্মসূচি: কোদাল হাতে প্রেসিডেন্ট : ১৯৭৭ সালে শহীদ জিয়ার সবচেয়ে আলোচিত ও যুগান্তকারী কর্মসূচি – খাল খনন। উদ্দেশ্য ছিল গভীর নলকূপের উপর নির্ভরতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানি অর্থাৎ নদী-নালা-খাল-বিলের পানি দিয়ে সেচ দেওয়া, ফসলের নিবিড়তা ১২০% থেকে ১৫০% এ উন্নীত করা এবং বর্ষায় বন্যা থেকে ফসল রক্ষা করা। মাত্র দেড় বছরে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে সারাদেশে ১,৫০০ এর বেশি খাল খনন ও পুনঃখনন করা হয়, যার দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২,৮০০ কিলোমিটার। কোদাল হাতে, কাদা-মাটি মেখে লুঙ্গি পরে প্রেসিডেন্ট জিয়ার খাল কাটার সেই ছবি আজও ইতিহাস। আজ যখন বাংলাদেশের ৮১% সেচ আসে ভূগর্ভস্থ পানি থেকে, প্রতি বছর পানির স্তর ২-৩ মিটার নেমে যাচ্ছে, শ্যালো টিউবওয়েলে পানি উঠছে না, পানি ও মাটিতে আর্সেনিকের মাত্রা ভয়াবহ, তখন জাতি বুঝতে পারছে জিয়া কতটা দূরদর্শী ছিলেন। তাঁর সেই খাল আজ মরে গেছে, তাই মরছে কৃষিও। তারেক রহমান তাই আবার সেই খাল খননেই ফিরে গেছেন।
কৃষি সংস্কার ও উৎপাদনে বিপ্লব : শহীদ জিয়াউর রহমান শুধু খাল কাটেননি, তিনি কৃষি উপকরণের বিপ্লব ঘটিয়েছেন। সার, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ও উন্নত প্রযুক্তি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তিনি কৃষি সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেন। আমদানি ও বিতরণে বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দেন। তথ্য কথা বলে: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-২০১৮ এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪-৭৫ সালে দেশে মোট ধান উৎপাদন ছিল ১১.১১ মিলিয়ন টন। জিয়ার সংস্কারের মাত্র ৬ বছরের মধ্যে ১৯৮০-৮১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩.৬৬ মিলিয়ন টনে – প্রায় ২৩% বৃদ্ধি। বোরো ধানের আবাদ ১৯৭০-৭১ সালে ছিল ৯.৮২ লাখ হেক্টর, উৎপাদন ২১.৯ লাখ টন, ১৯৮০-৮১ সালে আবাদ বেড়ে ১১.৬১ লাখ হেক্টর এবং উৎপাদন ২৬.৩ লাখ টন। উচ্চফলনশীল বোরোর আবাদ দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পায়।
পল্লী বিদ্যুতায়ন: গ্রামে আলো, মাঠে সেচ : কৃষিতে সেচের জন্য বিদ্যুতের বিকল্প নেই, তা জিয়াউর রহমান বুঝেছিলেন। ১৯৭৭ সালের অক্টোবরে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। তখন দেশে বিদ্যুতায়নের হার ছিল ১০% এরও কম। আজ সেই বোর্ডের অধীনে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ গ্রাহক, ৯৮% গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। কৃষক রাতে মাঠে বিদ্যুৎ দিয়ে সেচ দিচ্ছে, ফলে সেচের খরচ ৪০% কমেছে, ফসলের নিবিড়তা বেড়েছে। বিশ্বব্যাংক একে তৃতীয় বিশ্বের অন্যতম সফল পল্লী বিদ্যুতায়ন মডেল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই আলোর ফেরিওয়ালা ছিলেন জিয়াউর রহমান।
বিশেষ কৃষি ঋণ ও খাদ্য গুদাম: কৃষকের অর্থনৈতিক মুক্তি :
ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক, যারা মহাজনের কাছে ১০০% সুদে ঋণ নিত, তাদের মুক্তি দিতে ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান ১০০ কোটি টাকার বিশেষ কৃষি ঋণ কর্মসূচি চালু করেন – জামানত ছাড়াই স্বল্প সুদে ঋণ। ১৯৭৮ সালে শস্য গুদাম ঋণ কর্মসূচি, যাতে কৃষক ফসল গুদামে রেখে ঋণ নিয়ে প্রয়োজন মেটাতে পারে এবং মৌসুম শেষে বেশি দামে বিক্রি করতে পারে। একই সাথে তিনি নতুন খাদ্য গুদাম নির্মাণ কর্মসূচি নেন। লাভজনক দামে সরাসরি ধান-চাল ক্রয় নীতি গ্রহণ করেন। ফলস্বরূপ ১৯৮০-৮১ সালে রেকর্ড ১.০৩ মিলিয়ন টন চাল সংগ্রহ করা হয় এবং স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে চাল রপ্তানি করা হয়। তিনি প্রমাণ করেন, বাংলাদেশ ভিক্ষুক নয়, রপ্তানিকারক হতে পারে।
গবেষণায় স্বায়ত্তশাসন ও শিল্পের ভিত্তি: জিয়ার দূরদর্শী রাষ্ট্রচিন্তা : ১৯৭৬ সাল। সদ্য স্বাধীন দেশে গবেষণা মানে ফাইলবন্দি কাগজ। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বুঝেছিলেন, লাল ফিতায় বন্দি গবেষণা দিয়ে কৃষি বাঁচবে না। তাই তিনি Presidential Order জারি করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট – বারি’কে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দিলেন। আজ বারি ৬১৫টির বেশি উচ্চফলনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন করেছে, যার সিংহভাগের ভিত্তি রচিত হয়েছিল জিয়ার সেই সাহসী সিদ্ধান্তে। একই বছর ১৯৭৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বিসিআইসি – বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন এবং বাংলাদেশ সুগার অ্যান্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন। উদ্দেশ্য একটাই, সারের জন্য বিদেশের দিকে হাত পাততে হবে না, চিনির জন্য আমদানির উপর নির্ভর করতে হবে না। ১৯৭৭ সালে চা অধ্যাদেশ জারি করে চা বোর্ডকে শক্তিশালী করেন। যে চা শিল্প আজ বছরে ৯ কোটি কেজির বেশি উৎপাদন করে, ২৫ কোটি ডলার রপ্তানি আয় আনে, তার আধুনিক কাঠামো দিয়েছিলেন জিয়া। ১৯৮০ সালের জুলাই মাসে দিনাজপুরের নশিপুরে প্রতিষ্ঠা করেন গম গবেষণা কেন্দ্র, যা আজ বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট। ১৯৭১ সালে দেশে গম উৎপাদন ছিল মাত্র ১ লাখ টন, জিয়ার উদ্যোগে ১৯৮১ সালে তা ১০ লাখ টন ছাড়িয়ে যায়। ১৯৮১ সালে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন, যার দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ১,৬০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া। আজকের কৃষি গবেষণা ও সার শিল্পের যে শক্ত ভিত, তার প্রতিটি ইটে লেখা আছে জিয়াউর রহমানের নাম।
আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া: কৃষকের মা :
শহীদ জিয়ার রক্ত ও আদর্শের যোগ্য উত্তরসূরী, আপোষহীন দেশনেত্রী, গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া। তিনি যখনই রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছেন, কৃষককে সন্তানের মতো বুকে টেনে নিয়েছেন। ১৯৯১ সালে প্রথম গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করেই তিনি ঘোষণা দিলেন, ৫০০০ টাকা পর্যন্ত সকল কৃষি ঋণ মওকুফ। বাংলার ইতিহাসে কোনো সরকারপ্রধান কৃষকের জন্য এত বড় সিদ্ধান্ত নেননি। তখন ৫০০০ টাকা মানে আজকের ৫০ হাজার টাকারও বেশি। লক্ষ লক্ষ প্রান্তিক কৃষক মহাজনের ঋণের জাল থেকে মুক্তি পেল। তিনিই প্রমাণ করলেন, বিএনপি কাগজে নয়, হৃদয়ে কৃষকের দল।
খালেদা জিয়ার ঋণ মওকুফ ও খাজনা মওকুফ: ১৫ লক্ষ পরিবারের হাসি : তাঁর এই ভালোবাসা একবারের জন্য ছিল না, ছিল ধারাবাহিক। পরবর্তী ধাপে তিনি ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ করেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তাঁর সরকার প্রায় ৫০০ কোটি টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ করে, যার মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হন প্রায় ১৫ লক্ষ কৃষক পরিবার। অর্থাৎ প্রায় ৭৫ লক্ষ মানুষ। শুধু ঋণ নয়, তিনি ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা চিরতরে মওকুফ করে দেন। যে কৃষক খাজনার ভয়ে জমি বর্গা দিতে বাধ্য হতো, সে কৃষক নিজের জমিতে বুক ফুলিয়ে চাষ করল। ১৯৯১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তাঁর শাসনামলে সারের দাম ৩০% কমানো হয়, সেচের জন্য বিদ্যুতের দাম কৃষকের নাগালের মধ্যে রাখা হয়। আজকের পরিসংখ্যান বলছে, খালেদা জিয়ার আমলেই দেশ প্রথমবারের মতো ২ কোটি ৭০ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের মাইলফলক অতিক্রম করে।
দেশনায়ক তারেক রহমান: নতুন দিনের কৃষি দিশারী : শহীদ জিয়া ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার রক্তের উত্তরাধিকার, কোটি তরুণের আশা-ভরসার প্রতীক, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান কৃষিকে আবারও রাষ্ট্রের কেন্দ্রবিন্দুতে এনেছেন। তিনি বলেন, “কৃষির উন্নয়ন হলেই দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে, অর্থনীতির চাকা সচল হবে।” এটি কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়, এটি একটি বিজ্ঞানভিত্তিক রোডম্যাপ। তিনি বুঝেছেন, ১৭ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা, ৪৫% কর্মসংস্থান, জিডিপির ১৩.৬৫% অবদান – সবই কৃষির উপর দাঁড়িয়ে। তাই তাঁর প্রথম নির্দেশ ছিল – কৃষককে আর ভিক্ষুকের মতো সারের দোকানে লাইন দিতে হবে না, কৃষক হবে স্মার্ট, কার্ডধারী নাগরিক।
কৃষি কার্ড ও ডাটাবেজ বিপ্লব: ১৪ লাখ কৃষকের ডিজিটাল ঠিকানা : তারেক রহমানের নির্দেশে যে বিপ্লবটি ঘটে গেছে তা অনেকেই জানেন না। ইতিমধ্যে সারাদেশে প্রায় ১৪ লাখ কৃষকের পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ প্রস্তুত করা হয়েছে – নাম, জমির পরিমাণ, ফসলের ধরন, মোবাইল নম্বর সহ। এর মধ্যে ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষকের হাতে পৌঁছে গেছে ডিজিটাল কৃষি কার্ড। এই একটি কার্ডে কী নেই? ন্যায্য মূল্যে সার-বীজ প্রাপ্তি, ৪০% ভর্তুকিতে সেচ সুবিধা, ৪% সুদে সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা সরাসরি মোবাইলে, ৭২ ঘণ্টা আগাম আবহাওয়ার পূর্বাভাস, প্রতিদিনের বাজার দর, বিনামূল্যে কৃষি প্রশিক্ষণ এবং শস্য বীমার সুবিধা। এটি শুধু কার্ড নয়, এটি কৃষকের অধিকারের দলিল। আওয়ামী লীগের আমলে কৃষক কার্ড ছিল চেয়ারম্যানের পকেটে, এখন কার্ড কৃষকের পকেটে।
নতুন খাল খনন: ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, ৪৭৫.৬১ কিলোমিটারের জাগরণ : পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তারেক রহমান গত ছয় মাসে ৪৭৫.৬১ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন করেছেন। এটি কোনো সাধারণ পরিসংখ্যান নয়। এই ৪৭৫ কিলোমিটার খালের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত সেচ সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে, ৩০ হাজার হেক্টর জলাবদ্ধ জমি চাষযোগ্য হয়েছে। সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্য ছিল, তিনি নিজে কোদাল হাতে, কাদা-পানিতে নেমে সাধারণ জনগণের সাথে খাল খননে অংশ নিয়েছেন। ১৯৭৭ সালের পর ২০২৬ সালে দেশবাসী আবার দেখল রাখাল প্রেসিডেন্টের প্রতিচ্ছবি। সেদিন খাল পাড়ে দাঁড়িয়ে এক বৃদ্ধ কৃষক কেঁদে বলেছিলেন, “জিয়া ফিরে এসেছে।” এটি শুধু খাল খনন নয়, এটি আস্থার পুনর্জাগরণ, এটি ভূগর্ভস্থ পানির উপর ৮১% নির্ভরতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের দিকে ফিরে যাওয়ার রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার।
সার ও প্রণোদনায় নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা: ৫.১২ কোটির বেশি :
ফসল উৎপাদনে সারের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিতকরণ ও কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাতে তারেক রহমান সরকার নিরবচ্ছিন্ন ভর্তুকি অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়া সারের দাম প্রতি টন ৪৫০ ডলার হলেও কৃষক পাচ্ছেন ২৭ টাকা কেজি দরে। এই বিপুল ভর্তুকির ভার সরকার বহন করছে।ইতিমধ্যে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৫.১২ কোটি টাকা কৃষি প্রণোদনা সরাসরি কৃষকের মোবাইল অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। আগামী বোরো মৌসুমের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার সার ভর্তুকির বাজেট অনুমোদন হয়েছে। ফ্যাসিবাদী আমলে সারের জন্য গুলি খেয়ে কৃষক মরেছে, আজ কৃষক সার পাচ্ছে ঘরে বসে।
সেটেপে যা থাকছে: শিক্ষক, ছাত্র, প্রযুক্তির ত্রিবেণী সঙ্গম : সেটেপ প্রকল্পে যা থাকছে তা জিয়া পরিবারের স্বপ্নেরই প্রতিফলন। শুধু ভবন নয়, মানুষ গড়ার কারখানা। এখানে থাকছে: ১২০টি অত্যাধুনিক গবেষণাগার আধুনিকায়ন, ৫০০ জন শিক্ষকের জন্য দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ ও গবেষণা ফেলোশিপ, ২০০০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য স্বল্পমেয়াদি ইন্টার্নশিপ ও বৃত্তি, ১৫টি নতুন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম, পাঠ্যক্রমে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও প্রিসিশন এগ্রিকালচার সংযোজন, ভর্তি ও নিবন্ধন কার্যক্রম ১০০% ডিজিটাল, তথ্য নিরাপত্তা জোরদার, ২০টি নারী ও প্রতিবন্ধীবান্ধব স্যানিটেশন ব্লক, ১০টি ইনোভেশন সেন্টার, ১০০টি স্টার্টআপে প্রাথমিক অর্থায়ন ও মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ। অর্থাৎ চাকরিজীবী নয়, উদ্যোক্তা কৃষিবিদ তৈরি হবে।
বাকৃবিকে আঞ্চলিক হাব করার পরিকল্পনা: দক্ষিণ এশিয়ার অক্সফোর্ড : এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক গবেষণা ও জ্ঞান হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ যথার্থই বলেছেন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বিদ্যমান সক্ষমতার বৈষম্য কমিয়ে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে বাকৃবির র্যাংকিং এশিয়ায় ৩৫০ এর মধ্যে, সেটেপ বাস্তবায়নের পর ২০৩১ সালের মধ্যে তা ১৫০ এর মধ্যে নিয়ে আসার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কেও প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা অনুদানে যুক্ত করা হবে, যাতে ময়মনসিংহ, গাজীপুর, সিলেট, ঢাকা সবখানে গবেষণার আলো ছড়িয়ে পড়ে। এটি জিয়ার “সবার জন্য উন্নয়ন” দর্শনেরই বাস্তবায়ন।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক সংগঠন সাদা দলের আহবায়ক, ইউট্যাব এর মহাসচিব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মোঃ মোর্শেদ হাসান খান বলেন, “বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নে জিয়া পরিবারের অবদান কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, এটি একটি প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস ও পরিসংখ্যানগত সত্য।””শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন ১৯৭৭ সালে জাতীয় বীজ অধ্যাদেশ এবং খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেন, তখন তিনি শুধু কৃষি উন্নয়ন করেননি, তিনি বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার দর্শন দিয়েছিলেন। ১৯৭৪-৭৫ সালে ১১.১১ মিলিয়ন টন থেকে ১৯৮০-৮১ সালে ১৩.৬৬ মিলিয়ন টনে ধান উৎপাদন বৃদ্ধি – এটি বিএনপির কৃষি দর্শনের সফলতার প্রমাণ। তিনি বারি’কে স্বায়ত্তশাসন, বিসিআইসি, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, আশুগঞ্জ সার কারখানা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কৃষির শিল্পায়নের ভিত্তি রচনা করে গেছেন।””তাঁরই যোগ্য উত্তরসূরী, দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে ৫০০০ টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ, পরবর্তীতে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ মওকুফ করে ১৫ লক্ষ কৃষককে মুক্তি দিয়েছেন এবং ২৫ বিঘা পর্যন্ত খাজনা মওকুফ করে প্রমাণ করেছেন – বিএনপি মানেই কৃষকের সরকার।””আজ দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২,২৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকার সেটেপ প্রকল্প, বিকার প্রতিষ্ঠা, ১৪ লাখ কৃষকের ডাটাবেজ, ২০ হাজার ৮৩২টি কৃষি কার্ড বিতরণ এবং মাত্র ছয় মাসে ৪৭৫.৬১ কিলোমিটার খাল খনন – এটি জিয়া পরিবারের ধারাবাহিক কৃষি বিপ্লবের তৃতীয় অধ্যায়। পরামর্শক খাতে ১৯ কোটি এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষা খাতে ৪০ কোটি টাকা সাশ্রয় করে তিনি প্রমাণ করেছেন, তাঁর সরকার অপচয়ের নয়, স্বচ্ছতা ও সুশাসনের সরকার।””একজন শিক্ষক হিসেবে আমি মনে করি, সেটেপ প্রকল্পের মাধ্যমে বাকৃবিকে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক জ্ঞান হাবে পরিণত করা, গবেষণাগার আধুনিকায়ন, শিক্ষকদের ফেলোশিপ, শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও স্টার্টআপে অর্থায়ন – এগুলো তারেক রহমানের ভিশনারি নেতৃত্বের ফসল। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ড্রোন, রিমোট সেন্সিং, বায়োটেকনোলজি ব্যবহারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বাংলাদেশের কৃষিকে ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশের দিকে নিয়ে যাবে।” “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নে জিয়া পরিবারের কোনো বিকল্প নেই। শহীদ জিয়া ছিলেন কৃষি বিপ্লবের জনক, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন কৃষকের মা, আর তারেক রহমান হলেন স্মার্ট কৃষির দিশারী।”
যুব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান: লাঠি নয়, ট্রাক্টর : ১৯৭৮ সালে যুব মন্ত্রণালয় ও ১৯৮১ সালে যুব উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জিয়াউর রহমান বেকার যুবকদের হাতে লাঠি নয়, হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, মাছের পোনা তুলে দিয়েছিলেন। পোল্ট্রি, মৎস্য, ডেইরি ও কৃষিভিত্তিক প্রশিক্ষণ দিয়ে তিনি আত্মকর্মসংস্থানের পথ দেখিয়েছিলেন। আজ সেই কেন্দ্রগুলো থেকে প্রতি বছর ২ লাখ যুবক প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। তারেক রহমানের স্টার্টআপ ও ইনকিউবেশন কর্মসূচি সেই ধারাকেই এগিয়ে নিচ্ছে। সেটেপের অধীনে ১০০টি কৃষিভিত্তিক স্টার্টআপকে ১০ লাখ টাকা করে সিড মানি দেওয়া হবে। তরুণরা চাকরি খুঁজবে না, চাকরি দেবে। এটি জিয়া পরিবারের যুব-দর্শন।
বার্ড, আরডিএ ও সিরডাপ: পল্লী উন্নয়নের মহাকাব্য : “পল্লীর উন্নয়ন বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়” – এই অমর বাণীটি জিয়াউর রহমানের। এই বিশ্বাসে তিনি কুমিল্লার বার্ডকে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। পল্লী উন্নয়নের জাদুকর ড. আখতার হামিদ খানকে আমেরিকা থেকে ফিরিয়ে এনে বগুড়ার আরডিএকে ১৯৮০ সালে শেরপুরে ১২০ একর জমিতে নিজস্ব আধুনিক ক্যাম্পাসে প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৯ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করেন আন্তর্জাতিক মানের পল্লী উন্নয়ন সংস্থা সিরডাপ – সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক। আজ ১৫টি দেশের পল্লী উন্নয়নের নীতি নির্ধারিত হয় ঢাকায় বসে। গ্রামকে শহর বানানোর যে স্বপ্ন তারেক রহমান দেখাচ্ছেন, তার বীজ বুনেছিলেন জিয়াউর রহমান ৪৫ বছর আগে।
খাদ্য নিরাপত্তা থেকে খাদ্য সার্বভৌমত্ব: ওএমএস ও ফুড ফর ওয়ার্ক : জিয়াউর রহমানের আমলে চালু হওয়া Food for Work কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ রাস্তা, বাঁধ ও খাল নির্মাণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। আর OMS – খোলা বাজারে খাদ্য বিক্রয় কর্মসূচি আজও নিম্ন আয়ের ৫০ লাখ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার সবচেয়ে সমাদৃত কর্মসূচি। যখন বাজারে চালের দাম ৬০ টাকা, তখন ওএমএসে ৩০ টাকায় চাল পাচ্ছে গরিব মানুষ। এই কর্মসূচি ছিল খাদ্য নিরাপত্তা থেকে খাদ্য সার্বভৌমত্বের দিকে যাত্রা। এটি জিয়ার মানবিক রাষ্ট্রের দর্শন।
ভবিষ্যতের কৃষি: স্মার্ট, জলবায়ু সহনশীল ও লাভজনক :
ভবিষ্যৎ কৃষি হবে স্মার্ট কৃষি। জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, প্রতি বছর ০.৪% হারে আবাদি জমি কমে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেটেপ প্রকল্পে জলবায়ু-স্মার্ট শিক্ষা, নির্ভুল কৃষি প্রযুক্তি, কৃষি-শিল্প-বাজার সংযোগের যে মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের কৃষিকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যাবে। তরুণরা ড্রোন দিয়ে সার ছিটাবে, মোবাইলে মাটি পরীক্ষা করবে, রোবট দিয়ে ফসল কাটবে – এই স্বপ্নই দেখাচ্ছেন দেশনায়ক তারেক রহমান।
ইতিহাস সাক্ষী, বাংলাদেশে যখনই কৃষক কেঁদেছে, জিয়া পরিবার তার চোখের জল মুছেছে। আর যখনই কৃষকবিমুখ শাসক এসেছে, কৃষককে সারের জন্য গুলি খেয়ে মরতে হয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাদের শিখিয়েছেন, কিভাবে ভালো বীজে ভালো ফসল ফলাতে হয়। কিভাবে খাল কেটে ভূ-উপরিস্থ পানি দিয়ে সেচ দিয়ে ভূগর্ভস্থ পানিকে বাঁচাতে হয়। কিভাবে ১০০ কোটি টাকার ঋণ দিয়ে মহাজনী সুদের হাত থেকে কৃষককে বাঁচাতে হয়। তিনি শুধু রাষ্ট্রপতি ছিলেন না, তিনি ছিলেন কোটি কৃষকের রাখাল রাজা। তাঁর হাতে লেগে থাকা কাদা-মাটি ছিল এদেশের সবচেয়ে পবিত্র রাজটীকা। তাঁরই আদর্শের প্রদীপ হাতে নিয়ে আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেখিয়েছেন, শাসন মানে শোষণ নয়, শাসন মানে মমতা। ৫০০০ টাকা, ১০,০০০ টাকা, ৫০০ কোটি টাকার ঋণ মওকুফ, ২৫ বিঘা পর্যন্ত খাজনা মওকুফ, ১৫ লক্ষ পরিবারকে ঋণমুক্তি – এই পরিসংখ্যানগুলো শুধু টাকার অঙ্ক নয়, এগুলো ১৫ লক্ষ পরিবারের উনুনে আবার আগুন জ্বলার গল্প। তিনি প্রমাণ করেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে কৃষক হাসে। আর আজ, ইতিহাসের তৃতীয় অধ্যায়ে, দেশনায়ক তারেক রহমান সেই হাসিকে স্থায়ী রূপ দিচ্ছেন। ১৪ লাখ কৃষকের ডাটাবেজ, ২০,৮৩২টি কৃষি কার্ড, ৪৭৫.৬১ কিলোমিটার খাল খনন, ৫.১২ কোটি টাকা প্রণোদনা, ২,২৪৭ কোটি টাকার সেটেপ প্রকল্পে ১৯ কোটি, ৪০ কোটি টাকা সাশ্রয় করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা – এগুলো তাঁর অঙ্গীকারের প্রাথমিক নমুনা মাত্র। তিনি পিতার মতো কোদাল ধরেছেন, মায়ের মতো কৃষককে ভালোবেসেছেন। তিনি বুঝেছেন, ৮১% ভূগর্ভস্থ পানি নির্ভরতা, প্রতি বছর পানির স্তর ৩ মিটার নিচে নেমে যাওয়া, আর্সেনিকের ভয়াল থাবা থেকে বাঁচতে হলে জিয়ার খাল খননেই ফিরতে হবে। তিনি বুঝেছেন, সার-বীজের জন্য কৃষককে আর দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে না, সেবা যাবে কৃষকের দ্বারে – কার্ডের মাধ্যমে, মোবাইলের মাধ্যমে। তাই আজ জাতির সামনে প্রশ্ন স্পষ্ট। বাংলাদেশের কৃষি বাঁচবে কোন পথে? উত্তর একটাই – জিয়া পরিবারের পথে। যে পরিবার ১৯৭৭ সালে জাতীয় বীজ অধ্যাদেশ দিয়েছে, ১৯৭৬ সালে বারি’কে স্বায়ত্তশাসন দিয়েছে, বিসিআইসি, চা বোর্ড, গম গবেষণা কেন্দ্র, আশুগঞ্জ সার কারখানা দিয়েছে, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড দিয়ে ৯৮% গ্রামে আলো জ্বেলেছে, বার্ড, আরডিএ, সিরডাপ দিয়ে পল্লী উন্নয়নের দর্শন দিয়েছে – সেই পরিবারই পারবে জলবায়ু পরিবর্তনের এই ভয়াবহ যুদ্ধে বাংলাদেশের কৃষিকে বাঁচাতে। সেটেপ প্রকল্পের ২,২৪৭ কোটি টাকা কোনো ব্যয় নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জিয়া পরিবারের আরেকটি আমানত। এই প্রকল্প সফল হলে বাকৃবি হবে দক্ষিণ এশিয়ার অক্সফোর্ড, কৃষক হবে স্মার্ট উদ্যোক্তা, বাংলাদেশ হবে খাদ্যে শুধু স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, খাদ্য রপ্তানিকারক দেশ। পরিশেষে, একজন বিএনপির পরিবারের সন্তান হিসেবে আমি দৃঢ় কণ্ঠে বলতে চাই – এদেশের কৃষি ও কৃষকের ভাগ্য জিয়া পরিবারের হাতেই নিরাপদ। শহীদ জিয়া আমাদের কৃষি বিপ্লবের জনক, খালেদা জিয়া আমাদের কৃষকের মা, আর তারেক রহমান আমাদের ভবিষ্যতের দিশারী। তাঁদের হাত ধরেই একদিন বাংলাদেশের প্রতিটি মাঠ সোনালী ধানে ভরে উঠবে, প্রতিটি কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে। সেই সোনালী ভবিষ্যতের অপেক্ষায় আজও বাংলার ১৭ কোটি মানুষ তাকিয়ে আছে জিয়া পরিবারের দিকে।
লেখক : জুবাইয়া বিন্তে কবির
অর্থনীতিবিদ, গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট
উপসম্পাদক : দৈনিক জনতার বিজয়

ডেস্ক রিপোর্ট 






















