ঢাকা ০১:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

খুলে দেওয়া হলো শতবর্ষী সীমা বৌদ্ধবিহার, ফিরছেন পর্যটকেরা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১০:৫০:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মিশ্রিপাড়ায় অবস্থিত শতবর্ষী সীমা বৌদ্ধবিহার। রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রতিবাদের মুখে বন্ধ থাকা বিহারটি অবশেষে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাসে বৃহস্পতিবার রাতে বিহারের মূল ফটকের তালা খুলে দেয় কর্তৃপক্ষ।
উপজেলা প্রশাসন ও মহিপুর থানা-পুলিশের উদ্যোগে রাখাইন সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে শুক্রবার সকাল থেকে পর্যটকেরা আবারও বিহার ও মন্দির দর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন।
তবে বিহারটি খুলে দেওয়া হলেও সভাপতি রাখাইন মংলাচিংকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়ে গেছে। বিহারের অধ্যক্ষ উত্তম মহাথেরো এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের প্রত্যাশা জানিয়েছেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে বিহারের সীমানার দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে একটি ছোট দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। বিহার কমিটির সভাপতি মংলাচিংয়ের অভিযোগ, বিহার ও মন্দিরের আয়ের উৎস তৈরির জন্য দোকান নির্মাণের কাজ শুরু করলে স্থানীয় দুই ব্যক্তি শামসুল আলম ও নাসির উদ্দিন হাওলাদার বাধা দেন। একপর্যায়ে বাগ্বিতণ্ডার পর নাসির উদ্দিন তাঁকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার প্রথমে বিহারের সামনে নীরব অবস্থান নেন রাখাইন সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা। পরে অনির্দিষ্টকালের জন্য পর্যটক ও দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বন্ধের নোটিশও দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় নাসির উদ্দিন হাওলাদারসহ দুজনকে আসামি করে মহিপুর থানায় মামলা হয়েছে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। রাখাইন সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। রাখাইন নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আপাতত পরিস্থিতি নিরসন করা হয়েছে। পর্যটক ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বিহারের ফটক খুলে যাওয়ায় কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্য শতবর্ষী এই ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা দর্শনের পথ আবারও উন্মুক্ত হলো। তবে বিহার কমিটির সভাপতিকে লাঞ্ছিত করার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত হওয়াই এখন রাখাইন সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রত্যাশা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইয়েমেনি বাহিনীর হামলায় ১৬ হুথি যোদ্ধা নিহত

খুলে দেওয়া হলো শতবর্ষী সীমা বৌদ্ধবিহার, ফিরছেন পর্যটকেরা

প্রকাশিত : ১০:৫০:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মিশ্রিপাড়ায় অবস্থিত শতবর্ষী সীমা বৌদ্ধবিহার। রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রতিবাদের মুখে বন্ধ থাকা বিহারটি অবশেষে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাসে বৃহস্পতিবার রাতে বিহারের মূল ফটকের তালা খুলে দেয় কর্তৃপক্ষ।
উপজেলা প্রশাসন ও মহিপুর থানা-পুলিশের উদ্যোগে রাখাইন সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে শুক্রবার সকাল থেকে পর্যটকেরা আবারও বিহার ও মন্দির দর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন।
তবে বিহারটি খুলে দেওয়া হলেও সভাপতি রাখাইন মংলাচিংকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়ে গেছে। বিহারের অধ্যক্ষ উত্তম মহাথেরো এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের প্রত্যাশা জানিয়েছেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে বিহারের সীমানার দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে একটি ছোট দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। বিহার কমিটির সভাপতি মংলাচিংয়ের অভিযোগ, বিহার ও মন্দিরের আয়ের উৎস তৈরির জন্য দোকান নির্মাণের কাজ শুরু করলে স্থানীয় দুই ব্যক্তি শামসুল আলম ও নাসির উদ্দিন হাওলাদার বাধা দেন। একপর্যায়ে বাগ্বিতণ্ডার পর নাসির উদ্দিন তাঁকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার প্রথমে বিহারের সামনে নীরব অবস্থান নেন রাখাইন সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা। পরে অনির্দিষ্টকালের জন্য পর্যটক ও দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বন্ধের নোটিশও দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় নাসির উদ্দিন হাওলাদারসহ দুজনকে আসামি করে মহিপুর থানায় মামলা হয়েছে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। রাখাইন সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। রাখাইন নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আপাতত পরিস্থিতি নিরসন করা হয়েছে। পর্যটক ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বিহারের ফটক খুলে যাওয়ায় কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্য শতবর্ষী এই ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা দর্শনের পথ আবারও উন্মুক্ত হলো। তবে বিহার কমিটির সভাপতিকে লাঞ্ছিত করার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত হওয়াই এখন রাখাইন সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রত্যাশা।