ঢাকা ০১:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ঋণ, সহায়তা হ্রাস এবং কর্মসংস্থান সংকটের কোনো সমাধান মেলেনি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১০:০০:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা শেষ হলেও বৈশ্বিক সংঘাত, ঋণের বাড়তি বোঝা, উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়া এবং কর্মসংস্থানের সংকট মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রত্যাশিত সমাধান মেলেনি।

সপ্তাহব্যাপী আলোচনার পরও এসব সংকটের জন্য নতুন ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের ঘাটতি রয়ে গেছে। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও নিম্ন আয়ের দেশগুলোর সামনে অনিশ্চয়তা কাটেনি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, ইউক্রেন যুদ্ধ, ঋণ পরিশোধের বাড়তি ব্যয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই শেষ হয়েছে সভা।

রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রকাশিত মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা সামলে চললেও সেই স্থিতিস্থাপকতার সুফল সব দেশ সমানভাবে পাচ্ছে না। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য ঋণের খরচ ও মূল্যস্ফীতির চাপ উন্নয়ন ব্যয় সংকুচিত করছে।

১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, নীতিনির্ধারক ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন। বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি, সরকারি ঋণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, বেসরকারি বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং কর্মসংস্থান ছিল আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরামর্শের বড় অংশজুড়ে ছিল বাজেট ঘাটতি কমানো, অর্থনৈতিক সংস্কার ত্বরান্বিত করা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ। কিন্তু ঋণের চাপ, উন্নয়ন সহায়তার অনিশ্চয়তা ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা রয়ে গেছে।

উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর নীতি ও সিদ্ধান্তের প্রভাবও পড়ছে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ওপর। ঋণের ব্যয় বাড়ছে, মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হচ্ছে এবং এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের কারণে অর্থনৈতিকভাবে আরও পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে প্রচলিত পরামর্শই দেওয়া হয়েছে।

সমাপনী দিনে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, বাজেটের ভারসাম্যহীনতার ক্ষেত্রে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোই বড় সমস্যার উৎস। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মোট ঋণের মাত্রা কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে বন্ডের মুনাফা বা ইল্ড বেড়ে যাওয়ায় তাদের ঋণ নেওয়ার খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ঋণ পরিশোধের ব্যয় এক দশক আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে সরকারি রাজস্বের প্রায় ১৪ শতাংশে পৌঁছেছে। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি খাতে ব্যয়ের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।

অর্থাৎ কোনো দেশের ঋণের পরিমাণ কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হার বেড়ে গেলে ঋণ পরিশোধের ব্যয় বাড়তে পারে। উন্নত দেশগুলোর আর্থিক নীতির প্রভাব এভাবেই উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সুনামগঞ্জ ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে বালু বোঝাই ট্রাকসহ আটক-১

ঋণ, সহায়তা হ্রাস এবং কর্মসংস্থান সংকটের কোনো সমাধান মেলেনি

প্রকাশিত : ১০:০০:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা শেষ হলেও বৈশ্বিক সংঘাত, ঋণের বাড়তি বোঝা, উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়া এবং কর্মসংস্থানের সংকট মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রত্যাশিত সমাধান মেলেনি।

সপ্তাহব্যাপী আলোচনার পরও এসব সংকটের জন্য নতুন ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের ঘাটতি রয়ে গেছে। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও নিম্ন আয়ের দেশগুলোর সামনে অনিশ্চয়তা কাটেনি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, ইউক্রেন যুদ্ধ, ঋণ পরিশোধের বাড়তি ব্যয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই শেষ হয়েছে সভা।

রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রকাশিত মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা সামলে চললেও সেই স্থিতিস্থাপকতার সুফল সব দেশ সমানভাবে পাচ্ছে না। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য ঋণের খরচ ও মূল্যস্ফীতির চাপ উন্নয়ন ব্যয় সংকুচিত করছে।

১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, নীতিনির্ধারক ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন। বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি, সরকারি ঋণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, বেসরকারি বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং কর্মসংস্থান ছিল আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরামর্শের বড় অংশজুড়ে ছিল বাজেট ঘাটতি কমানো, অর্থনৈতিক সংস্কার ত্বরান্বিত করা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ। কিন্তু ঋণের চাপ, উন্নয়ন সহায়তার অনিশ্চয়তা ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা রয়ে গেছে।

উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর নীতি ও সিদ্ধান্তের প্রভাবও পড়ছে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ওপর। ঋণের ব্যয় বাড়ছে, মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হচ্ছে এবং এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের কারণে অর্থনৈতিকভাবে আরও পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে প্রচলিত পরামর্শই দেওয়া হয়েছে।

সমাপনী দিনে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, বাজেটের ভারসাম্যহীনতার ক্ষেত্রে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোই বড় সমস্যার উৎস। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মোট ঋণের মাত্রা কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে বন্ডের মুনাফা বা ইল্ড বেড়ে যাওয়ায় তাদের ঋণ নেওয়ার খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ঋণ পরিশোধের ব্যয় এক দশক আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে সরকারি রাজস্বের প্রায় ১৪ শতাংশে পৌঁছেছে। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি খাতে ব্যয়ের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।

অর্থাৎ কোনো দেশের ঋণের পরিমাণ কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হার বেড়ে গেলে ঋণ পরিশোধের ব্যয় বাড়তে পারে। উন্নত দেশগুলোর আর্থিক নীতির প্রভাব এভাবেই উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে।