ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬

তারেক রহমান এখন বিএনপির চেয়ারম্যান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০১:০৬:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

বিএনপির চেয়ারপারসনের পদ শূন্য হওয়ার পর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত দল থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। চলমান কার্যক্রমেও এই পদকে আলাদাভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দলীয় এবং রাষ্ট্রীয় শোক চলার মধ্যে এখনই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়াই কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এখন তারেক রহমানই বিএনপির চেয়ারম্যান। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পুরো দেশ শোকে আচ্ছন্ন। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক আজ শেষ হবে। এ সময় দলের পক্ষ থেকে সাত দিনের শোক পালন চলছে। এ পরিস্থিতিতে স্থায়ী কমিটির আগামী সভায় চেয়ারম্যানের পদ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিএনপির ইতিহাসে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া দলটির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। মাত্র আড়াই বছরের মধ্যে তিনি চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। ২০২৫ সালের মে মাসে তার চেয়ারপারসন হিসেবে ৪১ বছর পূর্ণ হলো। এই দীর্ঘ সময়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি তিনবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দীর্ঘ নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা দলের স্থিতিশীলতার প্রধান ভিত্তি ছিল।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি, খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

গঠনতন্ত্রের ৭(গ) ধারায় বলা হয়েছে, চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান দলের সব দায়িত্ব পালন করবেন। সেই নিয়ম অনুযায়ী তারেক রহমান ২০১৮ সাল থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর একই ধারার উপধারা ৩ অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বাকি মেয়াদের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই বিধানের কারণে তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করার জন্য আলাদা কোনো ঘোষণা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তথাপি দলের বিভিন্ন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাকে এখনও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গণমাধ্যমকে বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শুধু বিএনপির নেতাকর্মী নয়; পুরো দেশ অভিভাবকহীনতায় আছে। তারেক রহমানও শোকে মুহ্যমান। এ অবস্থায় দলের পদ-পদবি নিয়ে কারও কোনো চিন্তা নেই। তবে স্পষ্ট বলতে পারি, বর্তমানে তারেক রহমানই দলের চেয়ারম্যান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নিয়োগ বিএনপির জন্য স্থিতিশীলতার বার্তা হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। দলের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এবং নেতৃত্বের অভাব মোকাবিলা করতে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপির আগামী স্থায়ী কমিটির সভা এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সময়ই স্পষ্ট হবে, দালিলিকভাবে নতুন চেয়ারম্যানের ঘোষণা কবে প্রকাশিত হবে।

তারেক রহমান এখন বিএনপির চেয়ারম্যান

প্রকাশিত : ০১:০৬:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

বিএনপির চেয়ারপারসনের পদ শূন্য হওয়ার পর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত দল থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। চলমান কার্যক্রমেও এই পদকে আলাদাভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দলীয় এবং রাষ্ট্রীয় শোক চলার মধ্যে এখনই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়াই কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এখন তারেক রহমানই বিএনপির চেয়ারম্যান। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পুরো দেশ শোকে আচ্ছন্ন। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক আজ শেষ হবে। এ সময় দলের পক্ষ থেকে সাত দিনের শোক পালন চলছে। এ পরিস্থিতিতে স্থায়ী কমিটির আগামী সভায় চেয়ারম্যানের পদ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিএনপির ইতিহাসে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া দলটির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। মাত্র আড়াই বছরের মধ্যে তিনি চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। ২০২৫ সালের মে মাসে তার চেয়ারপারসন হিসেবে ৪১ বছর পূর্ণ হলো। এই দীর্ঘ সময়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি তিনবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দীর্ঘ নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা দলের স্থিতিশীলতার প্রধান ভিত্তি ছিল।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি, খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

গঠনতন্ত্রের ৭(গ) ধারায় বলা হয়েছে, চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান দলের সব দায়িত্ব পালন করবেন। সেই নিয়ম অনুযায়ী তারেক রহমান ২০১৮ সাল থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর একই ধারার উপধারা ৩ অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বাকি মেয়াদের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই বিধানের কারণে তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করার জন্য আলাদা কোনো ঘোষণা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তথাপি দলের বিভিন্ন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাকে এখনও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গণমাধ্যমকে বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শুধু বিএনপির নেতাকর্মী নয়; পুরো দেশ অভিভাবকহীনতায় আছে। তারেক রহমানও শোকে মুহ্যমান। এ অবস্থায় দলের পদ-পদবি নিয়ে কারও কোনো চিন্তা নেই। তবে স্পষ্ট বলতে পারি, বর্তমানে তারেক রহমানই দলের চেয়ারম্যান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নিয়োগ বিএনপির জন্য স্থিতিশীলতার বার্তা হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। দলের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এবং নেতৃত্বের অভাব মোকাবিলা করতে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপির আগামী স্থায়ী কমিটির সভা এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সময়ই স্পষ্ট হবে, দালিলিকভাবে নতুন চেয়ারম্যানের ঘোষণা কবে প্রকাশিত হবে।