ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উৎপাদন ব্যয়, শ্রমমূল্য ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে লবণ মহালের ইজারামূল্য বৃদ্ধি করা হবে না।
তিনি বলেন, কক্সবাজার, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চট্টগ্রাম ও সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ এলাকায় হাজারো মানুষ এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। লবণ চাষে জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে লবণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ প্রতিটি ধাপেই মানুষের শ্রম অপরিহার্য। এ খাতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে, যা গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবিকায় বড় ভূমিকা রাখে।
বৃহস্পতিবার (০৪ জানুয়ারি) ভূমি মন্ত্রণালেয়র সভাকক্ষে জাতীয় লবণ মহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভায় উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

ভূমি উপদেষ্টা বলেন, লবণ মহালের ইজারামূল্য বৃদ্ধি না করার ফলে উৎপাদন ধারাবাহিক রাখা, বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং মূল্যস্থিতি বজায় রাখা সহজ হবে। লিজ প্রক্রিয়ায় জটিলতা, মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য এবং মাঠপর্যায়ে নজরদারির ঘাটতি থাকলে চাষিরা প্রত্যাশিত সুবিধা পান না। দেশে লবণের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন এলাকা সম্প্রসারণ করতে হবে। ভাষানচরে অনেক পরিমাণ চর জেগেছে যেখানে লবণমহাল করা যেতে পারে। চট্টগ্রামের বাশঁখালি ও কক্সবাজারে আরও লবণমহাল করার মতো যথেষ্ট জায়গা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, লবণ আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। এটি মৌসুমি শিল্প, নভেম্বর মাসে চাষাবাদ শুরু হয় এবং বর্ষায় চাষ বন্ধ থাকে। জাতীয় স্বার্থে এই উপাদানের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানোর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।
তিনি বলেন, ব্যক্তি মালিকানাধীন লবণ মহাল ইজারা বা নবায়নের ক্ষেত্রে অযৌক্তিকভাবে সেলামি মূল্য বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা এ খাতের জন্য গভীর উদ্বেগজনক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এক্ষেত্রে যৌক্তিক ইজারামূল্য অনুসরণ না করা হলে ওইসব ভূমির উন্নয়ন কর বৃদ্ধি করা হবে।
উল্লেখ্য, সারা দেশে ৬৯ হাজার ১৯৮ একর জামিতে লবণ চাষ করা হচ্ছে। একাজে ৪২ হাজার চাষি সরাসরি জড়িত। ১২টি লবণ কেন্দ্র ও ২৩০টি লবণ মিল রয়েছে যেখানে লবণ পরিশুদ্ধ করা হয়।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে খাতভিত্তিক লবণের চাহিদা ছিল ভোজ্যলবণ ৮.৮৫ লাখ টন, শিল্পখাতে ৮.৯২ লাখ টন, মৎস্য খাতে ০.৩৯ লাখ টন, প্রাণিসম্পদ খাতে ৩.৫০ লাখ টন মোট পরিশোধিত লবণের চাহিদা ২১.৬৭ লাখ টন, অপরিশোধিত লবণের চাহিদা ২৬.১০ লাখ টন। একর প্রতি লবণ উৎপাদন হয় ৩২.৫৪ টন। কেজি প্রতি লবণ উৎপাদন খরচ ৮.২৯ টাকা।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদের সঞ্চালনায় সভায় বিসিকের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















