ঢাকা ০৯:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

ডেসকোর ডাটা সেন্টার নির্মাণে ৭৫ কোটি টাকা লুটপাট

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৭:৪২:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) নিজস্ব ডাটা সেন্টার নির্মাণের মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রায় ৭৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ক্ষতিসাধনের অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের অনুসন্ধান বলছে, সরকারি নির্দেশনা সরাসরি উপেক্ষা করে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে নিজস্ব ডাটা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ নষ্ট করা হয়েছে। যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রায় ৭৫ কোটি টাকা ক্ষতিসাধন হয়েছে। যার জন্য সরাসরি ডেসকোর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কাউসার আমীর আলী এবং প্রধান প্রকৌশলী শামীম আহসান চৌধুরীকে দায়ী করা হয়েছে। এরই মধ্যে গত ২২ জানুয়ারি দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তাদেরকে আসামি করে মামলাও দায়ের করেছে দুদকের উপসহকারী পরিচালক হাবিবুর রহমান।

এ বিষয়ে দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রজ্ঞাপন অমান্য করেন। সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা ছিল, আইসিটি বিভাগের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থা নতুন করে আলাদা ডাটা সেন্টার নির্মাণ করতে পারবে না এবং সব সরকারি তথ্য সরকারের সেন্ট্রাল ডাটা সেন্টারে সংরক্ষণ করতে হবে। কিন্তু এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিজস্ব ডাটা সেন্টার নির্মাণ করে সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা প্রমাণ পেয়েছে। যে কারণে কমিশনের অনুমোদনক্রমে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ এবং বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ২০২০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ‘বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড (বিডিসিসিএল)’ নামে সরকারের নিজস্ব সেন্ট্রাল ডাটা সেন্টার চালু করা হয়। কিন্তু এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে ডেসকো ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল নিজস্ব ডাটা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এবং একাধিক জাতীয় পত্রিকায় প্রায় ৭১ কোটি ৭৮ লাখ ৪ হাজার ৮৮৬ টাকা ব্যয়ে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে অসন্তোষ সৃষ্টি হলে ২০২২ সালের ৮ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে কালিয়াকৈরের জাতীয় ডাটা সেন্টারে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সরকারি প্রজ্ঞাপন অমান্য করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ডাটা সেন্টার নির্মাণের প্রবণতা নিয়ে আলোচনা হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ই-গভর্নেন্স-১ অধিশাখা থেকে ২০২২ সালের ১২ অক্টোবর সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিবদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে পুনরায় নির্দেশনা দেওয়া হয়, আইসিটি বিভাগের পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো সংস্থা নতুন করে ডাটা সেন্টার নির্মাণ করতে পারবে না। অর্থাৎ ডেসকোর এই দরপত্র সরকারি সিদ্ধান্তের সরাসরি লঙ্ঘন। যার মাধ্যমে সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ নষ্ট হয়েছে এবং রাষ্ট্রের ৭৪ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯২ টাকা ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে দুদক মনে করছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেসকোর ডাটা সেন্টার নির্মাণে ৭৫ কোটি টাকা লুটপাট

প্রকাশিত : ০৭:৪২:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) নিজস্ব ডাটা সেন্টার নির্মাণের মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রায় ৭৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ক্ষতিসাধনের অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের অনুসন্ধান বলছে, সরকারি নির্দেশনা সরাসরি উপেক্ষা করে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে নিজস্ব ডাটা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ নষ্ট করা হয়েছে। যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রায় ৭৫ কোটি টাকা ক্ষতিসাধন হয়েছে। যার জন্য সরাসরি ডেসকোর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কাউসার আমীর আলী এবং প্রধান প্রকৌশলী শামীম আহসান চৌধুরীকে দায়ী করা হয়েছে। এরই মধ্যে গত ২২ জানুয়ারি দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তাদেরকে আসামি করে মামলাও দায়ের করেছে দুদকের উপসহকারী পরিচালক হাবিবুর রহমান।

এ বিষয়ে দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রজ্ঞাপন অমান্য করেন। সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা ছিল, আইসিটি বিভাগের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থা নতুন করে আলাদা ডাটা সেন্টার নির্মাণ করতে পারবে না এবং সব সরকারি তথ্য সরকারের সেন্ট্রাল ডাটা সেন্টারে সংরক্ষণ করতে হবে। কিন্তু এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিজস্ব ডাটা সেন্টার নির্মাণ করে সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা প্রমাণ পেয়েছে। যে কারণে কমিশনের অনুমোদনক্রমে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ এবং বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ২০২০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ‘বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড (বিডিসিসিএল)’ নামে সরকারের নিজস্ব সেন্ট্রাল ডাটা সেন্টার চালু করা হয়। কিন্তু এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে ডেসকো ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল নিজস্ব ডাটা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এবং একাধিক জাতীয় পত্রিকায় প্রায় ৭১ কোটি ৭৮ লাখ ৪ হাজার ৮৮৬ টাকা ব্যয়ে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে অসন্তোষ সৃষ্টি হলে ২০২২ সালের ৮ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে কালিয়াকৈরের জাতীয় ডাটা সেন্টারে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সরকারি প্রজ্ঞাপন অমান্য করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ডাটা সেন্টার নির্মাণের প্রবণতা নিয়ে আলোচনা হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ই-গভর্নেন্স-১ অধিশাখা থেকে ২০২২ সালের ১২ অক্টোবর সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিবদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে পুনরায় নির্দেশনা দেওয়া হয়, আইসিটি বিভাগের পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো সংস্থা নতুন করে ডাটা সেন্টার নির্মাণ করতে পারবে না। অর্থাৎ ডেসকোর এই দরপত্র সরকারি সিদ্ধান্তের সরাসরি লঙ্ঘন। যার মাধ্যমে সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ নষ্ট হয়েছে এবং রাষ্ট্রের ৭৪ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯২ টাকা ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে দুদক মনে করছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।