ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নারী, কৃষক ও তরুণ—এই তিন শক্তিতেই বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা তারেক রহমানের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৭:৫৮:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে
বেনাপোল প্রতিনিধি:-  বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারী—তাদের বাদ দিয়ে কোনোভাবেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে নারীদের অবমাননা করছে এবং তাদের ঘরের চার দেয়ালে বন্দি করে রাখার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর উপশহর উদ্যানে জেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে জনসভায় তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শনের ধারাবাহিকতায় বিএনপি নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “খালেদা জিয়া নারী শিক্ষার প্রসারে মাধ্যমিক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি গৃহিণীর হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে মায়েরা প্রতি মাসে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবেন।”
গার্মেন্টস শিল্পসহ দেশের অর্থনীতিতে নারীদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “যারা কর্মজীবী নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে, তারা কখনোই জনগণের বন্ধু হতে পারে না।”
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি উন্নয়নের নামে প্রতারণা নয়, বাস্তব উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। সরকার গঠন করলে কৃষকদের দোরগোড়ায় ন্যায্য মূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সূচিত খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “উলশী খালসহ সারা দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া খালগুলো খনন করা হবে। এতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং ফসল উৎপাদন দ্বিগুণ হবে।”
যশোর অঞ্চলের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এখানকার ফুল চাষ আধুনিকায়ন করে বিদেশে রফতানির ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করে আখ চাষিদের ভাগ্যোন্নয়ন এবং দেশে চিনি উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। বেকারত্ব দূর করতে প্রতিটি এলাকায় ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও আইটি পার্ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনকে দেশপ্রেমিক ও দেশবিরোধীদের লড়াই হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “একটি চক্র এনআইডি ও বিকাশ নম্বর ব্যবহার করে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। ভোট গণনায় দেরির অজুহাতে কারচুপির চেষ্টা হলে তা শক্ত হাতে প্রতিরোধ করতে হবে।”
তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই শান্তিতে বসবাস করবে। রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনই বিএনপির লক্ষ্য।” বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে জনতাকে উজ্জীবিত করেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তারেক রহমানের উপদেষ্টা মেহেদী আহমেদ ধ্বনি, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, অধ্যাপক নার্গিস বেগম এবং খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশাল-৬ আসন : দাঁড়িপাল্লার বিজয় হলে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে : মাহমুদুন্নবী

নারী, কৃষক ও তরুণ—এই তিন শক্তিতেই বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা তারেক রহমানের

প্রকাশিত : ০৭:৫৮:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
বেনাপোল প্রতিনিধি:-  বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারী—তাদের বাদ দিয়ে কোনোভাবেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে নারীদের অবমাননা করছে এবং তাদের ঘরের চার দেয়ালে বন্দি করে রাখার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর উপশহর উদ্যানে জেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে জনসভায় তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শনের ধারাবাহিকতায় বিএনপি নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “খালেদা জিয়া নারী শিক্ষার প্রসারে মাধ্যমিক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি গৃহিণীর হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে মায়েরা প্রতি মাসে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবেন।”
গার্মেন্টস শিল্পসহ দেশের অর্থনীতিতে নারীদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “যারা কর্মজীবী নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে, তারা কখনোই জনগণের বন্ধু হতে পারে না।”
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি উন্নয়নের নামে প্রতারণা নয়, বাস্তব উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। সরকার গঠন করলে কৃষকদের দোরগোড়ায় ন্যায্য মূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সূচিত খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “উলশী খালসহ সারা দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া খালগুলো খনন করা হবে। এতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং ফসল উৎপাদন দ্বিগুণ হবে।”
যশোর অঞ্চলের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এখানকার ফুল চাষ আধুনিকায়ন করে বিদেশে রফতানির ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করে আখ চাষিদের ভাগ্যোন্নয়ন এবং দেশে চিনি উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। বেকারত্ব দূর করতে প্রতিটি এলাকায় ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও আইটি পার্ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনকে দেশপ্রেমিক ও দেশবিরোধীদের লড়াই হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “একটি চক্র এনআইডি ও বিকাশ নম্বর ব্যবহার করে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। ভোট গণনায় দেরির অজুহাতে কারচুপির চেষ্টা হলে তা শক্ত হাতে প্রতিরোধ করতে হবে।”
তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই শান্তিতে বসবাস করবে। রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনই বিএনপির লক্ষ্য।” বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে জনতাকে উজ্জীবিত করেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তারেক রহমানের উপদেষ্টা মেহেদী আহমেদ ধ্বনি, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, অধ্যাপক নার্গিস বেগম এবং খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।