ঢাকা ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

প্রাণঘাতী ইরানের শাহেদ ড্রোন ঠেকানো কেন কঠিন?

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১২:৩৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
  • ২০ বার দেখা হয়েছে

ইরানের নকশা করা শাহেদ ড্রোন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে। জ্যামিং-প্রতিরোধী প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সক্ষমতার সস্তা ও মরণঘাতী এসব ড্রোনকে ঠেকানো অত্যন্ত কঠিন।

ব্রিটেনের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (আরইউএসআই) গবেষক থমাস উইথিংটন বলেছেন, আঘাত হানার সময় বিস্ফোরিত হওয়ার জন্য তৈরি করা ইরানের বিস্ফোরকবাহী শাহেদ ড্রোন ওড়ার কিছুক্ষণ আগে বা পরে জিপিএসের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে নিজেদের অবস্থান নির্ণয় করে। এরপর সাধারণত রিসিভার বন্ধ করে দেয়। এরপর ড্রোনগুলো তাদের গতি, দিক এবং অবস্থান পরিমাপকারী জাইরোস্কোপ ব্যবহার করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়; যা ‘ইনার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম’ নামে পরিচিত।

উইথিংটন এএফপিকে বলেন, লক্ষ্যবস্তু রক্ষা করার জন্য যেখানে জ্যামিং করা হচ্ছে, সেখানে জিপিএস কাজ করবে না। জিপিএস ব্যবহার না করার মাধ্যমে এসব ড্রোন সেই জ্যামিং এড়িয়ে চলে।

লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ঠিক আগ মুহূর্তে ড্রোনগুলো পুনরায় জিপিএস সংযোগ স্থাপন অথবা সংযোগ বিচ্ছিন্নও রাখতে পারে। উইথিংটন বলেন, এটি সবসময় খুব নির্ভুল না হলেও যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু নির্ভুল থাকে।

রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য শাহেদ ধাঁচের ড্রোন তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সার্ভে ২০২৩ সালে জানতে পারে, এসব ড্রোনে ‘স্টেট-অব-আর্ট অ্যান্টেনা ইন্টারফারেন্স সাপ্রেশন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়; যা শত্রুর জ্যামিং সিগন্যাল সরিয়ে প্রয়োজনীয় জিপিএস সিগন্যাল সচল রাখে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর দিকে সাইপ্রাসে আঘাত হানা ইরানের তৈরি একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষেও একই ধরনের জ্যামিং-প্রতিরোধী ব্যবস্থা পাওয়া গিয়েছিল বলে এএফপিকে জানিয়েছে ইউরোপীয় একটি সূত্র।

অস্টিনের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক টড হামফ্রেস এএফপিকে বলেন, সাধারণ বাজারে পাওয়া যায় এমন যন্ত্রাংশ দিয়ে শাহেদ ড্রোন তৈরি করেছে ইরান। কিন্তু এতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জিপিএস সরঞ্জামের অনেক সক্ষমতাই রয়েছে।

প্রাণঘাতী ইরানের শাহেদ ড্রোন ঠেকানো কেন কঠিন?

প্রকাশিত : ১২:৩৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

ইরানের নকশা করা শাহেদ ড্রোন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে। জ্যামিং-প্রতিরোধী প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সক্ষমতার সস্তা ও মরণঘাতী এসব ড্রোনকে ঠেকানো অত্যন্ত কঠিন।

ব্রিটেনের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (আরইউএসআই) গবেষক থমাস উইথিংটন বলেছেন, আঘাত হানার সময় বিস্ফোরিত হওয়ার জন্য তৈরি করা ইরানের বিস্ফোরকবাহী শাহেদ ড্রোন ওড়ার কিছুক্ষণ আগে বা পরে জিপিএসের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে নিজেদের অবস্থান নির্ণয় করে। এরপর সাধারণত রিসিভার বন্ধ করে দেয়। এরপর ড্রোনগুলো তাদের গতি, দিক এবং অবস্থান পরিমাপকারী জাইরোস্কোপ ব্যবহার করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়; যা ‘ইনার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম’ নামে পরিচিত।

উইথিংটন এএফপিকে বলেন, লক্ষ্যবস্তু রক্ষা করার জন্য যেখানে জ্যামিং করা হচ্ছে, সেখানে জিপিএস কাজ করবে না। জিপিএস ব্যবহার না করার মাধ্যমে এসব ড্রোন সেই জ্যামিং এড়িয়ে চলে।

লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ঠিক আগ মুহূর্তে ড্রোনগুলো পুনরায় জিপিএস সংযোগ স্থাপন অথবা সংযোগ বিচ্ছিন্নও রাখতে পারে। উইথিংটন বলেন, এটি সবসময় খুব নির্ভুল না হলেও যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু নির্ভুল থাকে।

রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য শাহেদ ধাঁচের ড্রোন তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সার্ভে ২০২৩ সালে জানতে পারে, এসব ড্রোনে ‘স্টেট-অব-আর্ট অ্যান্টেনা ইন্টারফারেন্স সাপ্রেশন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়; যা শত্রুর জ্যামিং সিগন্যাল সরিয়ে প্রয়োজনীয় জিপিএস সিগন্যাল সচল রাখে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর দিকে সাইপ্রাসে আঘাত হানা ইরানের তৈরি একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষেও একই ধরনের জ্যামিং-প্রতিরোধী ব্যবস্থা পাওয়া গিয়েছিল বলে এএফপিকে জানিয়েছে ইউরোপীয় একটি সূত্র।

অস্টিনের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক টড হামফ্রেস এএফপিকে বলেন, সাধারণ বাজারে পাওয়া যায় এমন যন্ত্রাংশ দিয়ে শাহেদ ড্রোন তৈরি করেছে ইরান। কিন্তু এতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জিপিএস সরঞ্জামের অনেক সক্ষমতাই রয়েছে।