ঢাকা ০৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম আক্রান্ত হয়ে বরিশালে দুই শিশুর মৃত্যু

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৬:১০:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে
বরিশাল  প্রতিনিধি: বরিশালসহ সারা দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম রোগের সংক্রমণ। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ হাম আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। হাম আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে শয্যা সংকট। একটি বেডে ৩ থেকে ৪ জন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে, যা চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত বেড, ওষুধ ও সেবার ঘাটতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে সঠিকভাবে চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিকিৎসকরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। একই সঙ্গে অভিভাবকদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে মোট চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে এই হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৯১ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ২৮ জন শিশু।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৮ এপ্রিল পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে হাম আক্রান্ত হয়ে মোট ১০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে মোট ৭৫১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৬৯ জন শিশু।
গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগজুড়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৭২ জন এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৬১ জন রোগী। এতে করে বোঝা যাচ্ছে, আক্রান্তের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি সুস্থতার হারও রয়েছে। তবে সংক্রমণের গতি উদ্বেগজনক।
স্বাস্থ্য বিভাগের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিভাগে মোট ১০৮০ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ৫৭ জন। এ সময়ের মধ্যে হাম আক্রান্ত হয়ে মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জেলা ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা ও ঝালকাঠি জেলায় হাম রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বরগুনা ও পটুয়াখালীতে আক্রান্তের হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাড়তি নজরদারি চালাচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। একই সঙ্গে ভিড় এড়িয়ে চলা এবং আক্রান্তদের আলাদা রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বরিশাল বিভাগের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবার সক্ষমতা বাড়ানো এবং জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত বেড ও জনবল নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। তবে সময়মতো টিকা প্রদান এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এ রোগ থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া সম্ভব। আমরা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখছি এবং সব হাসপাতালকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. বিকাশ চন্দ্র নাগ বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি। তবুও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি প্রতিটি শিশুকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে। অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ, শিশুদের টিকা সম্পূর্ণ করুন এবং জ্বর বা ফুসকুড়ির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসুন
জনপ্রিয় সংবাদ

ভোলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে, চালক গুরুতর আহত

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম আক্রান্ত হয়ে বরিশালে দুই শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত : ০৬:১০:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
বরিশাল  প্রতিনিধি: বরিশালসহ সারা দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম রোগের সংক্রমণ। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ হাম আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। হাম আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে শয্যা সংকট। একটি বেডে ৩ থেকে ৪ জন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে, যা চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত বেড, ওষুধ ও সেবার ঘাটতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে সঠিকভাবে চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিকিৎসকরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। একই সঙ্গে অভিভাবকদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে মোট চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে এই হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৯১ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ২৮ জন শিশু।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৮ এপ্রিল পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে হাম আক্রান্ত হয়ে মোট ১০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে মোট ৭৫১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৬৯ জন শিশু।
গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগজুড়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৭২ জন এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৬১ জন রোগী। এতে করে বোঝা যাচ্ছে, আক্রান্তের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি সুস্থতার হারও রয়েছে। তবে সংক্রমণের গতি উদ্বেগজনক।
স্বাস্থ্য বিভাগের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিভাগে মোট ১০৮০ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ৫৭ জন। এ সময়ের মধ্যে হাম আক্রান্ত হয়ে মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জেলা ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা ও ঝালকাঠি জেলায় হাম রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বরগুনা ও পটুয়াখালীতে আক্রান্তের হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাড়তি নজরদারি চালাচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। একই সঙ্গে ভিড় এড়িয়ে চলা এবং আক্রান্তদের আলাদা রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বরিশাল বিভাগের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবার সক্ষমতা বাড়ানো এবং জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত বেড ও জনবল নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। তবে সময়মতো টিকা প্রদান এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এ রোগ থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া সম্ভব। আমরা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখছি এবং সব হাসপাতালকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. বিকাশ চন্দ্র নাগ বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি। তবুও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি প্রতিটি শিশুকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে। অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ, শিশুদের টিকা সম্পূর্ণ করুন এবং জ্বর বা ফুসকুড়ির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসুন