পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ক্ষুদ্র-পরিসরের সামুদ্রিক জেলেদের নিরাপত্তা জোরদারে “ব্যক্তিগত ভাসমান যন্ত্র (PFD) উন্নয়ন” শীর্ষক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ-কার্যশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালায় শতাধিক সমুদ্রগামী বোটের মালিক, মাঝি ও জেলে অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত ভাসমান যন্ত্র (PFD)-এর সঠিক ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সমুদ্রে দুর্ঘটনা মোকাবিলার কৌশল বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্বল্প খরচে কীভাবে স্থানীয় উপকরণ—যেমন বাইকের টিউব, রেক্সিন, ট্যাব, নজেল ও বালব ব্যবহার করে জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম তৈরি করা যায়, সে বিষয়েও বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
গতকাল ২৭ ও আজ ২৮ এপ্রিল কুয়াকাটার গ্রেভার ইন হোটেলে আয়োজিত এ কর্মশালা “সমুদ্রে জেলেদের নিরাপদ কর্মজীবন” প্রকল্পের আওতায় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে এবং প্রফেসর ড. সাজেদুল হকের তত্ত্বাবধানে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহযোগিতা করে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন এবং অর্থায়ন করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক “ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর ফিশিং সেফটি”।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের প্রফেসর ড. সাজেদুল হক বলেন, সমুদ্রে কর্মরত জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। তিনি জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি টেকসই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় ওয়ার্ল্ডফিশের “সুস্থ সাগর” প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, বোট মালিকদের দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত ও যথাযথ প্রস্তুতিই সমুদ্রে কর্মরত জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রধান উপাদান।

কর্মশালার অংশ হিসেবে শতাধিক জেলের মধ্যে লাইফ জ্যাকেটসহ বিভিন্ন জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়, যা তাদের সমুদ্রে কাজের সময় ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, এই গবেষণা প্রকল্পের আওতায় কুয়াকাটা ছাড়াও বরগুনার পাথরঘাটা এবং কক্সবাজার অঞ্চলের প্রায় ৩০০ জন মৎস্যজীবী সরাসরি উপকৃত হবেন। তাদের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ ও জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উপকূলীয় মৎস্যজীবীদের জীবন রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং তাদের কর্মপরিবেশকে আরও নিরাপদ করে তুলবে। ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য উপকূলীয় এলাকাতেও এ উদ্যোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সামুদ্রিক গবেষণা ও জেলেদের নিরাপত্তা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সহযোগী সকলের ভূমিকা প্রশংসনীয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















