ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে ৪০ দিন ধরে যুদ্ধের পর গত ১২ এপ্রিল দেশটির বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে, প্রায় এক মাস ধরে ইরানের বন্দরগুলো থেকে কোনো জাহাজ বাইরে যেতে পারছে না, আবার কোনো জাহাজ বন্দরে ভিড়তেও পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন বেসমারিক গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এক গোপন মূল্যায়ন প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রায় এক মাস ধরে অবরোধ চললেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো অর্থনৈতিক চাপে পড়েনি ইরান এবং আরও প্রায় চার মাস এই অবরোধ সহ্য করতে পারবে দেশটি। অর্থাৎ অবরোধজনিত অর্থনৈতিক চাপ থেকে আগামী চার মাস মুক্ত থাকছে ইরান।

গতকাল সিআইএর এই মূল্যায়ন প্রতিবদেন প্রথম প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেছেন সিআইএর মূল্যায়ন প্রতিবেদনের এই ‘দাবি সঠিক নয়’। তিনি আরো বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ইরানের বাস্তব ও ক্রমবর্ধমান ক্ষতি করছে— বাণিজ্য বিচ্ছিন্ন করছে, রাজস্ব আয় ধ্বংস করছে এবং সামগ্রিম পতনকে ত্বরান্বিত করছে।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এ যুদ্ধের প্রথম দিনই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় ইরান। প্রায় ৪০ দিন ধরে যুদ্ধের পর ৮ তারিখ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারপর একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি করার জন্য ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা।
কিন্তু ব্যর্থ হয় সেই বৈঠক। ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পর কোনো চুক্তি স্বাক্ষর না করেই ফিরে যান দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর ১২ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি করে যুক্তরাষ্ট্র। সেই অবরোধ এখনও চলছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















