বর্ষার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে স্বরূপকাঠির ঐতিহ্যবাহী আটঘর নৌকার হাটে বেড়েছে কাঠের নৌকার বেচাকেনা। শতবর্ষের পুরোনো এই হাটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। বর্ষাকেন্দ্রিক এ হাটে প্রতিদিনই জমে উঠছে নৌকা ও বৈঠার বেচাকেনা।
শুক্রবার (২ আগস্ট ) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাটজুড়ে সারি সারি কাঠের নৌকা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা কারিগর ও ব্যবসায়ীরা পাইকারি ও খুচরা—উভয় পদ্ধতিতে নৌকা বিক্রি করছেন। ছোট ডিঙি নৌকা থেকে শুরু করে বড় আকারের মালবাহী নৌকাও মিলছে এই হাটে।
ব্যবসায়ীরা জানান, কাঠের মান, নকশা ও আকারের ওপর ভিত্তি করে নৌকার দাম নির্ধারণ করা হয়। সাধারণ মানের নৌকার দাম দেড় হাজার টাকা থেকে শুরু হলেও উন্নতমানের কাঠ দিয়ে তৈরি বড় নৌকার দাম ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া বৈঠা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, পেয়ারা, শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবহনে এসব নৌকার ভূমিকা অপরিসীম। বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নৌকাই হয়ে ওঠে কৃষকদের প্রধান বাহন এবং পণ্য পরিবহনের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।

বরিশালের বাকেরগঞ্জ থেকে আসা এক ক্রেতা বলেন, “বর্ষার সময় মাঠে গবাদিপশু নামানো যায় না। তখন জমি থেকে ঘাস কেটে নৌকায় করে বাড়িতে আনতে হয়। বছরের প্রায় ছয় মাস কৃষিকাজে নৌকার প্রয়োজন হয়।”
আটঘর হাটের ইজারাদার মো. ইকবাল হাওলাদার জানান, বর্ষা মৌসুমে এই হাটে তিন থেকে চার হাজার নৌকা কেনাবেচা হয়। প্রতিবছর এই নৌকার হাট থেকে সরকার কয়েক লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করে।
নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের চামি গ্রামের নৌকা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, মো. কবির, আব্দুর রহিম, মো. কাইয়ুম, মো. মালেক ও মো. শাহাবুদ্দিন জানান, বংশপরম্পরায় তাঁরা এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় কম খরচে নৌকা তৈরি করে তুলনামূলক কম দামে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা সম্ভব হয়।
তাঁরা বলেন, বর্ষা মৌসুমই তাঁদের ব্যবসার প্রধান সময়। এ সময় পরিবার-পরিজন সবাই মিলে নৌকা তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকেন।
স্থানীয়দের মতে, শত বছরের ঐতিহ্য বহনকারী আটঘর নৌকার হাট শুধু একটি বেচাকেনার কেন্দ্র নয়; এটি এ অঞ্চলের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারের পরও গ্রামীণ জনপদে কাঠের নৌকার গুরুত্ব ও চাহিদা কমেনি। বরং বর্ষা এলেই ঐতিহ্যের এই হাট ফিরে পায় তার চিরচেনা প্রাণচাঞ্চল্য।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















