ঢাকা ০৩:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

দুদক ১০০ বাংলাদেশির সম্পদের নথি উদ্ধারে দুবাই যাওয়ার অপেক্ষায়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০১:৪৩:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচার করে গোল্ডেন ভিসায় দুবাইয়ে যাওয়া ৪৫৯ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে ৯৭২টি প্রপার্টি (সম্পদ) কেনার অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলমান অনুসন্ধানে প্রথম ধাপে ৭০ জনকে শনাক্ত করে অনুসন্ধান টিম। পরে আরও ২০-২৫ জনের মতো ব্যক্তির নথি সংগ্রহ করে দুদক। যারা মূলত বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচার করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচির আওতায় দুবাইয়ে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও অন্যান্য সংস্থার কাছ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর প্রায় ১০০ ব্যক্তির নথি উদ্ধারে দুবাই যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল দুদক। কমিশন নিষ্ক্রিয় থাকায় তা আপাতত আটকে আছে।

অনুসন্ধান বলছে, সন্দেহভাজনদের কর নথি, ব্যাংকিং তথ্য, বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের রেকর্ড ও সম্পদের বেশকিছু নথিপত্র সংগ্রহ করে। ওই সব তথ্য যাচাই শেষে পারস্পরিক আইনি সহায়তা কাঠামো ব্যবহার করে ইউএই কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় দুবাইয়ে সরেজমিন অনুসন্ধানের পরিকল্পনা করেছিল বলে জানা গেছে। ওই পরিকল্পনা শেষ পর্যস্ত বাস্তবায়ন হয়নি, প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে কমিশনের চেয়ারম্যানসহ কমিশনারদের পদত্যাগে সবকিছু আটকে যায় বলে জানা গেছে। যদিও দুদকের অন্য একটি সূত্র বলছে ভিসা জটিলতায় ওই বিশেষ টিম যেতে পারিনি। টিমের প্রস্তুতি রয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম (জনসংযোগ)বলেন, দেশ থেকে অর্থ পাচার করে গোল্ডেন ভিসায় দুবাইয়ে সাড়ে ৪০০ ব্যক্তি সম্পদের পাহাড় গড়েছেন এমন অভিযোগে নথিপত্র সংগ্রহ করছে দুদক। এ খুঁটিনাটি তথ্য পেতে বিএফআইইউতে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। এই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ৭০ জনকে শনাক্ত করে গত বছর এনবিআরকে চিঠিও দেয় দুদক। যা এখন যাচাই-বাছাই চলছে।

অন্যদিকে, দুদকের অন্য একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, শুধু বাংলাদেশের নথি দিয়ে অর্থপাচারের অনুসন্ধান শেষ করা সম্ভব নয়। কারণ সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা, বেনিফিশিয়াল ওনার, ক্রয়মূল্য, লেনদেনের উৎস, গোল্ডেন ভিসার আবেদনপত্র, দুবাই ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের রেকর্ড এবং ব্যাংকিং তথ্য যাচাই ছাড়া অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নিশ্চিত করা কঠিন। সে কারণে তদন্তের পরবর্তী ধাপে ইউএই কর্তৃপক্ষের সহায়তায় সরেজমিন অনুসন্ধানকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে দুদক। অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপে বিদেশে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন কমিশন গঠন হলেও একটি বিশেষ টিম পাঠানো চেষ্টা থাকবে।

তিনি বলেন, অর্থ পাচার সংক্রান্ত ভিন্ন ভিন্ন কাজে গত বছরের শুরুতে এনবিআরের একটি বিশেষ টিম দুবাই ঘুরে এসেছে বলে জানি। সেখানে গিয়ে তারা বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। যদিও তাদের বিষয়বস্তু ভিন্ন ছিল। আমরাও মনে করি, শুধু টেবিলে যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধান কাজ শেষ করা যায় না। অর্থপাচারকারীদের জন্য দুবাই একটি খুবই নিরাপদ স্থান। অতএব চিঠি চালাচালি করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা সম্ভব নয়।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

দুদক ১০০ বাংলাদেশির সম্পদের নথি উদ্ধারে দুবাই যাওয়ার অপেক্ষায়

প্রকাশিত : ০১:৪৩:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচার করে গোল্ডেন ভিসায় দুবাইয়ে যাওয়া ৪৫৯ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে ৯৭২টি প্রপার্টি (সম্পদ) কেনার অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলমান অনুসন্ধানে প্রথম ধাপে ৭০ জনকে শনাক্ত করে অনুসন্ধান টিম। পরে আরও ২০-২৫ জনের মতো ব্যক্তির নথি সংগ্রহ করে দুদক। যারা মূলত বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচার করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচির আওতায় দুবাইয়ে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও অন্যান্য সংস্থার কাছ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর প্রায় ১০০ ব্যক্তির নথি উদ্ধারে দুবাই যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল দুদক। কমিশন নিষ্ক্রিয় থাকায় তা আপাতত আটকে আছে।

অনুসন্ধান বলছে, সন্দেহভাজনদের কর নথি, ব্যাংকিং তথ্য, বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের রেকর্ড ও সম্পদের বেশকিছু নথিপত্র সংগ্রহ করে। ওই সব তথ্য যাচাই শেষে পারস্পরিক আইনি সহায়তা কাঠামো ব্যবহার করে ইউএই কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় দুবাইয়ে সরেজমিন অনুসন্ধানের পরিকল্পনা করেছিল বলে জানা গেছে। ওই পরিকল্পনা শেষ পর্যস্ত বাস্তবায়ন হয়নি, প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে কমিশনের চেয়ারম্যানসহ কমিশনারদের পদত্যাগে সবকিছু আটকে যায় বলে জানা গেছে। যদিও দুদকের অন্য একটি সূত্র বলছে ভিসা জটিলতায় ওই বিশেষ টিম যেতে পারিনি। টিমের প্রস্তুতি রয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম (জনসংযোগ)বলেন, দেশ থেকে অর্থ পাচার করে গোল্ডেন ভিসায় দুবাইয়ে সাড়ে ৪০০ ব্যক্তি সম্পদের পাহাড় গড়েছেন এমন অভিযোগে নথিপত্র সংগ্রহ করছে দুদক। এ খুঁটিনাটি তথ্য পেতে বিএফআইইউতে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। এই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ৭০ জনকে শনাক্ত করে গত বছর এনবিআরকে চিঠিও দেয় দুদক। যা এখন যাচাই-বাছাই চলছে।

অন্যদিকে, দুদকের অন্য একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, শুধু বাংলাদেশের নথি দিয়ে অর্থপাচারের অনুসন্ধান শেষ করা সম্ভব নয়। কারণ সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা, বেনিফিশিয়াল ওনার, ক্রয়মূল্য, লেনদেনের উৎস, গোল্ডেন ভিসার আবেদনপত্র, দুবাই ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের রেকর্ড এবং ব্যাংকিং তথ্য যাচাই ছাড়া অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নিশ্চিত করা কঠিন। সে কারণে তদন্তের পরবর্তী ধাপে ইউএই কর্তৃপক্ষের সহায়তায় সরেজমিন অনুসন্ধানকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে দুদক। অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপে বিদেশে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন কমিশন গঠন হলেও একটি বিশেষ টিম পাঠানো চেষ্টা থাকবে।

তিনি বলেন, অর্থ পাচার সংক্রান্ত ভিন্ন ভিন্ন কাজে গত বছরের শুরুতে এনবিআরের একটি বিশেষ টিম দুবাই ঘুরে এসেছে বলে জানি। সেখানে গিয়ে তারা বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। যদিও তাদের বিষয়বস্তু ভিন্ন ছিল। আমরাও মনে করি, শুধু টেবিলে যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধান কাজ শেষ করা যায় না। অর্থপাচারকারীদের জন্য দুবাই একটি খুবই নিরাপদ স্থান। অতএব চিঠি চালাচালি করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা সম্ভব নয়।