ঢাকা ০৮:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

৫ই আগস্ট: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত দিন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৬:৪৪:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

মারিয়া আক্তার: ২০২৪ সালের জুলাই মাসটা বাংলাদেশের ইতিহাসে শুধু একটা ক্যালেন্ডারের পাতা না। ওটা ছিল একটা প্রজন্মের জেগে ওঠা। আর সেই জেগে ওঠার সবচেয়ে আলো ঝলমলে, আবার সবচেয়ে বেদনার দিনটা ছিল ৫ই আগস্ট।

১. পটভূমি: কেন রাস্তায় নামল মানুষ
জুলাইয়ের শুরুতে কোটা সংস্কারের দাবি দিয়ে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। কিন্তু গুলি, গ্রেপ্তার আর রক্ত দেখে দাবিটা আর কোটায় আটকে থাকেনি। ধীরে ধীরে এটা হয়ে গেল বৈষম্যের বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, নীরবতা ভাঙার বিরুদ্ধে একটা গণজাগরণ। স্কুল-কলেজের ছাত্র, রিকশাওয়ালা, শিক্ষক, গৃহিণী — সবাই বুঝে গিয়েছিল, এবার চুপ করে থাকলে চলবে না।

২. ৫ই আগস্টের সকাল
সেদিন সকাল থেকেই ঢাকার বাতাসটা অন্যরকম ছিল। “লং মার্চ টু ঢাকা” — এই একটা ডাকেই সারা দেশ থেকে মানুষ ঢাকার দিকে হাঁটা দিল। শাহবাগ, প্রেসক্লাব, উত্তরা, গাজীপুর — সব জায়গা থেকে স্রোতের মতো মানুষ। হাতে পতাকা, মুখে স্লোগান, চোখে ভয় নেই।

সেদিন আর ব্যারিকেড টেকেনি। পুলিশ-আর্মির সামনেও মানুষ পিছু হটেনি। কারণ পেছনে ফেরার আর কোনো জায়গা ছিল না। গণভবনের দিকে যত মানুষ এগিয়েছে, ততই পুরনো দেয়ালগুলো কেঁপেছে।

৩. একটা যুগের অবসান
দুপুর গড়াতেই খবর আসে — ক্ষমতার মসনদ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী। বিকেলের মধ্যে তিনি দেশ ছাড়েন।

এই একটা খবরেই সারা দেশে যেন বাজ পড়ল। কেউ কাঁদল, কেউ মিষ্টি বিলাল, কেউ আবার শহীদদের নাম ধরে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। কারণ এই “বিজয়” বিনা দামে আসেনি। জুলাই জুড়ে শত শত ছাত্র-জনতা প্রাণ দিয়েছে। হাসপাতালের বারান্দা, রাস্তার মোড় — সবখানে রক্তের দাগ রয়ে গেছে।

৪. ৫ই আগস্ট আমাদের কী শিখিয়ে গেল
৫ই আগস্ট কোনো দলের বিজয় না, এটা ছিল জনগণের বিজয়। এটা প্রমাণ করল ৩টা জিনিস:

1. জনতার শক্তি: যখন মানুষ এক হয়, তখন কোনো দেয়ালই চিরস্থায়ী না।
2. তরুণদের সাহস: যাদের “রাজনীতি বোঝে না” বলা হয়, তারাই ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
3. দায়বদ্ধতা: রক্তের বিনিময়ে আসা পরিবর্তনকে ধরে রাখতে হলে প্রতিদিন কাজ করতে হয়।

উপসংহার
৫ই আগস্ট শেষ না, শুরু। জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের একটা স্বপ্ন দেখিয়েছে — বৈষম্যহীন, ভয়হীন বাংলাদেশের স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে বাস্তব করতে এখন দরকার সহনশীলতা, কথা বলার অধিকার, আর একে অপরের প্রতি সম্মান।

শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়। ৫ই আগস্ট তাই শুধু মনে রাখার দিন না, মনে করিয়ে দেওয়ার দিন — “রাষ্ট্র জনগণের, জনগণই রাষ্ট্রের মালিক।

লেখক: মারিয়া আক্তার।
শিক্ষার্থী, দুমকী সরকারী জনতা কলেজ,দুমকী, পটুয়াখালী।

জনপ্রিয় সংবাদ

রিয়াল ও ম্যানসিটিকে চূড়ান্ত ইচ্ছার কথা জানিয়ে দিলেন রদ্রি!

৫ই আগস্ট: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত দিন

প্রকাশিত : ০৬:৪৪:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

মারিয়া আক্তার: ২০২৪ সালের জুলাই মাসটা বাংলাদেশের ইতিহাসে শুধু একটা ক্যালেন্ডারের পাতা না। ওটা ছিল একটা প্রজন্মের জেগে ওঠা। আর সেই জেগে ওঠার সবচেয়ে আলো ঝলমলে, আবার সবচেয়ে বেদনার দিনটা ছিল ৫ই আগস্ট।

১. পটভূমি: কেন রাস্তায় নামল মানুষ
জুলাইয়ের শুরুতে কোটা সংস্কারের দাবি দিয়ে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। কিন্তু গুলি, গ্রেপ্তার আর রক্ত দেখে দাবিটা আর কোটায় আটকে থাকেনি। ধীরে ধীরে এটা হয়ে গেল বৈষম্যের বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, নীরবতা ভাঙার বিরুদ্ধে একটা গণজাগরণ। স্কুল-কলেজের ছাত্র, রিকশাওয়ালা, শিক্ষক, গৃহিণী — সবাই বুঝে গিয়েছিল, এবার চুপ করে থাকলে চলবে না।

২. ৫ই আগস্টের সকাল
সেদিন সকাল থেকেই ঢাকার বাতাসটা অন্যরকম ছিল। “লং মার্চ টু ঢাকা” — এই একটা ডাকেই সারা দেশ থেকে মানুষ ঢাকার দিকে হাঁটা দিল। শাহবাগ, প্রেসক্লাব, উত্তরা, গাজীপুর — সব জায়গা থেকে স্রোতের মতো মানুষ। হাতে পতাকা, মুখে স্লোগান, চোখে ভয় নেই।

সেদিন আর ব্যারিকেড টেকেনি। পুলিশ-আর্মির সামনেও মানুষ পিছু হটেনি। কারণ পেছনে ফেরার আর কোনো জায়গা ছিল না। গণভবনের দিকে যত মানুষ এগিয়েছে, ততই পুরনো দেয়ালগুলো কেঁপেছে।

৩. একটা যুগের অবসান
দুপুর গড়াতেই খবর আসে — ক্ষমতার মসনদ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী। বিকেলের মধ্যে তিনি দেশ ছাড়েন।

এই একটা খবরেই সারা দেশে যেন বাজ পড়ল। কেউ কাঁদল, কেউ মিষ্টি বিলাল, কেউ আবার শহীদদের নাম ধরে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। কারণ এই “বিজয়” বিনা দামে আসেনি। জুলাই জুড়ে শত শত ছাত্র-জনতা প্রাণ দিয়েছে। হাসপাতালের বারান্দা, রাস্তার মোড় — সবখানে রক্তের দাগ রয়ে গেছে।

৪. ৫ই আগস্ট আমাদের কী শিখিয়ে গেল
৫ই আগস্ট কোনো দলের বিজয় না, এটা ছিল জনগণের বিজয়। এটা প্রমাণ করল ৩টা জিনিস:

1. জনতার শক্তি: যখন মানুষ এক হয়, তখন কোনো দেয়ালই চিরস্থায়ী না।
2. তরুণদের সাহস: যাদের “রাজনীতি বোঝে না” বলা হয়, তারাই ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
3. দায়বদ্ধতা: রক্তের বিনিময়ে আসা পরিবর্তনকে ধরে রাখতে হলে প্রতিদিন কাজ করতে হয়।

উপসংহার
৫ই আগস্ট শেষ না, শুরু। জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের একটা স্বপ্ন দেখিয়েছে — বৈষম্যহীন, ভয়হীন বাংলাদেশের স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে বাস্তব করতে এখন দরকার সহনশীলতা, কথা বলার অধিকার, আর একে অপরের প্রতি সম্মান।

শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়। ৫ই আগস্ট তাই শুধু মনে রাখার দিন না, মনে করিয়ে দেওয়ার দিন — “রাষ্ট্র জনগণের, জনগণই রাষ্ট্রের মালিক।

লেখক: মারিয়া আক্তার।
শিক্ষার্থী, দুমকী সরকারী জনতা কলেজ,দুমকী, পটুয়াখালী।