ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় ৫৬ টি দুর্গা প্রতিমার তৈরীর কাজ শেষ পর্যায়ে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০২:২০:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। দিন-রাত কাজ করেও দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, শিউলি ও কাশফুল জানান দিচ্ছে শরৎ এসেছে। আগামী ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা।

ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর দুই উপজেলায় ৫৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিমা তৈরি, মণ্ডপ সাজানো ও আলোকসজ্জাসহ আনুষঙ্গিক কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন মণ্ডপ সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় মাটি দিয়ে গড়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা। প্রতিটি মণ্ডপেই চলছে জোড় প্রস্তুতি। অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে পোশাক পরানো, অলংকার সংযোজন ও রং করার কাজ।
প্রতিমা শিল্পী সুকেশ পাল বলেন, দুর্গাপূজা সামনে রেখে তারা খুবই ব্যস্ত সময় পার করছেন। একসময় প্রতিমা তৈরিতে কাপড় ও অলংকারের ব্যবহার বেশি ছিল। এসব উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন মাটি দিয়েই প্রতিমার অধিকাংশ সাজসজ্জা তৈরি করা হচ্ছে। সময়ের পরিবর্তনে প্রতিমার গড়ন ও সাজসজ্জাতেও এসেছে পরিবর্তন।
এদিকে পূজার আনন্দ নিয়ে কথা হয় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের মধ্যনগর উপজেলা শাখার সভাপতি দেবল কিরণ তালুকদারের সাথে তিনি জানান, মধ্যনগর উপজেলায় এ বছর ৩৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপন হবে। ঢাক-ঢোল, বাঁশি, কাঁসর ও মন্দিরার তালে তালে হবে আরতি। থাকবে গীতাপাঠ ও ধর্মীয় সংগীতানুষ্ঠান। নতুন পোশাক ও সাজসজ্জায় ভক্তরা সেজেগুজে ঘুরে বেড়াবেন মণ্ডপে মণ্ডপে। বাড়িতে আসবেন আত্মীয়স্বজন। সব মিলিয়ে দুর্গাপূজাকে ঘিরে এখন থেকেই উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ধর্মপাশা উপজেলা শাখার সভাপতি যতীন্দ্র চন্দ্র সরকার বলেন,এ বছর ধর্মপাশা উপজলায় মোট ২১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপন হবে। তিনি আরও বলেন, পূজার সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতা থাকে। এবারও এর ব্যত্যয় ঘটবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের অবগত করা হয়েছে।

ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা, ভক্তবৃন্দের নির্বিঘ্ন চলাচল, নারী ও শিশুদের বিশেষ নিরাপত্তা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও সচল রাখা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, অগ্নিনিরাপত্তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বয়ের বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

টয়োটা ২০২৭ সাল থেকেই বাংলাদেশে হাইব্রিড গাড়ি উৎপাদন শুরু করতে যাচ্ছে

ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় ৫৬ টি দুর্গা প্রতিমার তৈরীর কাজ শেষ পর্যায়ে

প্রকাশিত : ০২:২০:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। দিন-রাত কাজ করেও দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, শিউলি ও কাশফুল জানান দিচ্ছে শরৎ এসেছে। আগামী ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা।

ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর দুই উপজেলায় ৫৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিমা তৈরি, মণ্ডপ সাজানো ও আলোকসজ্জাসহ আনুষঙ্গিক কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন মণ্ডপ সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় মাটি দিয়ে গড়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা। প্রতিটি মণ্ডপেই চলছে জোড় প্রস্তুতি। অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে পোশাক পরানো, অলংকার সংযোজন ও রং করার কাজ।
প্রতিমা শিল্পী সুকেশ পাল বলেন, দুর্গাপূজা সামনে রেখে তারা খুবই ব্যস্ত সময় পার করছেন। একসময় প্রতিমা তৈরিতে কাপড় ও অলংকারের ব্যবহার বেশি ছিল। এসব উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন মাটি দিয়েই প্রতিমার অধিকাংশ সাজসজ্জা তৈরি করা হচ্ছে। সময়ের পরিবর্তনে প্রতিমার গড়ন ও সাজসজ্জাতেও এসেছে পরিবর্তন।
এদিকে পূজার আনন্দ নিয়ে কথা হয় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের মধ্যনগর উপজেলা শাখার সভাপতি দেবল কিরণ তালুকদারের সাথে তিনি জানান, মধ্যনগর উপজেলায় এ বছর ৩৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপন হবে। ঢাক-ঢোল, বাঁশি, কাঁসর ও মন্দিরার তালে তালে হবে আরতি। থাকবে গীতাপাঠ ও ধর্মীয় সংগীতানুষ্ঠান। নতুন পোশাক ও সাজসজ্জায় ভক্তরা সেজেগুজে ঘুরে বেড়াবেন মণ্ডপে মণ্ডপে। বাড়িতে আসবেন আত্মীয়স্বজন। সব মিলিয়ে দুর্গাপূজাকে ঘিরে এখন থেকেই উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ধর্মপাশা উপজেলা শাখার সভাপতি যতীন্দ্র চন্দ্র সরকার বলেন,এ বছর ধর্মপাশা উপজলায় মোট ২১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপন হবে। তিনি আরও বলেন, পূজার সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতা থাকে। এবারও এর ব্যত্যয় ঘটবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের অবগত করা হয়েছে।

ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা, ভক্তবৃন্দের নির্বিঘ্ন চলাচল, নারী ও শিশুদের বিশেষ নিরাপত্তা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও সচল রাখা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, অগ্নিনিরাপত্তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বয়ের বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।