ঢাকা ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

উচ্ছেদের পরও বেপরোয়া বরিশালে অবৈধ ড্রাম চিমনি ইটভাটা ফের চালু

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১২:৩২:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে
বরিশাল ব্যুরো : বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ রহমতপুর, শিকারপুর, হিজলা, মুলাদী, মেহেন্দিগঞ্জ বাকেরগঞ্জ উপজোসহ জেলার প্রতিটা গ্রাম অঞ্চলে গড়ে উঠেছে ব্যান্ডের ছাতার মত অবৈধ ড্রাম চিমনী  ইট ভাটা।এতে পোড়ানো হচ্ছে পরিবেশ বান্ধব কাঠ।গতকাল সরে জমিনে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর এলাকায় এ ইট ভাটার চিত্র মিলে। এলাকাবাসীরা জানায়, এখানকার খান ব্রিকসের স্বত্বাধাকেরি মোঃ কবির খান ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রতিবছরই অবৈধ লাইসেন্স বিহীন ড্রাম চিমনির  মাধ্যমে কার্ড দিয়ে পড়াচ্ছে ইট।এতে পরিবেশের যেভাবে ভারসাম্য হারাচ্ছে। তেমনি হারাচ্ছে সরকারি রাজস্ব। কর ব্যাট ফাঁকি দিয়ে সরকারকে বিদ্বান করে দেখিয়ে এসব রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে এই প্রভাবশালী  কবির খান। এলাকাবাসীর দাবি  তাদের ফসলে জমিসহ, নষ্ট হচ্ছে আশপাশের নারিকেল গাছসহ বিভিন্ন ফলকার গাছ।
এছাড়াও জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায়  শতাধিক ইটভাটা রয়েছে এর মধ্যে অর্ধশত ইটভাটা রয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বিহীন। এ বছরের প্রথম দিকে  সকল অবৈধ ইটভাটা বন্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালায় পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন। বিভিন্ন সময় অভিযানে উপজেলায় ১২ টি অবৈধ ড্রাম চিমনি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই সময় ইটভাটায় ইট তৈরি ও পোড়ানোসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা ও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কে শুনে কার কথা।
কয়েকদিন যেতে না যেতেই ইটভাটার মালিকরা অদৃশ্য শক্তির বলে সেই গুড়িয়ে দেয়া ড্রাম চিমনিগুলো নতুন তরে নির্মাণ করে আবার ইট পুড়ানোর কার্যক্রম শুরু করেছে।
সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারি কলসকাঠী ইউনিয়নের দাপড়কাঠী গ্রামের অবৈধ ড্রাম চিমনি রোদেলা ইট ভাটার ছাড়পত্র না থাকায় ইট ভাটা বন্ধে অভিযান চালিয়ে ভাটাটি গুড়িয়ে দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর। তবে ভাটা মালিক রাজেক হাওলাদার ও শামিম হাওলাদের অদৃশ্য ক্ষমতা বলে আবারো শুরু করেছেন ইটভাটায় ইট পোড়ানো কার্যক্রম।
এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে গত ১১ জানুয়ারি (রবিবার) গারুড়িয়া ইউনিয়নের ও কলসকাঠী ইউনিয়নের লাইসেন্সবিহীন (দুবাই ব্রিকস, খান ব্রিকস এবং ওয়ান স্টার ব্রিকস ভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ইটভাটার ড্রাম চিমনী ভেঙ্গে দেওয়া হয় ও কাঁচা ইট ধ্বংস করা হয়।
এছাড়াও গত ২১ জানুয়ারি উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নে লাইসেন্সহীন ছয়টি অবৈধ ইটের ভাটায় অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। এই সময় ফরিদপুর ইউনিয়নের লাইসেন্সবিহীন ওয়ান স্টার, সেভেন স্টার, টু এ স্টার, স্টার টু, এম এম বি, এশিয়া এই ছয়টি ভাটার নিষিদ্ধ চিমটি ভেঙে ফেলা হয় এবং অবৈধ ইটগুলোকে নষ্ট করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন সময়ে পৃথক অভিযানে এই ১২ টি অবৈধ ইটভাটা গুড়িয়ে দেওয়া হলেও পুনরায় চালু করা হয়েছে। অবৈধ ড্রাম চিমনি ইটভাটা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকলেও তা মানাছেন না ভাটা মালিকরা। এতে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করেন অবৈধ ইট ভাটার মালিকদের কাছে প্রশাসনও অসহায়।
২৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সরেজমিনের গিয়ে দেখা যায়, কলসকাঠি ইউনিয়নে দাপড়কাঠী গ্রামে আবাসিক এলাকায় আইনের তোয়াক্কা না করে রোদেলা ইট ভাটায় কাঠখড়ি দিয়ে নির্বিঘ্নে পোড়ানো হচ্ছে ইট। পাশে থাকা ফসলি জমি ও পান্ডব নদীর মাটি কেটে ব্যবহার করা হচ্ছে ইট তৈরিতে। এছাড়াও দেখা যায়, গারুড়িয়া, কলসকাঠী ও ফরিদপুর ইউনিয়নের অবৈধ ড্রাম চিমনি ইটভাটা গুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও আবারো নতুন করে তারা ইট পোড়া শুরু করেছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, মাঝেমধ্যে এসব ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করে প্রশাসন। অভিযানের পর ইটভাটার মালিকরা পুনরায় আবার ইট পোড়া শুরু করে। এরপর আর তেমন প্রশাসনের অভিযান দেখা যায় না। প্রশাসনের উদাসীনতায় ইট ভাটার মালিকেরা ফের বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এখন ফসলি জমির মাটি কেটে অবাধে চালাচ্ছে অবৈধ ইটের ভাটাগুলো। এ সব ইটভাটায় ইট প্রস্তুতির জন্য বেশিরভাগ মাটি সংগ্রহ করা হয় বিভিন্ন নদীর পাড়ের মাটি কেটে। আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে ড্রাম চিমনি বসিয়ে ইটভাটা গড়ে তুলেছেন মালিকরা। প্রশাসনের অভিযানেও কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না এসব ইটভাটা। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বনাঞ্চল উজাড় করে ট্রলি ও ট্রলারযোগে কাঠ এনে ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে। ফলে ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল জেলার সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন বলেন, বাকেরগঞ্জের কলসকাঠী ইউনিয়নে এর আগে ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। তারা পুনরায় নাকি ভাটা চালু করেছে বলে জেনেছি। শীঘ্রই ওই ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও রুমানা আফরোজ বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ইটভাটা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। অনেক ইট ভাটার মালিককে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। আবার কেউ যদি অবৈধ ইটভাটা চালু করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

পানছড়িতে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা কাউছার আজিজীর গণসংযোগ

উচ্ছেদের পরও বেপরোয়া বরিশালে অবৈধ ড্রাম চিমনি ইটভাটা ফের চালু

প্রকাশিত : ১২:৩২:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
বরিশাল ব্যুরো : বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ রহমতপুর, শিকারপুর, হিজলা, মুলাদী, মেহেন্দিগঞ্জ বাকেরগঞ্জ উপজোসহ জেলার প্রতিটা গ্রাম অঞ্চলে গড়ে উঠেছে ব্যান্ডের ছাতার মত অবৈধ ড্রাম চিমনী  ইট ভাটা।এতে পোড়ানো হচ্ছে পরিবেশ বান্ধব কাঠ।গতকাল সরে জমিনে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর এলাকায় এ ইট ভাটার চিত্র মিলে। এলাকাবাসীরা জানায়, এখানকার খান ব্রিকসের স্বত্বাধাকেরি মোঃ কবির খান ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রতিবছরই অবৈধ লাইসেন্স বিহীন ড্রাম চিমনির  মাধ্যমে কার্ড দিয়ে পড়াচ্ছে ইট।এতে পরিবেশের যেভাবে ভারসাম্য হারাচ্ছে। তেমনি হারাচ্ছে সরকারি রাজস্ব। কর ব্যাট ফাঁকি দিয়ে সরকারকে বিদ্বান করে দেখিয়ে এসব রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে এই প্রভাবশালী  কবির খান। এলাকাবাসীর দাবি  তাদের ফসলে জমিসহ, নষ্ট হচ্ছে আশপাশের নারিকেল গাছসহ বিভিন্ন ফলকার গাছ।
এছাড়াও জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায়  শতাধিক ইটভাটা রয়েছে এর মধ্যে অর্ধশত ইটভাটা রয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বিহীন। এ বছরের প্রথম দিকে  সকল অবৈধ ইটভাটা বন্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালায় পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন। বিভিন্ন সময় অভিযানে উপজেলায় ১২ টি অবৈধ ড্রাম চিমনি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই সময় ইটভাটায় ইট তৈরি ও পোড়ানোসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা ও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কে শুনে কার কথা।
কয়েকদিন যেতে না যেতেই ইটভাটার মালিকরা অদৃশ্য শক্তির বলে সেই গুড়িয়ে দেয়া ড্রাম চিমনিগুলো নতুন তরে নির্মাণ করে আবার ইট পুড়ানোর কার্যক্রম শুরু করেছে।
সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারি কলসকাঠী ইউনিয়নের দাপড়কাঠী গ্রামের অবৈধ ড্রাম চিমনি রোদেলা ইট ভাটার ছাড়পত্র না থাকায় ইট ভাটা বন্ধে অভিযান চালিয়ে ভাটাটি গুড়িয়ে দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর। তবে ভাটা মালিক রাজেক হাওলাদার ও শামিম হাওলাদের অদৃশ্য ক্ষমতা বলে আবারো শুরু করেছেন ইটভাটায় ইট পোড়ানো কার্যক্রম।
এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে গত ১১ জানুয়ারি (রবিবার) গারুড়িয়া ইউনিয়নের ও কলসকাঠী ইউনিয়নের লাইসেন্সবিহীন (দুবাই ব্রিকস, খান ব্রিকস এবং ওয়ান স্টার ব্রিকস ভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ইটভাটার ড্রাম চিমনী ভেঙ্গে দেওয়া হয় ও কাঁচা ইট ধ্বংস করা হয়।
এছাড়াও গত ২১ জানুয়ারি উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নে লাইসেন্সহীন ছয়টি অবৈধ ইটের ভাটায় অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। এই সময় ফরিদপুর ইউনিয়নের লাইসেন্সবিহীন ওয়ান স্টার, সেভেন স্টার, টু এ স্টার, স্টার টু, এম এম বি, এশিয়া এই ছয়টি ভাটার নিষিদ্ধ চিমটি ভেঙে ফেলা হয় এবং অবৈধ ইটগুলোকে নষ্ট করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন সময়ে পৃথক অভিযানে এই ১২ টি অবৈধ ইটভাটা গুড়িয়ে দেওয়া হলেও পুনরায় চালু করা হয়েছে। অবৈধ ড্রাম চিমনি ইটভাটা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকলেও তা মানাছেন না ভাটা মালিকরা। এতে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করেন অবৈধ ইট ভাটার মালিকদের কাছে প্রশাসনও অসহায়।
২৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সরেজমিনের গিয়ে দেখা যায়, কলসকাঠি ইউনিয়নে দাপড়কাঠী গ্রামে আবাসিক এলাকায় আইনের তোয়াক্কা না করে রোদেলা ইট ভাটায় কাঠখড়ি দিয়ে নির্বিঘ্নে পোড়ানো হচ্ছে ইট। পাশে থাকা ফসলি জমি ও পান্ডব নদীর মাটি কেটে ব্যবহার করা হচ্ছে ইট তৈরিতে। এছাড়াও দেখা যায়, গারুড়িয়া, কলসকাঠী ও ফরিদপুর ইউনিয়নের অবৈধ ড্রাম চিমনি ইটভাটা গুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও আবারো নতুন করে তারা ইট পোড়া শুরু করেছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, মাঝেমধ্যে এসব ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করে প্রশাসন। অভিযানের পর ইটভাটার মালিকরা পুনরায় আবার ইট পোড়া শুরু করে। এরপর আর তেমন প্রশাসনের অভিযান দেখা যায় না। প্রশাসনের উদাসীনতায় ইট ভাটার মালিকেরা ফের বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এখন ফসলি জমির মাটি কেটে অবাধে চালাচ্ছে অবৈধ ইটের ভাটাগুলো। এ সব ইটভাটায় ইট প্রস্তুতির জন্য বেশিরভাগ মাটি সংগ্রহ করা হয় বিভিন্ন নদীর পাড়ের মাটি কেটে। আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে ড্রাম চিমনি বসিয়ে ইটভাটা গড়ে তুলেছেন মালিকরা। প্রশাসনের অভিযানেও কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না এসব ইটভাটা। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বনাঞ্চল উজাড় করে ট্রলি ও ট্রলারযোগে কাঠ এনে ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে। ফলে ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল জেলার সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন বলেন, বাকেরগঞ্জের কলসকাঠী ইউনিয়নে এর আগে ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। তারা পুনরায় নাকি ভাটা চালু করেছে বলে জেনেছি। শীঘ্রই ওই ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও রুমানা আফরোজ বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ইটভাটা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। অনেক ইট ভাটার মালিককে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। আবার কেউ যদি অবৈধ ইটভাটা চালু করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।