ঢাকা ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিরাপত্তার চাদরে বরিশাল, ভোটের মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৯:৪৩:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে
বরিশাল প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ঢেলে সাজানো হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বরিশাল-১ আসনের গৌরনদী উপজেলার ৬৯ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে অধিকাংশ কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সার্বিক প্রস্তুতি যাচাইয়ে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন গৌরনদী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান। পরিদর্শনকালে তিনি কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভোটগ্রহণের পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছেন।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সহকারি রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম বলেন, এখন পর্যন্ত ভোটগ্রহণের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে। সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহনে আমরা বদ্ধপরিকর। ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠ এবং ভোটকেন্দ্রগুলোকে নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। সকলের সহযোগিতায় আমরা একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে চাই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি ভোটকেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। নাগরিক সংগঠন সুজন বলছে, বিষয়টি উদ্বেগজনক। অপরদিকে নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, দুর্গম এলাকায় ভোটগ্রহণ হবে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে সবধরনের ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
ভৌগোলিকভাবেই নদ-নদী বেষ্টিত বরিশাল বিভাগ। এ অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় শুধু বড় নদীর সংখ্যাই ৯৯টি। এছাড়াও রয়েছে অসংখ্য শাখা নদী ও খাল। নির্বাচনের সময় জরুরি প্রয়োজনে এসব নদী পাড়ি দিয়ে দুর্গম কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছানো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বেশ কঠিন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের দুই হাজার ৮৩৮টি ভোটকেন্দ্রের ৬৯৮টি ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। সাথে রয়েছে নানা অস্থিতিশীলতায় প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কাও।
বরিশাল সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে বরিশাল বিভাগের ভোটকেন্দ্রগুলোর বড় একটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব দেয়া না হলে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে বলে আমরা মনে করছি।’
বরিশাল জেলার হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মূল ভূখন্ড থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন। এছাড়া পটুয়াখালী ও বরগুনাসহ বিভিন্ন জেলার একাধিক উপজেলাও মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। এসব এলাকায় নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছানো এবং ভোটগ্রহণ শেষে তা নিরাপদে ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা।
বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ইলেকশনের ম্যাটেরিয়ালস পাঠানো , ইলেকশনের জনবল পাঠানো এবং সেখান থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা আসলেই বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এগুলো বিবেচনা করে আমরা কেন্দ্রগুলো সাজিয়েছি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরও সেভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আলম বলেন, প্রার্থীদের ব্যক্তি নিরাপত্তা অগ্রাধিকার দেয়া হবে। আমাদের মূল যে লক্ষ্য, সেটি হলো আমাদের ভোটারদের নিরাপত্তা দেয়া। একটি বিষয় পরিষ্কার আমাদের ব্যক্তি বা কোনো জনগোষ্ঠির সঙ্গে আনুগত্য নেই।
বরিশাল রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন বলেন, রিমোট এলাকাগুলোতেও আমাদের ফোর্সগুলো এমনভাবে থাকবে, ১৫ মিনিট হলো আমার রেসপন্স টাইম। যেকোনো ঘটনা শোনামাত্র যেকোনো ফোর্স যেন যেকোনো জায়গায় যেতে পারে, এভাবে আমরা পরিকল্পনা সাজিয়েছি।
উল্লেখ্য, বরিশাল জেলায় মোট ভোটার প্রায় ২২ লাখ। আর পুরো বিভাগে ভোটারের সংখ্যা ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ৪১৫ জন।
জনপ্রিয় সংবাদ

শুষ্ক আবহাওয়া সারাদেশে, তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে

নিরাপত্তার চাদরে বরিশাল, ভোটের মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

প্রকাশিত : ০৯:৪৩:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
বরিশাল প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ঢেলে সাজানো হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বরিশাল-১ আসনের গৌরনদী উপজেলার ৬৯ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে অধিকাংশ কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সার্বিক প্রস্তুতি যাচাইয়ে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন গৌরনদী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান। পরিদর্শনকালে তিনি কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভোটগ্রহণের পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছেন।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সহকারি রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম বলেন, এখন পর্যন্ত ভোটগ্রহণের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে। সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহনে আমরা বদ্ধপরিকর। ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠ এবং ভোটকেন্দ্রগুলোকে নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। সকলের সহযোগিতায় আমরা একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে চাই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি ভোটকেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। নাগরিক সংগঠন সুজন বলছে, বিষয়টি উদ্বেগজনক। অপরদিকে নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, দুর্গম এলাকায় ভোটগ্রহণ হবে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে সবধরনের ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
ভৌগোলিকভাবেই নদ-নদী বেষ্টিত বরিশাল বিভাগ। এ অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় শুধু বড় নদীর সংখ্যাই ৯৯টি। এছাড়াও রয়েছে অসংখ্য শাখা নদী ও খাল। নির্বাচনের সময় জরুরি প্রয়োজনে এসব নদী পাড়ি দিয়ে দুর্গম কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছানো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বেশ কঠিন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের দুই হাজার ৮৩৮টি ভোটকেন্দ্রের ৬৯৮টি ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। সাথে রয়েছে নানা অস্থিতিশীলতায় প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কাও।
বরিশাল সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে বরিশাল বিভাগের ভোটকেন্দ্রগুলোর বড় একটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব দেয়া না হলে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে বলে আমরা মনে করছি।’
বরিশাল জেলার হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মূল ভূখন্ড থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন। এছাড়া পটুয়াখালী ও বরগুনাসহ বিভিন্ন জেলার একাধিক উপজেলাও মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। এসব এলাকায় নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছানো এবং ভোটগ্রহণ শেষে তা নিরাপদে ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা।
বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ইলেকশনের ম্যাটেরিয়ালস পাঠানো , ইলেকশনের জনবল পাঠানো এবং সেখান থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা আসলেই বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এগুলো বিবেচনা করে আমরা কেন্দ্রগুলো সাজিয়েছি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরও সেভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আলম বলেন, প্রার্থীদের ব্যক্তি নিরাপত্তা অগ্রাধিকার দেয়া হবে। আমাদের মূল যে লক্ষ্য, সেটি হলো আমাদের ভোটারদের নিরাপত্তা দেয়া। একটি বিষয় পরিষ্কার আমাদের ব্যক্তি বা কোনো জনগোষ্ঠির সঙ্গে আনুগত্য নেই।
বরিশাল রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন বলেন, রিমোট এলাকাগুলোতেও আমাদের ফোর্সগুলো এমনভাবে থাকবে, ১৫ মিনিট হলো আমার রেসপন্স টাইম। যেকোনো ঘটনা শোনামাত্র যেকোনো ফোর্স যেন যেকোনো জায়গায় যেতে পারে, এভাবে আমরা পরিকল্পনা সাজিয়েছি।
উল্লেখ্য, বরিশাল জেলায় মোট ভোটার প্রায় ২২ লাখ। আর পুরো বিভাগে ভোটারের সংখ্যা ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ৪১৫ জন।