ঢাকা ০৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

এমসিজি টেস্ট ও ওয়ানডের আতুড়ঘর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৩:২৪:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে প্রবেশের আগেই ইতিহাসের পসরা। কমপ্লেক্সের সামনেই ব্র্যাডম্যানসহ আরো কীর্তিমান ক্রিকেটার ও ক্রীড়াবিদদের ছবি। ক্রিকেট গ্রাউন্ডের অর্ভথ্যনা কক্ষে ভ্রমণপিপাসুর ভীড়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর মেলবোর্ন। প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক অনেক কিছুই আছে দেখার এই শহরে। এরপরও অনেক ভ্রমণ পিপাসু মানুষ মেলবোর্ন আসলে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) একটু ঢু দেবেনই।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিইও টুডের সঙ্গে আগেই যোগাযোগ করায় এই প্রতিবেদক ও তার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু আবু কাউসারের জন্য স্টেডিয়াম এবং জাদুঘরের দু’টি টিকিটের ব্যবস্থা ছিল। মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের কমিউনিকেশন কর্মকর্তা উইল শুরু থেকেই সঙ্গ দিয়েছেন। ১৮৭৭ সালে টেস্ট ও ১৯৭১ সালে ওয়ানডে দুই ফরম্যাটের ক্রিকেটের অভিষেকই এই ভেন্যুতে। মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব ও জাদুঘরে পরতে পরতে ইতিহাস ও ঐতিহ্য। চোখের পলকে দুই ঘন্টা কেটে গেল নিমিষেই।

প্রায় এক লাখ ধারণ ক্ষমতার স্টেডিয়াম মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান ভেন্যু হলেও এটি মূলত মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের কর্তৃত্ব। মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ক্লাবের সফর ও সৌজন্য বিনিময় হয়েছে। সেই সকল ক্লাবের ব্লেজার সংরক্ষিত রয়েছে ব্লেজার কর্ণারে।

১৮৭৭ সালে টেস্ট ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হলেও মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিষ্ঠা ১৮৩৮ সালে। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ক্লাবের ইতিহাসও রয়েছে বিশেষভাবে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সভাপতিদের নাম আছে একটি বিশেষ বোর্ডে। এই ক্লাবের ক্রিকেটার যারা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্ট খেলেছেন সেটার তালিকাও আছে। মেলবোর্ন ভিক্টোরিয়া রাজ্যের, সেই ভিক্টোরিয়ার হয়ে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটারদের লম্বা তালিকাও রয়েছে দেয়ালের বড় অংশ জুড়ে। মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের যারা সিনিয়র সদস্য (দুই যুগের বেশি) তারা সবচেয়ে ভালো আসনে বসে খেলা উপভোগ করতে পারেন।

সিডনির মতো মেলবোর্নও রয়েছে অনার্স বোর্ড। সিডনিতে টেস্ট ও ওয়ানডে উভয় থাকলেও মেলবোর্নে শুধু টেস্ট। ১৮৭৭ সালের অভিষেক টেস্ট থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ও সফরকারীদের মধ্যে যারা সেঞ্চুরি ও পাঁচ উইকেট পেয়েছেন তাদের নাম রয়েছেন খোদাই করে। এই ভেন্যুতে টেস্টে সফরকারী দলের একজন আর অস্ট্রেলিয়ান তিন জন হ্যাটট্রিক করেছেন।

মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে রয়েছে লাইব্রেরি। ক্রিকেটারদের লেখা আত্মজীবনী, ক্রিকেট নিয়ে নানা ইংরেজী বই রয়েছে এখানে। ক্রিকেট ছাড়াও অন্য খেলারও গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহ রয়েছে ক্রিকেটের আতুড়ঘরে। মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের যোগাযোগ কর্মকর্তা উইল জানান, ‘আগামী বছর টেস্ট ক্রিকেটের ১৫০ বছর পূর্তি। ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া সফর করবে এবং মেলবোর্নে টেস্ট ম্যাচ হবে। এজন্য মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এখন থেকেই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। ইতোমধ্যে টিকিটের চাহিদা অত্যন্ত তুঙ্গে।’

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের অন্যতম কিংবদন্তী শেন ওয়ার্ন। টেস্টে ৭০৮ উইকেটধারী এই বোলার থাইল্যান্ডে আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড ও জাদুঘরে শেন ওয়ার্ন রয়েছেন বিশেষভাবে। জাদুঘরে শেন ওয়ার্নের বিশেষ কীর্তি নিয়ে রয়েছে একটি ডকুমেন্টারি। ক্রিকেট গ্রাউন্ডের দেয়ালে ওয়ার্নের একাধিক ছবি ও ঐতিহাসিক মুহুর্ত রয়েছে।

অন্যান্য দেশকে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান ট্রাম্পের

এমসিজি টেস্ট ও ওয়ানডের আতুড়ঘর

প্রকাশিত : ০৩:২৪:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে প্রবেশের আগেই ইতিহাসের পসরা। কমপ্লেক্সের সামনেই ব্র্যাডম্যানসহ আরো কীর্তিমান ক্রিকেটার ও ক্রীড়াবিদদের ছবি। ক্রিকেট গ্রাউন্ডের অর্ভথ্যনা কক্ষে ভ্রমণপিপাসুর ভীড়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর মেলবোর্ন। প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক অনেক কিছুই আছে দেখার এই শহরে। এরপরও অনেক ভ্রমণ পিপাসু মানুষ মেলবোর্ন আসলে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) একটু ঢু দেবেনই।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিইও টুডের সঙ্গে আগেই যোগাযোগ করায় এই প্রতিবেদক ও তার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু আবু কাউসারের জন্য স্টেডিয়াম এবং জাদুঘরের দু’টি টিকিটের ব্যবস্থা ছিল। মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের কমিউনিকেশন কর্মকর্তা উইল শুরু থেকেই সঙ্গ দিয়েছেন। ১৮৭৭ সালে টেস্ট ও ১৯৭১ সালে ওয়ানডে দুই ফরম্যাটের ক্রিকেটের অভিষেকই এই ভেন্যুতে। মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব ও জাদুঘরে পরতে পরতে ইতিহাস ও ঐতিহ্য। চোখের পলকে দুই ঘন্টা কেটে গেল নিমিষেই।

প্রায় এক লাখ ধারণ ক্ষমতার স্টেডিয়াম মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান ভেন্যু হলেও এটি মূলত মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের কর্তৃত্ব। মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ক্লাবের সফর ও সৌজন্য বিনিময় হয়েছে। সেই সকল ক্লাবের ব্লেজার সংরক্ষিত রয়েছে ব্লেজার কর্ণারে।

১৮৭৭ সালে টেস্ট ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হলেও মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিষ্ঠা ১৮৩৮ সালে। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ক্লাবের ইতিহাসও রয়েছে বিশেষভাবে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সভাপতিদের নাম আছে একটি বিশেষ বোর্ডে। এই ক্লাবের ক্রিকেটার যারা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্ট খেলেছেন সেটার তালিকাও আছে। মেলবোর্ন ভিক্টোরিয়া রাজ্যের, সেই ভিক্টোরিয়ার হয়ে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটারদের লম্বা তালিকাও রয়েছে দেয়ালের বড় অংশ জুড়ে। মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের যারা সিনিয়র সদস্য (দুই যুগের বেশি) তারা সবচেয়ে ভালো আসনে বসে খেলা উপভোগ করতে পারেন।

সিডনির মতো মেলবোর্নও রয়েছে অনার্স বোর্ড। সিডনিতে টেস্ট ও ওয়ানডে উভয় থাকলেও মেলবোর্নে শুধু টেস্ট। ১৮৭৭ সালের অভিষেক টেস্ট থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ও সফরকারীদের মধ্যে যারা সেঞ্চুরি ও পাঁচ উইকেট পেয়েছেন তাদের নাম রয়েছেন খোদাই করে। এই ভেন্যুতে টেস্টে সফরকারী দলের একজন আর অস্ট্রেলিয়ান তিন জন হ্যাটট্রিক করেছেন।

মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে রয়েছে লাইব্রেরি। ক্রিকেটারদের লেখা আত্মজীবনী, ক্রিকেট নিয়ে নানা ইংরেজী বই রয়েছে এখানে। ক্রিকেট ছাড়াও অন্য খেলারও গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহ রয়েছে ক্রিকেটের আতুড়ঘরে। মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের যোগাযোগ কর্মকর্তা উইল জানান, ‘আগামী বছর টেস্ট ক্রিকেটের ১৫০ বছর পূর্তি। ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া সফর করবে এবং মেলবোর্নে টেস্ট ম্যাচ হবে। এজন্য মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এখন থেকেই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। ইতোমধ্যে টিকিটের চাহিদা অত্যন্ত তুঙ্গে।’

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের অন্যতম কিংবদন্তী শেন ওয়ার্ন। টেস্টে ৭০৮ উইকেটধারী এই বোলার থাইল্যান্ডে আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড ও জাদুঘরে শেন ওয়ার্ন রয়েছেন বিশেষভাবে। জাদুঘরে শেন ওয়ার্নের বিশেষ কীর্তি নিয়ে রয়েছে একটি ডকুমেন্টারি। ক্রিকেট গ্রাউন্ডের দেয়ালে ওয়ার্নের একাধিক ছবি ও ঐতিহাসিক মুহুর্ত রয়েছে।