মাত্র এক মাস আগে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে বন্দরনগরী মোখাসহ ইয়েমেনের উপকূলের বিশাল একটি অংশ দখল করেছিল হুথি বিদ্রোহীরা। তবে গত দুইদিনে মোখাসহ সেসব অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে তারা।
মধ্যপ্রাচ্য কৌশল এবং নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ তালহা আব্দুলরাজ্জাক মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে বলেছেন, ইয়েমেনের যে ভৌগলিক পরিবেশ রয়েছে, হুথিদের সাফল্যে পেতে এই পরিবেশ সাহায্য করেছে। তারা যেখান থেকে অভিযান শুরু করেছিল, সেটি একটি পাহাড়ি অঞ্চল। সেখানে তারা সহজে লুকিয়ে থাকতে পারে। এরপর তারা ওই পাহাড়ি অঞ্চল থেকে এসেছে উপকূলের মতো সমান জায়গায়।
কিন্তু শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া, প্রধান সমর্থক ও মিত্র ইরানের কাছ থেকে সহায়তা ছাড়া উপকূলের মতো মসৃণ অঞ্চল তাদের জন্য ধরে রাখা সহজ ছিল না। এখন ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী যেহেতু পাল্টা হামলা শুরু করেছে, তাই তাদের সেখান থেকে সরে যেতে হচ্ছে।
তালহা বলেন, “ওই এলাকার পুরো ভূ-প্রকৃতি, যেখান থেকে হুথিরা তাদের অভিযান শুরু করেছিল, সেটি অত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চল। এটি খুবই দুর্গম পরিবেশ। সেখানে তাদের নিজেদের চলাচল লুকিয়ে রাখার জন্য অনেক সুযোগ আছে। আর বিমান দিয়ে সেখানে হামলা চালানোও সহজ নয়।”
“যখন তারা উপকূলের দিকে গেছে, সেটি অত্যন্ত সমান জায়গা, যা সমুদ্র সৈকতের দিকে গেছে। এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশ। যখন আপনি ওই রকম পরিবেশে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে চান (দখল করে রাখতে চান), কিন্তু কোনো দুর্গ ছাড়া, বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা ছাড়া, কোনো ধরনের সহায়তা ছাড়া— উদাহরণস্বরূপ ইরানের কাছ থেকে কোনো সহায়তা ছাড়া, তাহলে আপনার জন্য ওই অঞ্চল দখল করে রাখা অনেক কঠিন।”
এই বিশেষজ্ঞ বলেছেন, এখনই বলা যাচ্ছে না সর্বশেষ লড়াইয়ে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী বিজয়ী হবে কি না। কিন্তু এখন যেসব ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, এতে দেখা যাচ্ছে ইয়েমেনি বাহিনী সফলতা পাচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















