ঢাকা ১২:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

গবেষণায় যবিপ্রবির বড় অর্জন, বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ১১ শিক্ষক-গবেষক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৯:০০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮ বার দেখা হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ারের (Elsevier) প্রকাশিত ২০২৬ সালের বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর (World’s Top 2% Scientists) তালিকায় স্থান পেয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ১১ জন শিক্ষক ও গবেষক। এ অর্জনের মধ্য দিয়ে দেশের বিশেষায়িত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যবিপ্রবি প্রথম এবং দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সামগ্রিকভাবে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

গবেষকদের গবেষণা কার্যক্রম, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা সূচক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বিশ্বব্যাপী প্রভাবশালী বিজ্ঞানীদের এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষকদের আন্তর্জাতিক অবদান ও গবেষণার প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়।

২০২৬ সালের তালিকায় যবিপ্রবি থেকে স্থান পাওয়া ১১ গবেষক হলেন—এনার্জি বিষয়ে আমিনুল ইসলাম ও ইমরান খান, ন্যানোসায়েন্স অ্যান্ড ন্যানোটেকনোলজি বিষয়ে মো. সাইফুল ইসলাম, অ্যানালিটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিষয়ে এম. জেড. এইচ. খান, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস বিষয়ে মো. মশিউর রহমান ও এম. আর. সাইবুর, অপটোইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ফোটোনিক্স বিষয়ে মো. বিপ্লব হোসেন ও মো. আমজাদ হোসেন, পলিমার্স বিষয়ে তরিকুল ইসলাম, মেডিসিনাল অ্যান্ড বায়োমলিকুলার কেমিস্ট্রি বিষয়ে পার্থ কুমার বিশ্বাস এবং অ্যাপ্লাইড ফিজিক্স বিষয়ে মোহাম্মদ তানভীর আহমেদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ আন্তর্জাতিক তালিকায় যবিপ্রবির গবেষকদের অবস্থান ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে। ২০২৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির ৯ জন গবেষক এ তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন। এর আগে ২০২৪ সালে ৩ জন, ২০২৩ সালে ৩ জন, ২০২২ সালে ৩ জন এবং ২০২১ সালে ৪ জন গবেষক তালিকাভুক্ত হন। ফলে ২০২৬ সালে একসঙ্গে ১১ জন শিক্ষক-গবেষকের স্থান পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমে অগ্রগতির একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছে যবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ।

এ অর্জন প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হাসান বলেন, এই স্বীকৃতি যবিপ্রবি পরিবারের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। গবেষণায় যে অগ্রগতির ধারা তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখতে নতুন প্রশাসন গুরুত্ব দেবে। শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে বরাদ্দকৃত অর্থের সুষম ও দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতেও প্রশাসন কাজ করবে বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, গবেষণায় যবিপ্রবির ধারাবাহিক সাফল্য আনন্দের বিষয়। এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে রিসার্চ সেলের মাধ্যমে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণা প্রকল্পেও বিভাগভিত্তিক অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও প্রকাশনায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান।

বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় যবিপ্রবির ১১ শিক্ষক-গবেষকের স্থান পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট গবেষকদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় উৎসাহিত করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তিন বছর পর গাজা – একটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার নীলনকশা

গবেষণায় যবিপ্রবির বড় অর্জন, বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ১১ শিক্ষক-গবেষক

প্রকাশিত : ০৯:০০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ারের (Elsevier) প্রকাশিত ২০২৬ সালের বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর (World’s Top 2% Scientists) তালিকায় স্থান পেয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ১১ জন শিক্ষক ও গবেষক। এ অর্জনের মধ্য দিয়ে দেশের বিশেষায়িত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যবিপ্রবি প্রথম এবং দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সামগ্রিকভাবে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

গবেষকদের গবেষণা কার্যক্রম, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা সূচক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বিশ্বব্যাপী প্রভাবশালী বিজ্ঞানীদের এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষকদের আন্তর্জাতিক অবদান ও গবেষণার প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়।

২০২৬ সালের তালিকায় যবিপ্রবি থেকে স্থান পাওয়া ১১ গবেষক হলেন—এনার্জি বিষয়ে আমিনুল ইসলাম ও ইমরান খান, ন্যানোসায়েন্স অ্যান্ড ন্যানোটেকনোলজি বিষয়ে মো. সাইফুল ইসলাম, অ্যানালিটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিষয়ে এম. জেড. এইচ. খান, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস বিষয়ে মো. মশিউর রহমান ও এম. আর. সাইবুর, অপটোইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ফোটোনিক্স বিষয়ে মো. বিপ্লব হোসেন ও মো. আমজাদ হোসেন, পলিমার্স বিষয়ে তরিকুল ইসলাম, মেডিসিনাল অ্যান্ড বায়োমলিকুলার কেমিস্ট্রি বিষয়ে পার্থ কুমার বিশ্বাস এবং অ্যাপ্লাইড ফিজিক্স বিষয়ে মোহাম্মদ তানভীর আহমেদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ আন্তর্জাতিক তালিকায় যবিপ্রবির গবেষকদের অবস্থান ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে। ২০২৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির ৯ জন গবেষক এ তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন। এর আগে ২০২৪ সালে ৩ জন, ২০২৩ সালে ৩ জন, ২০২২ সালে ৩ জন এবং ২০২১ সালে ৪ জন গবেষক তালিকাভুক্ত হন। ফলে ২০২৬ সালে একসঙ্গে ১১ জন শিক্ষক-গবেষকের স্থান পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমে অগ্রগতির একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছে যবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ।

এ অর্জন প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হাসান বলেন, এই স্বীকৃতি যবিপ্রবি পরিবারের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। গবেষণায় যে অগ্রগতির ধারা তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখতে নতুন প্রশাসন গুরুত্ব দেবে। শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে বরাদ্দকৃত অর্থের সুষম ও দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতেও প্রশাসন কাজ করবে বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, গবেষণায় যবিপ্রবির ধারাবাহিক সাফল্য আনন্দের বিষয়। এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে রিসার্চ সেলের মাধ্যমে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণা প্রকল্পেও বিভাগভিত্তিক অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও প্রকাশনায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান।

বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় যবিপ্রবির ১১ শিক্ষক-গবেষকের স্থান পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট গবেষকদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় উৎসাহিত করবে।