গাজীপুর প্রতিনিধিঃ প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার সুফল দেশের কৃষক, শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাকে সাধারণ মানুষের কাছে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করতে আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রোববার ১১ অক্টোবর গাজীপুরে অবস্থিত ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ইতিহাস স্মরণ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সালে সেনেগালের ডাকারে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে এই কারিগরি শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গাজীপুরে ৩০ একর জমি প্রদান করেন এবং ১৯৮১ সালের ২৭ মার্চ ইয়াসির আরাফাত ও ওআইসি মহাসচিব ড. হাবিব চ্যাটিকে সাথে নিয়ে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০০১-২০০৬ মেয়াদে প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তিনি এই সমাবর্তন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের বিষয়ে গ্র্যাজুয়েটদের সতর্ক করে তিনি বলেন, এআই দ্রুত উত্তর দিলেও তথ্যের সঠিকতা, প্রাসঙ্গিকতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানুষের সঠিক বিচারবোধ ও দায়িত্বশীলতা জরুরি। পাশাপাশি তিনি তরুণদের সততা, ন্যায়বিচার ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রেখে দেশের সেবা করার পরামর্শ দেন।
এবারের সমাবর্তনে ওআইসিভুক্ত ১৫টি দেশের ৩৩ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ মোট ৬৫৯ জন শিক্ষার্থীকে সনদ প্রদান করা হয়। এর মধ্যে স্নাতক পর্যায়ে ৬২৬ জন এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৩৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন (৪৮২ জন ছাত্র ও ১৭৭ জন ছাত্রী)।
একাডেমিক উৎকর্ষের জন্য অনুষ্ঠানে ৭ জন শিক্ষার্থীকে মর্যাদাপূর্ণ স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। এদের মধ্যে ওআইসি গোল্ড মেডেল সুমাইয়া আহমেদ রানী (সিএসই বিভাগ), আইইউটি গোল্ড মেডেল আশফাক সিরাজ শুভ (মেকানিক্যাল), মুহাম্মদ শাফায়াত জামিল (ট্রিপলই), খালিদ হাসান আদর (সফটওয়্যার), আদিবা জহিন (সিভিল), ফারহান লাবীব (বিজনেস টেকনোলজি) এবং তাসফিয়াহ মাহমুদ (আইপিই)।
অনুষদভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ১৫৫ জন শিক্ষার্থী ডিগ্রি লাভ করেছেন। এছাড়া ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক বিভাগ থেকে ১৪৯ জন, মেকানিক্যাল ও কেমিক্যাল থেকে ১৪৭ জন, সিভিল ও এনভায়রনমেন্টাল থেকে ১২৬ জন, বিজনেস টেকনোলজি থেকে ৫৭ জন এবং টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন বিভাগ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















