ঢাকা ০২:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

ফরিদপুরে পদ্মায় ভেসে গেলো সোয়া সাত কোটি টাকার সেতু, আতংকে দিন কাটছে চরবাসীর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১১:০০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর সদর উপজেলার কবিরপুর চরে পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে মাত্র পাঁচ বছর আগে সোয়া সাত কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত কবিরপুর সেতুটি। শুধু সেতুই নয়, একই সাথে নদীগর্ভে চলে গেছে একটি চরের অন্তত তিনটি বাজার ও কয়েকশ বাড়ীঘর এবং ফসলী জমি। ভাঙ্গণ ঠেকাতে না পারলে পুরো কবিরপুর চরই নদীতে হারিয়ে যেতে পারে বলে শংকা স্থানীয়দের। আর পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা বলছেন, আগামীতে টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ গত চার মাস ধরে ভাঙ্গছে পদ্মা নদীর ওই অংশ। এরই মধ্যে চার কিলোমিটার অভ্যন্তরে চলে এসেছে। এতে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে কবিরপুর সেতুর অপর প্রান্তের ছিলিমপুর চরের পুরোটাই। যেখানে অন্তত চারটি গ্রামের অর্ধশত বছর ধরে বসবাস করা মানুষের কয়েকশ বাড়ীঘর ও ফসলী জমিন ছাড়াও কমপক্ষে তিনটি বাজার নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, গত ৬/৭ দিন ধরে একটু একটু করে নদীতে বিলীন হচ্ছিলো কবিরপুর সেতুটি। শনিবার সেটি পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়ে। শুধু সেতু নয় অপরপ্রান্তের গ্রামগুলো ভাঙ্গনের কবলে পড়ায় পর এখর পাশের চরগুলোতে ভাঙ্গণ শুরু হওয়ায় ক্ষতিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। তারা মনে করেন, আগে থেকে সরকার ব্যবস্থা নিলে হাজারো মানুষকে ভিটেমাটি হারা হতে হতো না।

এদিকে তীব্র ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে কবিরপুর চরও। সহায় সম্পদ রক্ষায় অনেকেই আগেই সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন বাড়ী ঘরও। ভাঙ্গনের শংকায় দিন কাটাচ্ছেন ওই চরের হাজারো মানুষ। তাদরে দাবী, চরের মানুষের আর্তনাদ নদী পেরিয়ে সভ্য মানুষের কানে পৌঁছে না।

আর পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন জানান, ফরিদপুর ও মানিকগঞ্জ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত পদ্মার মূল চ্যানেলে ভাঙ্গণ তীব্র হওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। তবে তিনি জানান, আগামীতের টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করে সম্ভব হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ফরিদপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালে সাত কোটি ২৩ লাখ ৯৬ হাজার একশ ২২ টাকা ব্যায়ে জেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ৪০ মিটার লং পিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবের রাজধানীতে নতুন করে বিকট বিস্ফোরণ

ফরিদপুরে পদ্মায় ভেসে গেলো সোয়া সাত কোটি টাকার সেতু, আতংকে দিন কাটছে চরবাসীর

প্রকাশিত : ১১:০০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর সদর উপজেলার কবিরপুর চরে পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে মাত্র পাঁচ বছর আগে সোয়া সাত কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত কবিরপুর সেতুটি। শুধু সেতুই নয়, একই সাথে নদীগর্ভে চলে গেছে একটি চরের অন্তত তিনটি বাজার ও কয়েকশ বাড়ীঘর এবং ফসলী জমি। ভাঙ্গণ ঠেকাতে না পারলে পুরো কবিরপুর চরই নদীতে হারিয়ে যেতে পারে বলে শংকা স্থানীয়দের। আর পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা বলছেন, আগামীতে টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ গত চার মাস ধরে ভাঙ্গছে পদ্মা নদীর ওই অংশ। এরই মধ্যে চার কিলোমিটার অভ্যন্তরে চলে এসেছে। এতে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে কবিরপুর সেতুর অপর প্রান্তের ছিলিমপুর চরের পুরোটাই। যেখানে অন্তত চারটি গ্রামের অর্ধশত বছর ধরে বসবাস করা মানুষের কয়েকশ বাড়ীঘর ও ফসলী জমিন ছাড়াও কমপক্ষে তিনটি বাজার নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, গত ৬/৭ দিন ধরে একটু একটু করে নদীতে বিলীন হচ্ছিলো কবিরপুর সেতুটি। শনিবার সেটি পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়ে। শুধু সেতু নয় অপরপ্রান্তের গ্রামগুলো ভাঙ্গনের কবলে পড়ায় পর এখর পাশের চরগুলোতে ভাঙ্গণ শুরু হওয়ায় ক্ষতিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। তারা মনে করেন, আগে থেকে সরকার ব্যবস্থা নিলে হাজারো মানুষকে ভিটেমাটি হারা হতে হতো না।

এদিকে তীব্র ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে কবিরপুর চরও। সহায় সম্পদ রক্ষায় অনেকেই আগেই সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন বাড়ী ঘরও। ভাঙ্গনের শংকায় দিন কাটাচ্ছেন ওই চরের হাজারো মানুষ। তাদরে দাবী, চরের মানুষের আর্তনাদ নদী পেরিয়ে সভ্য মানুষের কানে পৌঁছে না।

আর পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন জানান, ফরিদপুর ও মানিকগঞ্জ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত পদ্মার মূল চ্যানেলে ভাঙ্গণ তীব্র হওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। তবে তিনি জানান, আগামীতের টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করে সম্ভব হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ফরিদপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালে সাত কোটি ২৩ লাখ ৯৬ হাজার একশ ২২ টাকা ব্যায়ে জেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ৪০ মিটার লং পিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণ করেন।