ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

সোমবার বন্দর শ্রমিকদের অনশন: দাবি এনসিটি ইজারা চুক্তি বাতিল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১১:০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৯ বার দেখা হয়েছে

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক আন্তর্জাতিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার চুক্তি বাতিলের দাবিতে অনশনে যাচ্ছেন বন্দর শ্রমিকরা। সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়ানস্টপ ভবনের সামনে এই কর্মসূচি পালন করবে সরকারদলীয় চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

বৃহস্পতিবার এনসিটি ১৫ বছরের জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দিতে কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ঢাকার ইনভেস্ট বাংলাদেশ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান এসা কাজিম চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি স্বাক্ষরের দিনই বন্দরে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারী শ্রমিকনেতারা। চুক্তি বাতিলের দাবিতে রোববার (১০ অক্টোবর) বিকেল পর্যন্ত সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন তারা। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার কোনো উদ্যোগ না আসায় সোমবার অনশন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

এর আগে এনসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে বন্দর শ্রমিক, রাজনীতিবিদ ও পেশাজীবীরা প্রতিবাদ সমাবেশ, মানববন্ধন, মশালমিছিল, গোলটেবিল বৈঠক ও পদযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে আপত্তি জানানো হলেও সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের দাবিতে সাড়া না দিয়ে চুক্তি চূড়ান্ত করেছে।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, রোববার বিকেল পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার কোনো ডাক আসেনি। তাই পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার বন্দরের ওয়ানস্টপ ভবনের সামনে অনশন কর্মসূচি চলবে।

পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, সোমবার সকাল থেকে অনশন কর্মসূচি পালন করা হবে। সেখান থেকেই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

গত সেপ্টেম্বর মাসে আন্দোলন আরও জোরালো হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর বন্দর রক্ষা কমিটি এনসিটি ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করে। ১৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ চার দফা দাবি জানিয়ে সরকারকে দুই দিনের সময়সীমা দেয়। এর মধ্যে ছিল এনসিটি ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম বন্ধ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার এবং বন্দরের শূন্যপদে নিয়োগের ব্যবস্থা করা। পরে ২২ সেপ্টেম্বর মানববন্ধন এবং ২৭ সেপ্টেম্বর পদযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় গত ১ অক্টোবর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এনসিটি ও এর অতিরিক্ত কনটেইনার ইয়ার্ড ইজারা দেওয়ার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দেয়। ৫ অক্টোবর বন্দর প্রশাসনিক ভবনের সামনে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। ওই কর্মসূচি থেকে এনসিটির পাশাপাশি সিসিটি ও জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধেরও দাবি জানানো হয়।

সবশেষে গত ৮ অক্টোবর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরের পর আন্দোলনকারীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। চুক্তি স্বাক্ষরের দিন বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ ও মিছিল করেন তারা। সরকারকে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিন দিনের সময়সীমা দিয়ে সোমবার অনশনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই সময়সীমার মধ্যে আলোচনার ডাক না আসায় এবার অনশন কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন শ্রমিকনেতারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

৮৩ বছর বয়সেও দাবায় সফল রাণী হামিদ

সোমবার বন্দর শ্রমিকদের অনশন: দাবি এনসিটি ইজারা চুক্তি বাতিল

প্রকাশিত : ১১:০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক আন্তর্জাতিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার চুক্তি বাতিলের দাবিতে অনশনে যাচ্ছেন বন্দর শ্রমিকরা। সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়ানস্টপ ভবনের সামনে এই কর্মসূচি পালন করবে সরকারদলীয় চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

বৃহস্পতিবার এনসিটি ১৫ বছরের জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দিতে কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ঢাকার ইনভেস্ট বাংলাদেশ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান এসা কাজিম চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি স্বাক্ষরের দিনই বন্দরে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারী শ্রমিকনেতারা। চুক্তি বাতিলের দাবিতে রোববার (১০ অক্টোবর) বিকেল পর্যন্ত সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন তারা। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার কোনো উদ্যোগ না আসায় সোমবার অনশন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

এর আগে এনসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে বন্দর শ্রমিক, রাজনীতিবিদ ও পেশাজীবীরা প্রতিবাদ সমাবেশ, মানববন্ধন, মশালমিছিল, গোলটেবিল বৈঠক ও পদযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে আপত্তি জানানো হলেও সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের দাবিতে সাড়া না দিয়ে চুক্তি চূড়ান্ত করেছে।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, রোববার বিকেল পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার কোনো ডাক আসেনি। তাই পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার বন্দরের ওয়ানস্টপ ভবনের সামনে অনশন কর্মসূচি চলবে।

পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, সোমবার সকাল থেকে অনশন কর্মসূচি পালন করা হবে। সেখান থেকেই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

গত সেপ্টেম্বর মাসে আন্দোলন আরও জোরালো হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর বন্দর রক্ষা কমিটি এনসিটি ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করে। ১৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ চার দফা দাবি জানিয়ে সরকারকে দুই দিনের সময়সীমা দেয়। এর মধ্যে ছিল এনসিটি ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম বন্ধ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার এবং বন্দরের শূন্যপদে নিয়োগের ব্যবস্থা করা। পরে ২২ সেপ্টেম্বর মানববন্ধন এবং ২৭ সেপ্টেম্বর পদযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় গত ১ অক্টোবর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এনসিটি ও এর অতিরিক্ত কনটেইনার ইয়ার্ড ইজারা দেওয়ার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দেয়। ৫ অক্টোবর বন্দর প্রশাসনিক ভবনের সামনে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। ওই কর্মসূচি থেকে এনসিটির পাশাপাশি সিসিটি ও জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধেরও দাবি জানানো হয়।

সবশেষে গত ৮ অক্টোবর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরের পর আন্দোলনকারীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। চুক্তি স্বাক্ষরের দিন বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ ও মিছিল করেন তারা। সরকারকে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিন দিনের সময়সীমা দিয়ে সোমবার অনশনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই সময়সীমার মধ্যে আলোচনার ডাক না আসায় এবার অনশন কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন শ্রমিকনেতারা।